Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকের খতিয়ান সামনে আসার পর থেকেই যেন শেয়ার বাজারে প্রবল বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে দেশের বৃহত্তম বেসরকারি HDFC Bank-এর ওপর। ফলাফল প্রকাশের পর থেকে টানা চার দিনের ট্রেডিং সেশনেও পতন থামল না এই ব্যাঙ্কের শেয়ারে। বৃহস্পতিবার বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে এক পর্যায়ে শেয়ারটি ₹৭৫৩-এর আশেপাশে নেমে আসে। সব মিলিয়ে, ফলাফল ঘোষণার এই অল্প ক’দিনেই লগ্নিকারীদের কপালে ভাঁজ ফেলে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত দরপতন হয়েছে এই হেভিওয়েট স্টকের।
আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ব্রোকারেজ সংস্থার মতামত (HDFC BANK)
তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই লাগাতার দরপতন নিয়ে উৎকণ্ঠা তৈরি হলেও, একেবারে উলটো সুর শোনা যাচ্ছে দেশের প্রথমসারির ব্রোকারেজ ও ফান্ড ম্যানেজারদের গলায়। পতনকে সাময়িক হোঁচট হিসেবেই দেখছেন তারা। বরং এই মন্দার বাজারেও ব্যাংকটির শেয়ার নিয়ে প্রবল আশাবাদী একাধিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ব্রোকারেজ সংস্থা। তাদের দূরদর্শী বিশ্লেষণ বলছে, বর্তমান এই আকর্ষণীয় স্তর থেকে আগামী দিনে স্টকটি থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বড় রিটার্ন পাওয়ার দুর্দান্ত সুযোগ রয়েছে!
চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে HDFC Bank-এর স্ট্যান্ডঅ্যালোন বা একক নিট মুনাফা গত বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছে গিয়েছে ১৯,০৬০ কোটি টাকায়। গত অর্থবর্ষের একই সময়ে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ১৮,১৫৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি, ব্যাঙ্কের মূল আয়ের উৎস অর্থাৎ নেট ইন্টারেস্ট ইনকাম বা NII ৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩৩,৫৩৪ কোটি টাকা, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ৩১,৪৩৮ কোটি টাকা।
যদিও নিট ইন্টারেস্ট মার্জিন বা NIM নিয়ে কিছুটা হতাশা রয়েছে। নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন (NIM) ৩.২৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা মার্জিনের ওপর চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাশাপাশি, খুচরো ঋণ বৃদ্ধির গতি প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা নরম থাকলেও SME ও কর্পোরেট ঋণ বিভাগ ভালো পারফর্ম করেছে। এসআইই এবং কর্পোরেট সেগমেন্টের হাত ধরে ব্যবসার চাকা বেশ ভালোভাবেই সচল রয়েছে।
কোন ব্রোকারেজ কী লক্ষ্যমাত্রা দিচ্ছে? (HDFC BANK)
আন্তর্জাতিক ব্রোকারেজ হাউস জেফেরিজ HDFC Bank-এর ওপর তাদের আস্থা অটুট রেখে ‘Buy’ রেটিং বজায় রেখেছে। তাদের দেওয়া টার্গেট প্রাইস বা লক্ষ্যমাত্রা হলো ১,০৫০ টাকা, যা বর্তমান বাজারমূল্যের তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ পর্যন্ত আপসাইড বা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। জেফেরিজেরর মতে, ত্রৈমাসিকের ফল মোটামুটি বাজারের প্রত্যাশা অনুযায়ীই হয়েছে। NII সামান্য কমলেও, কম অপারেটিং খরচ এবং সুনিয়ন্ত্রিত ক্রেডিট কস্ট সেই ঘাটতি ঢেকে দিয়েছে।
দেশীয় ব্রোকারেজ সংস্থা মতিলাল অসওয়ালও স্টকটিতে ‘Buy’ রেটিং বজায় রেখে ১,০৫০ টাকা লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। তাদের অভিমত, স্বাস্থ্যকর ব্যবসায়িক বৃদ্ধি এবং কম প্রভিশনের কারণেই ব্যাঙ্কটি কঠিন সময়েও এমন শক্তিশালী পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পেরেছে।

পাশাপাশি, বিশ্বখ্যাত সংস্থা নোমুরা এই ব্যাঙ্কের শেয়ারে ‘Buy’ রেটিং দিয়ে ৯৫০ টাকা টার্গেট প্রাইস নির্ধারণ করেছে, যা বর্তমান স্তর থেকে প্রায় ২৬ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। তুলনামূলক রক্ষণাত্মক পথে হেঁটে জেএম ফিনানশিয়াল সংস্থাটি ‘Add’ রেটিং বজায় রেখে টার্গেট প্রাইস রেখেছে ৯০০ টাকা, যা বর্তমান দামের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। (HDFC BANK)
আরো পড়ুন: Share Bazar: শেয়ার বাজারে দারুণ উত্থান, সেনসেক্স-নিফটির জোড়া লাফে চাঙ্গা বিনিয়োগকারীরা
বাজারের বিশেষজ্ঞদের বড় অংশের মতে, স্বল্পমেয়াদি এই পতন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ বা ডিপে কেনার দারুণ সময় হতে পারে। এখন দেখার, বাজারে এই শ্লথগতি কাটিয়ে কবে ঘুরে দাঁড়ায় দেশের ব্যাঙ্কিং খাতের এই মুকুটহীন সম্রাট।



