Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র প্রদান এবং পুরোনো নথি ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে একাধিক গুরুতর অনিয়ম, ভুয়ো শংসাপত্র এবং জাল ডিজিটাল রেকর্ডের সন্ধান পাওয়ার পর বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার (Birth Certificate)। নবান্নে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের মুখ্যসচিব শ্রী মনোজ পন্থ ঘোষণা করেন, এবার থেকে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র জারির ক্ষেত্রে কোনো জনপ্রতিনিধি, যেমন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, পুরসভার চেয়ারম্যান বা মেয়র—আর কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন না। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ নথি জারি করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে শুধুমাত্র স্থায়ী সরকারি আধিকারিকদের হাতে। রাজ্য সরকারের মতে, এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে এবং ভবিষ্যতে ভুয়ো নথি তৈরির প্রবণতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর দ্রুত কার্যকর হবে নতুন নিয়ম
মুখ্যসচিব জানান, রাজ্য মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত নতুন নিয়মে অনুমোদন দিয়েছে। আগামী দু’-এক দিনের মধ্যেই সরকারি নির্দেশিকা জারি করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত দপ্তরে তা কার্যকর হবে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র প্রদান ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো নথি জারির ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং বেআইনি কার্যকলাপ রোধ করা।
যাচাই অভিযানে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য (Birth Certificate)
নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যসচিবের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, তথ্য ও সংস্কৃতি সচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশের পুলিশ কমিশনার। মুখ্যসচিব জানান, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র দপ্তর, সিআইডি এবং রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে একাধিক জেলায় ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র এবং জাল ডিজিটাল রেকর্ডের তথ্য সামনে আসে। এরপর নমুনা ভিত্তিক বিশেষ যাচাই অভিযান চালানো হয়। এই তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা প্রশাসনের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিলম্বিত জন্ম শংসাপত্রে বিপুল অনিয়ম (Birth Certificate)
বিলম্বিত জন্ম নিবন্ধনের জন্য পরীক্ষা করা হয় মোট ৪৬,৯৯৮টি আবেদন। তার মধ্যে ১১,৩৯০টি শংসাপত্র ভুয়ো অথবা বেআইনি বলে প্রমাণিত হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ২৫ শতাংশ আবেদনেই অনিয়ম ধরা পড়েছে।
ডিজিটাল রেকর্ডেও মিলল অসংগতি (Birth Certificate)
রাজ্যের পুরোনো রেকর্ড ডিজিটালাইজ করার সময় ১১.২৪ লক্ষ আবেদন পরীক্ষা করা হয়। তার মধ্যে প্রায় ১.৮০ লক্ষ রেকর্ড ভুয়ো অথবা অসংগতিপূর্ণ পাওয়া গেছে, যা মোট আবেদনের প্রায় ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ। সরকারের মতে, এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করছে যে দীর্ঘদিন ধরে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র ব্যবস্থায় গুরুতর দুর্বলতা ছিল, যার সুযোগ নিয়েই ভুয়ো নথি তৈরির চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছিল।
সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম
মুখ্যসচিব বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুর এই সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতেই ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র এবং অসংগতিপূর্ণ রেকর্ডের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। সরকারের মতে, এই তথ্য প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জন্ম শংসাপত্র শুধু পরিচয়পত্র নয়, ভবিষ্যতে নাগরিকত্ব, শিক্ষা, সরকারি পরিষেবা, পাসপোর্ট, ভোটার তালিকা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি তৈরির অন্যতম ভিত্তি।

আরো পড়ুন: NEET paper leak: নিট কেলেঙ্কারির বিস্ফোরক কাহিনি এবার ওটিটিতে
কেন বদলানো হলো পুরনো ব্যবস্থা? (Birth Certificate)
১৯৬৯ সালের Registration of Births and Deaths Act অনুযায়ী রাজ্য সরকার নিজস্ব নিয়ম প্রণয়নের ক্ষমতা রাখে। পরবর্তীকালে ১৯৯৭ এবং ২০০০ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান, পুরসভার চেয়ারম্যান এবং মেয়রদের সাব-রেজিস্ট্রারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার বলছে, জনপ্রতিনিধিরা সরকারি কর্মচারী নন এবং তাঁরা সরকারি সার্ভিস রুল বা আচরণবিধির আওতায় পড়েন না। ফলে অনিয়ম ঘটলেও প্রশাসনিকভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে একই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো না। সেই কারণেই এবার পুরো ব্যবস্থাকে সরকারি আধিকারিকদের অধীনে নিয়ে আসা হচ্ছে।



