Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তরবঙ্গ সফর শেষ করে শনিবার রাতেই কলকাতায় পৌঁছেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। রবিবার তাঁর দিনভর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহল থেকে রাজনৈতিক অঙ্গন সব ক্ষেত্রেই বাড়তি নজর তৈরি হয়েছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, জাতীয় গ্রন্থাগারে নতুন সংগ্রহশালার উদ্বোধন এবং দুগ্ধ শিল্পের উন্নয়নে অমূল বেঙ্গল ডেয়ারির নতুন প্রকল্পের শিলান্যাস—সব মিলিয়ে ব্যস্ত কর্মসূচিতে ভরপুর তাঁর কলকাতা সফর। এই সফরকে ঘিরে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আলিপুর, জাতীয় গ্রন্থাগার এলাকা, রাজারহাট এবং বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার সংলগ্ন অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক (Amit Shah)
রবিবার সকাল প্রায় ১১টা থেকে আলিপুরের ‘সৌজন্যে’ গেস্ট হাউসে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকটি দুপুর প্রায় ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত চলার কথা। সূত্রের খবর, রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সাম্প্রতিক অপরাধমূলক ঘটনা, সীমান্ত নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক বিষয় এই বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশাসনের শীর্ষস্তরের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন করা হবে বলেই জানা গিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
জাতীয় গ্রন্থাগারে ‘শব্দ জাদুঘর’-এর উদ্বোধন (Amit Shah)
দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অমিত শাহের পরবর্তী কর্মসূচি আলিপুরের জাতীয় গ্রন্থাগারে। সেখানে নবনির্মিত ‘শব্দ জাদুঘর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি। এই সংগ্রহশালার মূল উদ্দেশ্য দেশের বিভিন্ন ভাষার ইতিহাস, সাহিত্য, শব্দচর্চা এবং ভাষাগত ঐতিহ্যকে এক ছাদের নিচে সংরক্ষণ ও তুলে ধরা। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে নির্মিত এই জাদুঘরে ভাষার বিবর্তন, প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, বিভিন্ন ভাষার শব্দভাণ্ডার এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির নানা দিক দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা হবে। ভাষা ও সংস্কৃতির সংরক্ষণে এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অমূল বেঙ্গল ডেয়ারির প্রকল্পের শিলান্যাস
বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত রাজারহাটের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে রয়েছে সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কর্মসূচি।সেখান থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে অমূল বেঙ্গল ডেয়ারির নতুন দই উৎপাদন কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের দুগ্ধ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুগ্ধ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত কৃষক, গবাদি পশুপালক এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য নতুন বাজার ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই উৎপাদন কেন্দ্র ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গের দুগ্ধ শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
নিরাপত্তার বলয়ে কলকাতা (Amit Shah)
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে কলকাতা জুড়ে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিটি কর্মসূচি ঘিরে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। আলিপুর, জাতীয় গ্রন্থাগার, রাজারহাট এবং বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার-সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিপুল সংখ্যক কলকাতা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, বিশেষ শাখার আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে গাড়ি তল্লাশি, নজরদারি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ এবং যান চলাচলে বিশেষ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ভিআইপি চলাচলের সময় নির্দিষ্ট কিছু রাস্তায় সাময়িক যান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে নিরাপত্তা ও কর্মসূচির সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করা যায়।
আরও পড়ুন: Sensex Nifty: ভারতীয় শেয়ার বাজারে জোয়ার, বিশ্ববাজারের ধাক্কা সামলাল সেনসেক্স-নিফটি

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সফর
অমিত শাহের এই কলকাতা সফর শুধুমাত্র প্রশাসনিক বৈঠকেই সীমাবদ্ধ নয়; একই সঙ্গে এটি সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা, অন্যদিকে ভাষা-সংস্কৃতির সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগ এবং দুগ্ধ শিল্পে বিনিয়োগ এই তিনটি ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করেই রবিবারের কর্মসূচি সাজানো হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের পাশাপাশি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরাও এই সফরের দিকে বিশেষ নজর রাখছেন। কারণ, সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন ইস্যুতেও এই সফরের প্রভাব নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।



