Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাত বাড়লেও ঘুম নেই। পড়াশোনার বদলে মোবাইলের পর্দায় চোখ আটকে থাকছে বহু স্কুল পড়ুয়ার (Suvendu Adhikari)। কখনও অনলাইন গেম, কখনও রিল, আবার কখনও সোশ্যাল মিডিয়া—মোবাইলের প্রতি এই আসক্তি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যেও। শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে এই বিষয়টিই সামনে এনে পড়ুয়াদের মোবাইল ব্যবহারে লাগাম টানার ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
রাত দেড়টা-দুটো পর্যন্ত ফোনে নজর! (Suvendu Adhikari)
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে পড়ুয়াদের রাত জাগার বিষয়টিও। তাঁর দাবি, অনেক ছাত্রছাত্রী রাত দেড়টা বা দুটো পর্যন্ত মোবাইল ব্যবহার করে। বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়ার পর আড়ালে গিয়ে ফের ফোন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাও রয়েছে। এর ফলে ঘুমের সময় কমছে, পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে এবং পড়ুয়াদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
‘কঠিন সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার ইঙ্গিত (Suvendu Adhikari)
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি সেই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিকভাবে ভোট কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও পিছিয়ে যাবেন না—এমনই বার্তা তাঁর বক্তব্যে। ফলে স্কুলপড়ুয়াদের হাতে মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশাসনিকভাবে কোনও নতুন বিধিনিষেধ আসতে পারে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
গুজরাট মডেলের প্রসঙ্গ কেন?
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে গুজরাটের উদাহরণ টেনে আনেন। সেখানে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করেন তিনি। শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে এমন সামাজিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত প্রকাশ করেন।
তাহলে কি বন্ধ হবে ট্যাব প্রকল্প? (Suvendu Adhikari)
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আর একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—পড়ুয়াদের জন্য চালু থাকা ট্যাব সংক্রান্ত আর্থিক সহায়তা কি বন্ধ হতে চলেছে? কোভিড পর্বে অনলাইন শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে আগের সরকার একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের ট্যাব কেনার জন্য ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। তবে মোবাইল আসক্তি নিয়ে সরকারের নতুন অবস্থানের সঙ্গে সেই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কীভাবে যুক্ত হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

পড়ুয়াদের পাল্টা যুক্তিও রয়েছে (Suvendu Adhikari)
তবে সম্পূর্ণভাবে মোবাইল নিষিদ্ধ করা হলে সমস্যার অন্য দিকও রয়েছে। বর্তমানে স্কুলের নোটিশ, পড়াশোনার বিভিন্ন উপকরণ, টিউশনের ক্লাস সংক্রান্ত তথ্য—অনেক কিছুই ফোনের মাধ্যমে দেওয়া হয়। ফলে দশম, একাদশ বা দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের একাংশের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় শিক্ষামূলক কাজে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ থাকা জরুরি।
অভিভাবকদের একাংশের সমর্থন
অন্যদিকে, অনেক অভিভাবকই মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে নিজেরাই সমস্যার কথা স্বীকার করছেন। পড়তে বসার অছিলায় ফোন হাতে নিয়ে গেম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। আবার অভিভাবকরাও সারাক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করলে সন্তানরা সেটিই অনুসরণ করে—এমন বাস্তবতাও উঠে এসেছে। ফলে শুধু পড়ুয়াদের নয়, গোটা পরিবারের ডিজিটাল অভ্যাস নিয়েই ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

আরও পড়ুন: Annapurna Yojana Helpline: অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে অভিযোগ? চালু হেল্পলাইন নম্বর
প্রযুক্তি নয়, নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারই কি সমাধান?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-নির্ভর ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে প্রযুক্তি থেকে পড়ুয়াদের সম্পূর্ণ দূরে রাখা সম্ভব নয়। বরং প্রযুক্তিকে কীভাবে শিক্ষার কাজে ব্যবহার করা যায়, সেটিই বড় প্রশ্ন। প্যারেন্টাল কন্ট্রোল, বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ এবং নির্দিষ্ট সময়ের স্ক্রিন ব্যবহারের মতো ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই চালু রয়েছে। তাই মোবাইল পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা, নাকি নিয়ন্ত্রিত ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা—আগামী দিনে সরকারের নীতির কেন্দ্রে কোন পথ থাকবে, এখন সেটাই দেখার।



