Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইস্টবেঙ্গল টিম নিয়ে যখন জর্ডনে এএফসি খেলতে গিয়েছিল তখনই শহরে এসেছিলেন আকে লোবা (Aké Arnaud Loba)। এরপর ইস্টবেঙ্গল ফিরে অনুশীলন শুরু করে দিয়েছে কিন্তু আকে লোবার দেখা মেলেনি। তাহলে তিনি কোথায়? এই প্রশ্নই ঘুরছে সমর্থকদের মনে। বেশ কয়েকদিন ধরেই শহরে রয়েছেন আকে লোবা। কিন্তু অনুশীলনে আসছেন না। তাহলে কি ফের চোটের আশঙ্কা? তাই তাকে নিয়ে কি ফের চিন্তায় লাল হলুদ ব্রিগেড!
কী করছেন লোবা? (Aké Arnaud Loba)
চোট সারিয়ে লাল হলুদে সই করেছেন লোবা। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর মেডিকেল ফিটনেস পরীক্ষা করা হচ্ছে। কিন্তু তিনি পুরোপুরি ফিট না হওয়ায় অনুশীলন করতে পারছেন না। এখন প্রতিদিন তিনি জিম করছেন। জিমের মাধ্যমেই তাঁকে ফিট করে তোলার চেষ্টা করছে লাল হলুদ ম্যানেজমেন্ট। ইতিমধ্যেই তাঁর কার্ডিও চেক আপ এবং আসল যেখানে তাঁর চোট ছিল তা পরীক্ষা করা হয়ে গিয়েছে। সেরকম কোনও গুরুতর চোট নাকি পাওয়া যায়নি।
পুরোনো চোটে ভুগছেন (Aké Arnaud Loba)
আকে লোবার একটি পুরোনো চোট রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর মাসাতলান এফসিতে খেলার সময় তিনি পায়ে মারাত্মক আঘাত পান। তার ফিবুলা অর্থাৎ পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ার কারণে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল এবং তিনি প্রায় ৮০ দিন মাঠের বাইরে ছিলেন। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে তার পায়ে আরেকটি বড় অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। এর জন্য তাকে প্রায় ৮১ দিন মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছিল।
২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি এই চোট সারিয়ে মাঠে ফেরেন। ২০২২ সালের জুলাই মাসে ন্যাশভিল এসসিতে খেলার সময় তিনি শরীরের ওপরের অংশে বা ট্রাঙ্কে আঘাত পান। এই চোটের কারণে তিনি টানা ৯টি ম্যাচ মিস করেন এবং প্রায় দুই মাস দলের বাইরে ছিলেন। তাছাড়া ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে তিনি কুঁচকির পেশির ব্যথায় ভুগেছিলেন, যদিও তার জন্য তাঁকে মাত্র ৫ দিন বাইরে থাকতে হয়েছিল। এই সব চোটের কথা মাথায় রেখেই তাঁকে নিয়ে কোনও ভাবে ঝুঁকি নিচ্ছে না ইস্টবেঙ্গল। এখন দেখার কবে তিনি ফিট হয়ে লাল হলুদ অনুশীলনে যোগ দেন।
লোবার নজরকাড়া কেরিয়ার (Aké Arnaud Loba)
তিনি নিজের দেশ আইভরি কোস্টের ক্লাব ‘SOA’-এর হয়ে কেরিয়ার শুরু করেন (Aké Arnaud Loba)। এরপর ২০১৮ সালে পেরুর ক্লাব দেপোর্তিভো সান মার্টিনে খেলতে যান, যেখানে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সবার নজর কাড়ে। ২০১৯ সালে তিনি মেক্সিকোর ক্লাব কুয়েরেতারোতে যোগ দিয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেন। যা দেখে মেক্সিকোর অন্যতম শক্তিশালী ক্লাব সিএফ মন্টেরে২০২০ সালে তাঁকে সই করায়। মন্টেরের হয়ে তিনি ২০২০-২১ মরসুমে কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস লিগএবং ২০১৯-২০ মরসুমে মেক্সিকান কাপ জয় করেন, যা তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য।
আরও পড়ুন: BCCI SPONSOR: বিসিসিআইয়ের নতুন টাইটেল স্পনসর কে?
বর্তমানে আমেরিকার যে মেজর লিগ সকার মাতিয়ে রেখেছেন লিওনেল মেসি সেখানেও খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে আকে লোবার। ২০২১ সালে রেকর্ড ট্রান্সফার ফির বিনিময়ে এমএলএসের ক্লাব ন্যাশভিল এসসিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানেও তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। ন্যাশভিলের পর তিনি পুনরায় মেক্সিকোর মাজাতলান ও ক্লাব টিজুয়ানাতে খেলেন। ইস্টবেঙ্গলে আসার ঠিক আগে তিনি লিবিয়ার ক্লাব ‘আল শোমুয়া এসসি’-তে সংক্ষিপ্ত সময় কাটিয়েছেন। আকে লোবা আন্তর্জাতিক স্তরে নিজের দেশ আইভরি কোস্টের অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১৭ সালে আইভরি কোস্টের জাতীয় সিনিয়র দলের হয়েও তার অভিষেক হয়। তার গতি, ড্রিবলিং দক্ষতা এবং গোল করার ক্ষমতার কারণে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের আক্রমণভাগের বড় ভরসা উঠতে পারেন।



