Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতা হাইকোর্টে আবারও ধাক্কা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। চোখের চিকিৎসা করাতে বিদেশ যাত্রার অনুমতি দিল না হাইকোর্ট। বিদেশ যাত্রার আবেদনের মামলা খারিজ করে দিল হাইকোর্ট।
কী জানালেন বিচারপতি? (Abhishek Banerjee)
‘আগে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসা ও পরীক্ষা (Abhishek Banerjee) করান। তিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মেডিক্যাল বোর্ড পরীক্ষা করবেন। বৃহস্পতিবার দুপুর দুটোর মধ্যে মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকরা তাঁকে পরীক্ষা করে দেখবেন। পরশুদিন তথা শুক্রবার রিপোর্ট দেবে। তাঁরা যদি মনে করেন, কলকাতা কিংবা দেশের যে কোনও আই হসপিটাল বা বিদেশে চিকিৎসা হতে পারে, তাহলে কোনও সমস্যা নেই। তারপর আদালত বিবেচনা করে দেখবে’- সাফ জানিয়ে দিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য।
আদালতের প্রস্তাব নারাজ অভিষেকের আইনজীবী (Abhishek Banerjee)
আদালতের প্রস্তাব মানতে রাজি হননি (Abhishek Banerjee) অভিষেকের আইনজীবী। এসএসকেএম নয়, বিদেশে গিয়েই চিকিৎসা করাতে চান বলে জানান অভিষেকের আইনজীবী। বিপাকে পড়ে মামলা প্রত্যাহার করার আবেদন জানান অভিষেক। আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। সেইসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাত্রার অনুমতি চেয়ে আবেদনের মামলাও খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলা খারিজ (Abhishek Banerjee)
চোখের চিকিৎসা করাতে বিদেশে যাওয়ার আবেদন জানিয়ে (Abhishek Banerjee) করা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর এজলাসে মামলার শুনানিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী রেবেকা জন পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চান না অভিষেক। তিনি এসএসকেএম হাসপাতালে যাবেন না। তিনি বিদেশে গিয়েই চিকিৎসা করাতে চান।
এদিন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য আবারও তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসা ও পরীক্ষা করান। কিন্তু তাতে সায় নেই বলে জানিয়ে দেন অভিষেকের আইনজীবী। এদিন মামলার শুনানিতে অভিষেকের আইনজীবী রেবেকা জন বলেন, এর আগে তদন্তকারী সংস্থাকে সাত দিন আগে নোটিস দিয়ে গিয়েছেন তাঁর মক্কেল। কলকাতায় তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা রয়েছে। তাঁর মক্কেলের প্রতি গতিবিধি জানা যায়। সাংসদ হিসেবে যে কোনও দেশে যেতে পারেন তিনি।
আরও পড়ুন: Air India: ফের প্রশ্নের মুখে এয়ার ইন্ডিয়ার যাত্রী নিরাপত্তা!
অভিষেকের আইনজীবী, রেবেকা জন বিদেশে চিকিৎসার (Abhishek Banerjee) প্রয়োজনীয়তার কথা আদালতকে জানাতে গিয়ে বলেন, ‘অতীতে ইডির একটি মামলায় অভিষেককে বিদেশে যাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেই মামলা সুপ্রিম কোর্টে উঠেছিল। অভিষেকের চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাত্রায় তখন কোনও আপত্তি করেননি কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল।’ তখন রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতকে বলেন, সেই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযুক্ত ছিলেন না।
অভিষেকের আইনজীবী (Abhishek Banerjee) আরও বলেন, ‘সেই সময় তদন্তকারী সংস্থা আদালতকে জানিয়েছিল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশ যাত্রার ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা নেই। যখন তাঁর বিরুদ্ধে পিএমএলএ অ্যাক্টে আর্থিক তছরূপের অভিযোগ উঠেছিল তখন তাঁকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তদন্তকারী সংস্থাকে জানিয়েই চোখের চিকিৎসা করানোর জন্য অভিষেককে বিদেশ যাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মোট ১২ বার বিদেশে গিয়েছেন। অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত সরকারের প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়েও তিনি বিদেশে গিয়েছেন। প্রতিবারই তিনি বিদেশে গিয়ে নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরে এসেছেন। তাঁর পালিয়ে যাওয়ার কোনও আশঙ্কা নেই। এখানে তাঁর স্ত্রী এবং সন্তানরা রয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একজন সাংসদ। তাঁর কাছে কূটনৈতিক পাসপোর্ট রয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর সমস্ত গতিবিধি সহজেই নজরে রাখতে পারে। তাই তাঁকে বিদেশ যাত্রার অনুমতি দেওয়া হলে এই মামলায় অন্য কোনও পক্ষের কোনও অসুবিধা হবে না। তাছাড়া তিনি তদন্তে সব রকম ভাবে সাহায্য করছেন।’

তার জবাবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘বিধাননগর পুলিশ থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক আলাদা ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন আছে। একটা মামলা হলে আলাদা কথা ছিল। আপনি বিদেশে গেলে সেই মামলার শুনানি কি হবে? কিন্তু আদালত মনে করছে, কলকাতায় কিংবা রাজ্যের বাইরে গিয়েও চিকিৎসা করার ক্ষেত্রে অসুবিধা নেই।’
আরও পড়ুন: Rocket Crash on Moon: চাঁদে আঘাত হানতে চলেছে Falcon 9-এর অংশ
বিচারপতি ভট্টাচার্য্য পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, ‘অভিষেকের চিকিৎসা হওয়া অবশ্যই জরুরি। কিন্তু যদি সেই চিকিৎসা কলকাতায় বা ভারতের অন্য কোনও জায়গায় সম্ভব হয়, তা হলে বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। দেশের মধ্যেই উপযুক্ত চিকিৎসা করানো উচিত। চিকিৎসা বিদেশে হবে কি না, সেটি মূল বিষয় নয়। আসল বিষয় হল, তিনি যেন যথাযথ চিকিৎসা পান—সেটা নিশ্চিত করা।বিদেশ কিংবা দেশ আজকের দিনে চিকিৎসাক্ষেত্রে কোনও সমস্যা নেই। অপথ্যালমোলজি-এর চিকিৎসা এসএসকেএম-এ যথেষ্ট ভালো হয়। আমি কলকাতার অন্যতম প্রধান সরকারি হাসপাতাল এসএসকেএম-এর চক্ষু বিভাগকে একটি তিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেব। ওই বোর্ড আগামীকাল তথা বৃহস্পতিবার দুপুর ২টোয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরীক্ষা করবে এবং শুক্রবার একটি রিপোর্ট জমা দেবে। তাঁরা যদি মনে করে, কলকাতা কিংবা দেশের যে কোনও আই হসপিটাল বা দেশের বাইরে চিকিৎসা হতে পারে, তাহলে কোনও সমস্যা নেই।’ কিন্তু তাতেও রাজি হননি অভিষেকের আইনজীবী। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, অভিষেক এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করাবেন না।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যও অভিষেকের প্রাথমিকভাবে এসএসকেএম-এ চিকিৎসার নির্দেশে অনড় থাকেন। বিপাকে পড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মামলা প্রত্যাহার করার আবেদন জানান। সেই আবেদনও বিচারপতি খারিজ করে দেন। সেইসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাত্রার আবেদন করে দায়ের করা মামলাটিও খারিজ করে দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য।


