Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সূত্রের খবর অনুযায়ী ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড শীঘ্রই টেস্টে ভারতীয় দলের খারাপ হাল নিয়ে পর্যালোচনা করবে, যেখানে গম্ভীর ও প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকরকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে (Gautam Gambhir)।
গম্ভীরের উপর অসন্তুষ্ট বোর্ড (Gautam Gambhir)
সূত্রের খবর অনুযায়ী ভারতীয় দলের হেড স্যার গম্ভীরের উপর বেজায় চটেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তাঁর মন্তব্যে একেবারেই সন্তুষ্ট হয় BCCI। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বিশ্রী ভাবে হারতে হয়েছে ভারতীয় দলকে। দুই ম্যাচেই দেখা গিয়েছে ভারতের ব্যাটিং বিপর্যয়। তারপর থেকেই প্রশ্নের মুখে গম্ভীরের সিদ্ধান্ত এবং তাঁর করা মন্তব্য। প্রসঙ্গত ইডেনে প্রথম ম্যাচে ভারতের লজ্জাজনক হারের পর পিচ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় আর সেই নিয়েই গম্ভীরের মন্তব্যে খুশি নয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (Gautam Gambhir)।
ইডেনে প্রোটিয়াদের স্পিনারদের বিরুদ্ধে নিমেষে ভেঙে পরে ভারতের ব্যাটিং শিবির। তবে প্রথম ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে থেকেই চর্চায় ছিল ইডেন পিচ। কিন্তু খেলা যত এগোতে থাকে পিচ নিয়ে চর্চা ততই যেন জায়গা করে নেয় সমর্থকদের মধ্যে। সমালোচকরাও মুখ খুলতে থাকে সেই পিচ নিয়ে। এহেন অবস্থায় গম্ভীরের মন্তব্য মোটেও ভাল নজরে নেয়নি BCCI তবে বিকল্পের অভাবে এক্ষুণি গম্ভীরকে তাঁর দায়িত্ব থেকে সরানো হচ্ছে না বলেই জানা যাচ্ছে। তবে বছরের শেষ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ঘরের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারত খারাপ পারফর্ম করলে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে ভারতীয় ক্রিকেট দলের হেড স্যারকে।

জানা যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অসন্তোষের মূল কারণ হল ইডেন গার্ডেন্সের কালো মাটির পিচকে গম্ভীরের প্রকাশ্যে সমর্থন। যে পিচ নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে সেই পিচকে ভারতীয় দলের কোচের এই প্রকাশ্যে দরাজ সার্টিফিকেট দেওয়াকে ভাল ভাবে নেয়নি BCCI, ইডেনে চতুর্থ ইনিংসে মাত্র ৯৩ রানে অলআউট হয়ে ৩০ রানে ম্যাচ হেরে যায় টিম ইন্ডিয়া। আর গম্ভীর দাবি করেন, পিচ ঠিক সেই রকমই ছিল, যেটি দল চেয়েছিল। এর পর অবশ্য গুয়াহাটিতেও ভালো ব্যাটিং পিচে মুখ থুবড়ে পড়ে ভারত (Gautam Gambhir)।

ইডেন পিচ নিয়ে গম্ভীর অকপটে বলেছিলেন, ‘এটাই সেই পিচ যা আমরা চেয়েছিলাম। কিউরেটর খুবই সহায়ক ছিলেন। আমরা যা চেয়েছিলাম, ঠিক সেই মতোই পিচ পেয়েছি। ভাল খেলতে না পারলে, তখন এটাই ঘটে।’ তিনি তাঁর বক্তব্যে আরও যোগ করেন, ‘হ্যাঁ, হয়তো এই উইকেটে বড় বড় শট খেলা সম্ভব নয়। কিন্তু যদি মাথা নিচু করে খেলতে চাও, রান করা সম্ভব। এই উইকেটে ভয়ঙ্কর কিছু ছিল না। এটি খেলার অযোগ্য উইকেট ছিল না। বরং এখানে তোমার টেকনিক, মানসিক দৃঢ়তা এবং সবচেয়ে বড় কথা, তোমার মেজাজ পরীক্ষা হয়। আসল বিষয় হলো, টার্ন কীভাবে খেলতে হয়, সেটা জানা। আমরা যা চেয়েছিলাম, তাই পেয়েছি (Gautam Gambhir)।’
এই মন্তব্যে BCCI-র ভিতরে অস্বস্তির সৃষ্টি হয়। কলকাতার কালো মাটির পিচ এবং গুয়াহাটির লাল মাটির পিচ, দুই জায়গাতেই ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হন, যা দলের প্রস্তুতি এবং কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
আরও পড়ুন: IND Russia Defence Deal: ভারতের আকাশরক্ষা আরও শক্তিশালী, ৩০০ নতুন মিসাইল কেনায় সবুজ সংকেত!
বোর্ড শীঘ্রই টেস্টে ভারতীয় দলের খারাপ হাল নিয়ে পর্যালোচনা করবে বলে জানা যাচ্ছে। যেখানে গম্ভীর ও প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকরকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে হঠাৎ কোনও বড় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেই বলেই সূত্রের খবর। ‘স্প্লিট কোচিং’-এর ধারণাকে আপাতত বাস্তব বলে মনে করা হচ্ছে না। বিকল্প প্রার্থীর সংখ্যাও সীমিত। তবুও বিষয়টি এখানেই শেষ হচ্ছে তা নয়। এক বোর্ড কর্মকর্তা ইঙ্গিত দেন, ‘হোয়াইট-বল মরশুমের পর গভীরে আলোচনা হবে।’ অর্থাৎ ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের পারফরম্যান্সই গম্ভীরের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান ঠিক করতে পারে। ঘরের মাঠে ব্যর্থতা নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা ফের জাগিয়ে তুলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে (Gautam Gambhir)।


