Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভোটে জেতার পর থেকেই অনিল কাপুরের “নায়ক” সিনেমার মত জোর কদমে কাজ হচ্ছে। আগামী দিনেও তা হবে এটাই সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করছেন (Annapurna Bhandar)। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে সোমবারের রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে অন্যতম হিসেবে সামনে এল সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করার ঘোষণা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষ, সরকারি কর্মচারী, মহিলা যাত্রী, প্রবীণ নাগরিক এবং ওবিসি সংরক্ষণ সব মিলিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভায়। বৈঠক শেষে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল এই সিদ্ধান্তগুলির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। এই ঘোষণাগুলিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের একাংশ যেমন আশাবাদী, তেমনই বিরোধী মহল রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।

সপ্তম পে কমিশনে সিলমোহর (Annapurna Bhandar)
সবচেয়ে বেশি চর্চিত সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন গঠন। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের সরকারি কর্মীরা কেন্দ্রীয় হারে বেতন কাঠামো সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে সেই দাবির দিকেই বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনার জন্য সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন গঠন করা হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে বেতন বৃদ্ধি, গ্রেড পে পরিবর্তন, অবসরকালীন সুবিধা এবং অন্যান্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্যভাবে, ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে এই বৈঠকে কোনও আলোচনা হয়নি। ফলে সরকারি কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে এখনও কিছুটা সংশয় রয়ে গেছে।
‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প (Annapurna Bhandar)
মন্ত্রিসভার আরেকটি বড় ঘোষণা হল ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালু করা। আগামী ১ জুন থেকে এই প্রকল্প কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের দাবি, যাঁরা ইতিমধ্যেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন, তাঁদের নতুন করে আবেদন করতে হবে না। তাঁদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে স্থানান্তরিত হবে। অর্থ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। এছাড়াও যাঁরা এখনও কোনও সরকারি ভাতা পাচ্ছেন না, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন। খুব শীঘ্রই নতুন পোর্টাল চালু করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যাঁরা সিএএ বা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তাঁরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

অন্নপূর্ণা যোজনা কী? (Annapurna Bhandar)
‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ মূলত ভারত সরকারের একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, যা ২০০০ সালের ১ এপ্রিল চালু হয়েছিল। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল দরিদ্র ও অসহায় প্রবীণ নাগরিকদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই প্রকল্পের আওতায় সাধারণত ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী এমন প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি মাসে ১০ কেজি করে চাল বা গম বিনামূল্যে দেওয়া হয়, যাঁরা কোনও সরকারি পেনশন প্রকল্পের সুবিধা পান না। বিশেষত জাতীয় বার্ধক্য পেনশন প্রকল্পের জন্য যোগ্য হলেও যাঁরা বাস্তবে পেনশন পাচ্ছেন না, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই প্রকল্প চালু করা হয়েছিল।রাজ্য সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে এই প্রকল্প কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ মানুষ।
মহিলাদের জন্য বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত (Annapurna Bhandar)
আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যের মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত চালু করার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রতিদিন কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য প্রয়োজনে যাতায়াত করা লক্ষ লক্ষ মহিলা সরাসরি উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের উপর আর্থিক চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে সরকারি বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে কি না, সেই বিষয়ে এদিন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে সরকার।

পুরোহিত ও ইমাম ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত (Annapurna Bhandar)
সবচেয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে অন্যতম হল ধর্মীয় ভিত্তিতে দেওয়া সহায়তামূলক প্রকল্প বন্ধ করার ঘোষণা। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য অনুযায়ী, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধীন ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে দেওয়া বিভিন্ন ভাতা ও সহায়তামূলক প্রকল্প আগামী মাস থেকে বন্ধ করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ পুরোহিত ভাতা, ইমাম ভাতা সহ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলি এই মাস পর্যন্ত চলবে, তারপর তা বন্ধ হয়ে যাবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি পরে প্রকাশ করা হবে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ওবিসি তালিকা নিয়ে বড় পদক্ষেপ
ওবিসি সংরক্ষণ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। রাজ্য সরকারের চাকরি ও সরকারি পদে ওবিসি সংরক্ষণের হার, তালিকা পুনর্বিবেচনা এবং উপশ্রেণিবিভাগ বাতিলের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন করে তদন্ত বা এনকোয়ারি হবে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যেসব গোষ্ঠীকে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, সেই বিষয়েও সরকার নতুন সিদ্ধান্ত নেবে। এর ফলে ভবিষ্যতে রাজ্যের সংরক্ষণ নীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্ষার আগে ড্রেনেজ সংস্কারে জোর
বর্ষাকালকে সামনে রেখে রাজ্যের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে মন্ত্রিসভায়। প্রতি বছর ভারী বৃষ্টিতে কলকাতা ও বিভিন্ন জেলায় জল জমার সমস্যা দেখা দেয়। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

আরও পড়ুন: Derby 2026: আইএসএল ভাগ্য নির্ধারণের ডার্বি! উন্মাদনায় ফুটছে বাংলা
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব
এই মন্ত্রিসভার বৈঠক শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম পে কমিশনের ঘোষণা, অন্যদিকে ধর্মীয় ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত দুটি পদক্ষেপই স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত। একইসঙ্গে মহিলা ভোটব্যাঙ্ক, প্রবীণ নাগরিক এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির উপরও বিশেষ গুরুত্ব দিতে দেখা যাচ্ছে সরকারকে। আগামী দিনে এই সিদ্ধান্তগুলি কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং তার রাজনৈতিক প্রভাব কতটা পড়ে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্যবাসীর।



