Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মেসির রেকর্ডের রাতে কেপ ভার্দের রূপকথার বিশ্বকাপ যাত্রার অবসান। ম্যাচ হারলেও মন জিতে নিয়েছে কেপ ভার্দে (Argentina)।
মেসির রেকর্ড, কেপ ভার্দের রূপকথা (Argentina)
ছোট থেকে বড়, আজও সবার কাছে সমানভাবে সমাদৃত রূপকথার গল্প। সেখানে রাজা থেকে রাজ্যপাট সবটাই আছে। শেষে রাজপুত্র আর রাজকন্যার মিল আছে। ব্যঙ্গমা ব্যঙ্গমির ডাক আছে। সেই রূপকথার অবসান হল বিশ্বকাপের মঞ্চে তবে সেটা কতটা মধুরেণ সমাপয়েৎ হল বিচার করা কঠিন। কারণ সেটার বিচার শ্রেষ্ঠ বিচারক সময়ের হাতে। কেপ ভার্দের রূপকথার দৌড় থামল মেসির আর্জেন্টিনার সামনে (Argentina)।
আগামীর জন্য রাস্তা তৈরি হয় বর্তমান থেকে আর ভবিষ্যতে সেই রাস্তা প্রশস্ত হলে আজকের বর্তমানকে সোনালী অতীত বলে উল্লেখ করা আর সেই সোনালী রূপকথার জন্ম হল ২০২৬ বিশ্বকাপে। কেপ ভার্দের এই বিশ্বকাপ জার্নি চিরকাল মনে থেকে যাবে। বিশ্বকাপের শুরু থেকে আফ্রিকার এই পাঁচ লাখের জনসংখ্যার দেশের সাহস লড়াই বিশ্ব ফুটবলে লিখে রাখল এক অনন্য বীরগাঁথা হিসেবে।
এর আগেও গ্যালারিতে উড়ল পোস্টার, যেখানে লেখা রইল স্মল আইল্যান্ড, বিগ ড্রিমস, নেভার গিভ আপ। সেই বার্তাই তাঁরা মাঠে করে দেখাল। ভোজিনহা ও তাঁর সতীর্থরা মাঠে প্রাণ পাত করল। ম্যাচ থেকে পিছিয়ে থেকেও এক মহাকাব্যিক ম্যাথ লিখে রাখল কেপ ভার্দে। একদিকে যখন মেসি তখন একদিকে প্রাচীর ভোজিনহা। চীনের প্রাচীর শুনেছি কিন্তু সেটাই দেখা গেল বিশ্বকাপের মঞ্চে। সেই প্রাচীরের নাম ভোজিনহা (Argentina)।

একদিকে লিওনেল মেসি, অন্যদিকে ভোজিনহা। একজন ৩৯। আরেকজন চল্লিশের ছটফটে কিশোর। গোটা ফুটবলবিশ্ব অপেক্ষা করছিল মেসি বনাম ভোজিনহার লড়াই দেখার জন্য। আর সেই লড়াই যখন থামল তখন মন জয় করে নিয়েছেন ভোজিনহা। সেখানে কী এটা ছিল ব্যক্তিগত লড়াই? একদিকে সবাই যখন ভাবছে পাল্লা ভারী সেখানে পিছিয়ে থেকেও দুরন্ত প্রত্যাবর্তন। ভোজিনহার দক্ষতার কাছে বারবার থামতে হয়েছেন মেসিকে। এমনকি মেসির বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি-কিকও হাত ছুঁইয়ে আটকে দিলেন ভোজিনহা (Argentina)।

কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। সেই ট্র্যাজিক হিরো হয়েই থেকে গেলেন ভোজিনহা। এই ম্যাচের চিত্রনাট্যয় ফুটবল দেবতা লিখে রেখেছিলেন অন্য কিছু। সেখানে খাতায় কলমে অনামী বা লাইমলাইটে না দলগুলি বারবার পরাস্ত হচ্ছে বড় বা নামী দলের কাছে এবং স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে ফিরতে হচ্ছে দেশে। এই ম্যাচেও এর অন্যথা হল না (Argentina)।

র্জেন্টিনাকেও জয় নিশ্চিত করতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১২০ মিনিট পর্যন্ত। কেপ ভার্দের এই লড়াই বিস্মিত করেছে মেসিকে। চিন্তায় ফেলেছে স্কালোনিকে। আর্জেন্টিনার সমর্থকরা তখন দাঁত দিয়ে নখ কাটছেন চিন্তায়। রেফারির শেষ বেশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে যেন স্বস্তি পেল আর্জেন্টিনার শিবির এবং সমর্থকরা (Argentina)।
ম্যাচের ছবি
শুরু থেকেই প্রায় সমানে সমানে লড়াই চালাচ্ছিল দুই দল। কিন্তু ওই যে আর্জেন্টিনা দলের শ্রেষ্ঠ জাদুকরের নাম মেসি। তিনিই ত্রাতা, সেই মেসির গোলেই এগিয়ে যায় নীল সাদা শিবির। মার্টিনেজের লম্বা ভাসানো বলকে বাঁ পায়ে অবিশ্বাস্যভাবে বশ মানিয়ে কেপ ভার্দের জালে জড়ান এলএম ১০। তার আগে পর্যন্ত কেপ ভার্দে প্রায় নিখুঁত ফুটবলই খেলছিল। কিন্তু মেসি বিপরীতে থাকলে নিখুঁত বলে কিছু নেই। একদিকে চীনের প্রাচীর আর বিপরীতে মেসি (Argentina)।

টানটান জয়ের রাতে ব্যক্তিগত নজিরের খাতায়ও নতুন অধ্যায় লিখলেন লিওনেল মেসি। এই ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপে তাঁর ৩০ নম্বর ম্যাচ। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে যা কোনও ফুটবলারের সর্বোচ্চ ম্যাচ। এই পৃথিবী প্রথম দেখল একজন মানুষ বিশ্বকাপে ২০টা গোল করতে পারেন। হ্যাঁ ২০টা! বিশ্বকাপে টানা আট ম্যাচে গোল। অবিশ্বাস্য। অতিমানবীয় বললেও কম বলা হয় এই কৃতিত্বকে। নেটিজেনরা মজা করে লিখতে শুরু করেছেন যে মেসি অন্য গ্রহের থেকে আসা একজন।
তবুও এদিন কেপ ভার্দের ছায়াই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে ধরা রইল। ভোজিনহার গ্লাভস জোড়ায় ফুটে উঠছিল নির্ভরতার ভাষা, কাবরালের অবিশ্বাস্য গোল, কেপ ভার্দের লড়াই, লড়াই আর লড়াই দেখার পরে জনপ্রিয় সংলাপ মনে পরে যেতে বাধ্য, ‘ফাইট কোনি, ফাইট।’ মেসির গোলে এগিয়ে রইল আরজেন্টিনা কিন্তু বিরতির পর ৫৯ মিনিটে সমতা ফেরাল কেপ ভার্দে।
রায়ান মেন্দেস বল বাড়ান দুয়ার্তেকে। আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের নজর এড়িয়ে ফাঁকা জায়গায় বল পান তিনি। দুয়ার্তের সামনে তখন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। যাঁর লম্বা বল থেকে মেসি গোল করেছিলেন। সেই মার্টিনেজ ভুল করে বসলেন। শট মারার জন্য জায়গা পেয়ে গেলেন দুয়ার্তে। দুয়ার্তের শট লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যায়। গোলকিপার এমি মার্টিনেজ শরীর ছুড়ে দিয়েও আটকাতে পারেননি (Argentina)।
এক্সট্রা টাইমে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ২-১ করে এগিয়ে দেন আর্জেন্টিনাকে। নীল-সাদা ঢেউ ওঠে গ্যালারিতে। অনেকেই হয়তো জয়ের গন্ধ পেতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু এরপরেও আরও কিছু বাকি ছিল। কেপ ভার্দে বিশ্বাস হারায়নি। বারবার যে কোন ছোট দলের ক্ষেত্রে দেখা গেছে এক গোল খাওয়ার পর আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলতে কিন্তু সেখানে কেপ ভার্দে আরো দ্বিগুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে আক্রমণ শুরু করল। কাবরালের রামধনুর মতো বাঁক খাওয়ানো শট আর্জেন্টিনার জালে জড়িয়ে গেল। স্কোরবোর্ড দেখাচ্ছে ২-২।
১১১ মিনিটে তৃতীয় বারের জন্য এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা। মেসির কর্নার থেকে রোমেরো। আর্জেন্টাইন তারকার হেড কেপ ভার্দের বোর্হেসের হাতে লেগে জালে জড়ালো। আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেল ৩-২-এ। এরপরেও যেন স্বস্তি নেই, কে জিতবে এই লড়াইয়ে সেটা যেন অনিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার জয় হলেও কোটি কোটি মানুষের মন জয় করে নিল কেপ ভার্দে। কথায় আছে, ‘exception is never an example’ কিন্তু কেপ ভার্দে ব্যতিক্রমী ফুটবল কেবললেও উদাহরণ হয়েই থাকবে। এক জেদের নাম, সাহসের নাম, স্বপ্নের নাম কেপ ভার্দে। বিখ্যাত গানের লাইন, ‘শুধু তোমাকেই তোমাকেই স্যালুট করবে তারা দিনরাত’ আজ শুধু কেপ ভার্দের নামে (Argentina)।


