Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ রাজ্য রাজনীতির আগামী সবচেয়ে বড় লড়াই (Abhishek Banerjee)। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই একমাসব্যাপী ‘আবার জিতবে বাংলা’ কর্মসূচির সূচনা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে প্রথম ‘রণসংকল্প সভা’র মাধ্যমে তিনি কার্যত ছাব্বিশের নির্বাচনী যুদ্ধের রণকৌশল প্রকাশ্যে আনলেন। এই সভা শুধু একটি রাজনৈতিক সমাবেশ নয়, বরং তৃণমূলের আগামী দিনের সংগঠনী শক্তি, কৌশল ও লক্ষ্য নির্ধারণের স্পষ্ট বার্তা।

কেন বারুইপুর থেকেই শুরু? (Abhishek Banerjee)
বারুইপুর দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল নিশ্চিত ও শক্ত এলাকা থেকেই কেন কর্মসূচির সূচনা? সভার মঞ্চ থেকেই সেই প্রশ্নের উত্তর দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “আমরা যখন কোনও শুভ কাজে যাই, বাবা-মায়ের আশীর্বাদ নিই। কালীঘাট আমার জন্মভূমি হলে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বারুইপুর আমার কর্মভূমি।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট, বারুইপুর শুধুই একটি রাজনৈতিক কেন্দ্র নয়, অভিষেকের রাজনৈতিক জীবনের আবেগী ভিত্তিও। সেই আবেগকেই পাথেয় করে তিনি ছাব্বিশের পথচলা শুরু করতে চাইলেন।

রণসংকল্প সভার আবহ (Abhishek Banerjee)
শুক্রবার দুপুরে বারুইপুরের সাগরসংঘ মাঠে আয়োজিত সভায় হাজির ছিলেন ডায়মন্ড হারবার, যাদবপুর ও সুন্দরবন সাংগঠনিক জেলার নেতা-কর্মীরা। মঞ্চে উঠেই হাঁটু গেড়ে বসে মাথা নত করে জনতাকে প্রণাম জানান অভিষেক। এই দৃশ্য সভাস্থলে এক আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করে। জনতার উচ্ছ্বাসে স্পষ্ট হয়ে ওঠে নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ও প্রত্যাশা দুটোই প্রবল।
মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছনোর কৌশল (Abhishek Banerjee)
বক্তব্যের শুরুতেই অভিষেক জানিয়ে দেন, গোটা মাস জুড়ে তিনি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরবেন। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR সংক্রান্ত কোনও সমস্যায় যাতে সাধারণ মানুষ না পড়েন, সে বিষয়ে তিনি কর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর বার্তা স্পষ্ট রাজনীতি মানে শুধু সভা-মিছিল নয়, প্রশাসনিক ও দৈনন্দিন সমস্যায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
ছাব্বিশের টার্গেট বেঁধে দিলেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)
বারুইপুরের মঞ্চ থেকেই কর্মীদের সামনে কড়া লক্ষ্য স্থির করে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ঘোষণা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩১টি বিধানসভা আসনের সবকটিতেই তৃণমূলকে জিততে হবে। শুধু জয় নয়, জয়ের ব্যবধানও হতে হবে উল্লেখযোগ্য কোনও আসনে যেন ৫০ হাজারের নিচে না নামে। এই ঘোষণায় স্পষ্ট, তৃণমূল এবার শুধু ক্ষমতা ধরে রাখাই নয়, বিরোধীদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে কোণঠাসা করতেও চাইছে।
আরও পড়ুন: Dilip Ghosh: ‘ঘরছাড়া’ দিলীপই কি ফের ছাব্বিশে বিজেপির তুরুপের তাস?
ভাঙড়—সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
গত বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল ভাঙড়, যেখানে জয় পেয়েছিল আইএসএফ। বাকি সব আসনেই জিতেছিল তৃণমূল। তাই ছাব্বিশে ‘একত্রিশে ৩১’ লক্ষ্য পূরণ করতে গেলে ভাঙড় পুনর্দখল করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অভিষেকের বক্তব্যে ইঙ্গিত স্পষ্ট এবার ভাঙড়েও তৃণমূলের পতাকা ওড়ানোই লক্ষ্য।



