Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: আজকের শিশুদের শৈশব আর আগের মতো মাঠে দৌড়ঝাঁপে ভরা নয় (Heart Attack)। অনলাইন ক্লাস, ভিডিও গেমস, সোশ্যাল মিডিয়া—সব মিলিয়ে বেশিরভাগ সময়ই কাটছে স্মার্টফোন, ট্যাব বা ল্যাপটপের সামনে। জার্নাল অব দ্য হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ক্যাপাবিলিটিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৩ বছর বয়সের আগে স্মার্টফোন ব্যবহার শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করছে। নিজের সময় বাঁচাতে শিশুদের হাতে ফোন তুলে দিচ্ছেন? জানেন এতে কি হয়? জেনে নিন…
১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহারের সঙ্গে আত্মহত্যার চিন্তা, আবেগ নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা, মূল্যবোধহীনতা এবং বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। নতুন গবেষণা বলছে, এই অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমই শৈশবেই বীজ বপন করছে হার্টের মারাত্মক অসুখের।

গবেষণায় কি জানানো হয়েছে (Heart Attack)
গবেষণায় অংশ নেয় ১,০০০-এরও বেশি শিশু ও কিশোর-কিশোরী। তাদের দুই সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ করা হয় অ্যাক্সিলোমিটার ডিভাইসের মাধ্যমে, যাতে ঘুম ও শারীরিক কার্যকলাপের সঠিক পরিমাপ হয়। মা-বাবার কাছ থেকে নেওয়া হয় শিশুদের দৈনিক স্ক্রিন টাইমের তথ্য।
কার্ডিওমেটাবলিক ঝুঁকি নির্ধারণে ব্যবহৃত হয় ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সূচক—
- কোমরের মাপ
- সিস্টোলিক রক্তচাপ
- ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা (HDL)
- ট্রাইগ্লিসারাইড
- রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা
গবেষণার ফলাফল কি বেরিয়েছে
- ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রতিটি অতিরিক্ত ঘন্টা স্ক্রিন টাইমে কার্ডিওমেটাবলিক ঝুঁকি ০.০৮ পয়েন্ট বেড়ে যায়।
- কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে ক্ষতির মাত্রা আরও বেশি।
- যারা দেরিতে ঘুমোয়, তাদের হার্টের ঝুঁকি অনেক বেশি।
ভারতীতে এর প্রেক্ষাপট কি (Heart Attack)
ভারতে ২০২০ সালের করোনা লকডাউন এর সময় অনলাইন ক্লাসের কারণে স্মার্টফোনের ব্যবহার শিশুদের মধ্যে ব্যাপক হারে বেড়ে যায়।অনলাইন ক্লাস শেষ হলেও অভ্যেস রয়ে গেছে—বিনোদন, গেমস, সোশ্যাল মিডিয়া, সবকিছুতেই ডিভাইস নির্ভরতা। ঘুমের সময়সূচি এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে, শিশুদের মধ্যে ওবেসিটি (মোটা হওয়া)-র প্রবণতা বাড়ছে। শারীরিক কার্যকলাপ ও আউটডোর খেলাধুলা কমে যাওয়ায় হার্টের ওপর চাপ বাড়ছে।
ক্ষতির মূল কারণ (Heart Attack)
- অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমে হাঁটাচলা ও ক্যালরি খরচ কমে যাচ্ছে।
- ঘুমানোর আগে মোবাইল ব্যবহারে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
- শৈশবেই হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ তৈরি হতে শুরু করে।
- দীর্ঘ সময় বসে থাকার ফলে রক্ত সঞ্চালন ও হার্টের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ কি জানুন!
- শিশুদের দৈনিক স্ক্রিন টাইম সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
- খাবারের সময় মোবাইল বা টিভি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।
- অবসরে গল্প শোনা, বই পড়া, গান শোনা বা ছবি আঁকা-র মতো বিকল্প অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
- প্রতিদিন অন্তত ১ ঘণ্টা আউটডোর অ্যাক্টিভিটি বা খেলাধুলা নিশ্চিত করতে হবে।
- ঘুমের সঠিক সময়সূচি বজায় রাখতে হবে, দেরি করে ঘুমানো এড়াতে হবে।
গবেষকরা স্পষ্ট করে বলছেন—এখনই সতর্ক না হলে, আগামী দিনে এক বড় প্রজন্ম শৈশবেই হার্টের রোগের শিকার হবে।
১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহারের সঙ্গে আত্মহত্যার চিন্তা, আবেগ নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা, মূল্যবোধহীনতা এবং বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। নতুন গবেষণা বলছে, এই অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমই শৈশবেই বীজ বপন করছে হার্টের মারাত্মক অসুখের।


