Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অবশেষে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় সাম্বা বাহিনী। সোমবার জাপানের বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ২-১ গোলে জিতল তারা (Brazil vs Japan)।
টানটান ম্যাচে জয় ব্রাজিলের (Brazil vs Japan)
বিশ্বকাপের অন্যতম উত্তেজক ম্যাচগুলির মধ্যে অন্যতম ম্যাচ ছিল ব্রাজিলের বিরুদ্ধে জাপানের ম্যাচ। একদিকে ব্রাজিলের শৈল্পিক ফুটবল আর অন্যদিকে গতির শ্রেষ্ঠ প্রকাশ। ব্রাজিলের নান্দনিক ফুটবলের বিরুদ্ধে গতিময় ব্রিগেড। কে জিতবে এই নিয়ে অনেক তর্ক ছিল ম্যাচ শুরুর আগে তবে অবশেষে শেষ হাসি হাসে সাম্বা বাহিনী। তবে জাপান যে ফুটবল উপহার দিল সেই লড়াকু ফুটবল অবশ্যই প্রশংসা যোগ্য। ম্যাচ না জিতলেও মন জয় করা ফুটবল খেলেছে জাপান।
এই ম্যাচের পর মোটেও খুশি হবে না ব্রাজিল এবং তাঁদের দলের সমর্থকরা। ম্যাচটি জিতেছে ঠিকই। কিন্তু কঠিন দলের সামনে পড়লে যে ব্রাজিলের সমস্যা হতে পারে সেটা এই ম্যাচে বুঝিয়ে দিয়েছে জাপান। সূর্যোদয়ের দেশ আরও এক বার শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে বিদায় নিল। এর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের কাছে এ ভাবেই শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে তারা বিদায় নিয়েছিল।
এই মুহূর্তে ম্যাচ হারা মানে বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায়। আবার পরের বারের স্বপ্ন দেখা। তাও আবার চলতি বিশ্বকাপে দুরন্ত ফুটবল খেলা প্রতিপক্ষ জাপান। তবুও সামুরাই ব্লু-দের বিরুদ্ধে সবাইকে চমকে দিয়ে প্রথম একাদশে নেইমারকে রাখেনইনি আনেসেলত্তি। আগে থেকেই জল্পনা ছিল যে কৌশলে বড় কোনও চমক দিতে পারেন সাম্বা বাহিনীর হেড মাস্টার তবে যে সেটা এমন হবে, এটা বোধহয় কেউই ভাবেননি।
শুরু থেকেই মাঝ মাঠের দখল নিয়ে, বল পজিশন নিজেদের দখলে রেখে দাপটের সঙ্গে শুরু করে ব্রাজিল। কিন্তু কড়া জাপানি পাহারায় বারবার আটকে যাচ্ছিলেন ব্রাজিল আক্রমণের প্রাণভোমরা ভেনিসিয়াস। কিন্তু ২৯ মিনিটে ক্যাসেমিরোর ভুল পাসে মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে গিয়ে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো গড়ানে শটে গোল করে জাপানকে এগিয়ে দেন সানো। ব্রাজিলীয় গোলরক্ষক অ্যালিসনের কিছুই করার ছিল না। খেলার বিপরীতে গোল করে হাউস্টন স্টেডিয়ামের সিংহভাগ দখল নেওয়া ব্রাজিলীয় সমর্থকদের হতবাক করে দেয় জাপান। গোল খেয়ে খোঁচা খাওয়া বাঘের মতো আক্রমণে ঝড় তোলে ব্রাজিল। হাজার চেষ্টা করেও প্রথমার্ধে আর গোলের দরজা খুলতে পারিনি ব্রাজিল। এক গোলে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় পুরো সময়টাই খেলা হলো জাপানের বক্সকে কেন্দ্র করে। অদ্ভুতভাবে গুটিয়ে গেল গোটা জাপান দলটা। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে অন্য ব্রাজিলকে দেখল গোটা বিশ্ব। আর তাতেই তছনছ হয়ে গেল জাপানের সমস্ত জারিজুরি। আক্রমণে ওঠা তো দূরের কথা, জাপানের ১১ জন ফুটবলারই ব্যস্ত রইলেন দুর্গ সামলাতে। কিন্তু ব্রাজিল যেভাবে চেপে ধরেছিল, তাতে বেশিক্ষণ দুর্গ আগলে রাখা সম্ভব হয়নি জাপানিদের। ৫৩ মিনিটে গ্যাব্রিয়েলের ক্রস থেকে ক্যাসেমিরোর হেড গোল লাইন সেভ করেন জাপানি ডিফেন্ডার। কিন্তু, ৫৬ মিনিটে শাপমোচন করে দুরন্ত হেডে গোল করে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান অভিজ্ঞ ক্যাসেমিরো।
আরও পড়ুন: Vaibhav Sooryavanshi: বৈভবের সুযোগ না পাওয়া নিয়ে মুখ খুললেন ভারতীয় কোচ
গোল শোধের পর ব্রাজিলকে আর দেখে কে! জাপানিদের গোটা মাঠেই আর খুঁজে পাওয়া গেল না। মুহুর্মুহু আক্রমণ আছড়ে পড়ল জাপানের গোলে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই দ্বিতীয় গোলটাও প্রায় পেয়ে গিয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু ভেনিসিয়াসের নিখুঁত প্লেসিং বারে লেগে প্রতিহত হয়ে বেরিয়ে আসে।
সময় যত কমে আসছিল, মনে হচ্ছিল গোল শোধ করতে এবার হয়তো কোচ আনসেলত্তি দলের সেরা অস্ত্র নেইমারকে নামাবেন। কিন্তু তা তিনি করেননি। সবাই ধরে নিয়েছিল ম্যাচ গড়াতে চলেছে এক্সট্রা টাইমে। কিন্তু ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের অন্তিম মুহূর্তে (৯৪ মিনিটে) সুপার সাব মার্টিনেল্লি গোল করে ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নিশ্চিত করে দেন। জাপানের বক্সের ভিতরে ডান দিকে ড্যানিলো বল পেয়ে পাস বাড়ান এন্ড্রিককে। তিনি পাস দেন ব্রুনো গিমারায়েসকে। গিমারায়েসের নিখুঁত পাস যায় মার্তিনেল্লির কাছে। ফাঁকায় বল পেয়ে নিখুঁত প্লেসিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। খেলার ফলাফল সেখানেই নির্ধারিত হয়ে যায়। ২০১৮ বিশ্বকাপেও বেলজিয়ামের কাছে এ ভাবেই শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে বিদায় নিয়েছিল জাপান।
কেন ব্রাজিল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন তা আরও একবার বুঝিয়ে দিল। গোল খাওয়ার পরে এদিন ব্রাজিল যে ফুটবলটা খেলল, তাতে বলতে কোনও দ্বিধা নেই, এবারের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার তারাও। শৈল্পিক ফুটবলেই জয় তুলে নিল ব্রাজিল। তবে জাপানের লড়াইকেও কুর্নিশ জানাতে হয়। মন জয় করে নিয়েছে তারাও। গতিতে ব্রাজিলকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করলেও দুরন্ত লড়াই করেও অভিজ্ঞতার কাছে শেষ মুহূর্তে হার মানলো জাপান।
এদিন হারলেও ব্রাজিলের একাধিক দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেল জাপান। গত তিন ম্যাচে চার গোল করে, এবং করিয়ে ভিনিসিয়াস উতরে দিয়েছেন। কিন্তু তাঁকে আটকে দিলে ব্রাজিলের গোল পেতে সমস্যা হচ্ছে। সেই দুর্বলতা জেনে গিয়েছিল জাপান। তাই প্রথম থেকেই তাঁকে বোতল বন্দি করে রাখার চেষ্টা করা হল। সব সময়ই তাঁর পিছনে ধাওয়া করতে দেখা গেল দু’জন জাপানি ফুটবলারকে। তাই খুব বেশি কিছু করার সুযোগ পেলেন না ভিনি। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রতিপক্ষরাও এই স্ট্রাটিজি নিলে, গোলের দরজা কে খুলবে, তা দিয়ে ভাবতে হবে ব্রাজিলকে। কোচ আনসেলত্তির স্ট্র্যাটেজি নিয়েও উঠছে প্রশ্ন! কেন প্রথম থেকে রায়ান? কেন প্রথম একাদশে থাকবেন না এন্ড্রিক, মার্টিনেল্লি, লুই এনরিকে? জাপান ম্যাচ জয়ের পর প্রশ্ন আরও আছে! নেইমার কি তাহলে পুরো ফিট নন এখনও! রাফিনহা কি চোটমুক্ত হয়ে শেষ আটের লড়াইয়ে মাঠে নামতে পারবেন?? ব্রাজিল শিবিরের অলিন্দে ঘুরপাক খাওয়া এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখন খুঁজতে হবে কোচ আনসেলত্তিকে।


