Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ফেলে দেওয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলায় অবশেষে মিলল বড় সাফল্য (Chandranath Rath)। দীর্ঘদিন ধরেই আত্মগোপন করে থাকা এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত তথা ‘মাস্টারমাইন্ড’ রাজকুমার সিংকে গ্রেফতার করল সিবিআই এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশের যৌথ দল। সোমবার উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগরের ছপার টোল প্লাজা এলাকা থেকে তাকে পাকড়াও করা হয়। এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে নতুন করে জোরদার হয়েছে তদন্ত। তদন্তকারীদের মতে, রাজকুমার সিংয়ের গ্রেফতার এই বহুচর্চিত মামলার রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে।
গোপন সূত্রে মিলেছিল বড় তথ্য (Chandranath Rath)
তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন ধরেই রাজকুমার সিংয়ের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। চন্দ্রনাথ রথ হত্যার পর থেকেই সে বারবার নিজের অবস্থান বদল করছিল এবং এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। সম্প্রতি গোয়েন্দাদের কাছে খবর আসে যে, অভিযুক্ত উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে আত্মগোপন করে রয়েছে এবং সেখান থেকে একটি গাড়িতে চেপে দিল্লির দিকে পালানোর পরিকল্পনা করেছে। এই তথ্য হাতে পেয়েই সক্রিয় হয়ে ওঠে দিল্লি সিবিআই-এর বিশেষ দল। অভিযানের পরিকল্পনা করা হয় অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে। উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগর পুলিশের সহায়তায় জাতীয় সড়ক ৫৮-এর ওপর অবস্থিত ছপার টোল প্লাজার কাছে নজরদারি বসানো হয়।
পালানোর সুযোগই পেল না অভিযুক্ত (Chandranath Rath)
সোমবার সকালে টোল প্লাজা পার হওয়ার সময় সন্দেহভাজন গাড়িটিকে চিহ্নিত করেন আধিকারিকরা। মুহূর্তের মধ্যেই চারদিক থেকে গাড়িটিকে ঘিরে ফেলে সিবিআই এবং পুলিশ। আচমকা এই অভিযানে হতচকিত হয়ে পড়ে রাজকুমার সিং। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, পালানোর চেষ্টা করার আগেই তাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফেলা হয়। অত্যন্ত দ্রুত এবং পরিকল্পিতভাবে এই অভিযান চালানো হয়েছিল বলেই অভিযুক্তকে বিনা বাধায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। ধৃত রাজকুমার সিং আদতে উত্তরপ্রদেশের বলিয়া জেলার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরেই সে অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান।
মধ্যমগ্রামের হত্যাকাণ্ড ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য (Chandranath Rath)
চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনাটি ঘটেছিল মধ্যমগ্রামে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ফলে এই হত্যাকাণ্ড সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন শুরু হয়। রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঠিক আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এটি কি শুধুই ব্যক্তিগত শত্রুতার ফল, নাকি এর পেছনে বৃহত্তর রাজনৈতিক বা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র রয়েছে সেই জল্পনাই তীব্র হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করেই পরবর্তীতে তদন্তভার রাজ্য পুলিশের হাত থেকে নিয়ে দিল্লি সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

দিল্লিতে গোপন আস্তানার পরিকল্পনা (Chandranath Rath)
তদন্তকারীদের দাবি, হরিদ্বারে কিছুদিন লুকিয়ে থাকার পর রাজকুমার সিং দিল্লির কোনও গোপন আস্তানায় আশ্রয় নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। সম্ভবত সেখান থেকে নতুন পরিচয়ে দীর্ঘ সময় গা-ঢাকা দেওয়ার ছক কষা হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই গোয়েন্দাদের নজরে আসে তার গতিবিধি। মোবাইল লোকেশন, সূত্র মারফত পাওয়া তথ্য এবং আন্তঃরাজ্য সমন্বয়ের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত তার অবস্থান নির্দিষ্ট করা সম্ভব হয় বলে জানা যাচ্ছে।
এবার সামনে আসতে পারে বড় চক্রের নাম (Chandranath Rath)
রাজকুমার সিংকে গ্রেফতারের পর এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল তা জানা। তদন্তকারীরা মনে করছেন, শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির পরিকল্পনায় এত বড় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়নি। এর পেছনে আরও বড় কোনো চক্র বা প্রভাবশালী যোগসূত্র থাকতে পারে। সিবিআই সূত্রে খবর, ধৃতকে প্রথমে স্থানীয় আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। এরপর বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: Derby 2026: আইএসএল ভাগ্য নির্ধারণের ডার্বি! উন্মাদনায় ফুটছে বাংলা
রাজনৈতিক মহলে নতুন চাপানউতোর
এই গ্রেফতারের পর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে নতুন করে চাপানউতোর। বিরোধীরা যেমন দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত সত্য সামনে আনার দাবি তুলেছে, তেমনই শাসক শিবিরও কঠোর তদন্তের পক্ষে সওয়াল করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলা শুধু একটি খুনের তদন্ত নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, ক্ষমতার পালাবদল এবং প্রশাসনিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বড় প্রশ্নও।



