Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাঙালির জীবনে চায়ের গুরুত্ব যেন আলাদা করে বলার প্রয়োজন হয় না (Chitto Babur Dokan)। শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা, সময়-অসময়ের তোয়াক্কা না করেই চায়ের কাপে আড্ডা জমে ওঠে শহরের অলিগলি থেকে ব্যস্ত রাস্তার মোড়ে। কলকাতার এমন বহু চায়ের দোকান রয়েছে, যেগুলির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কয়েক প্রজন্মের স্মৃতি। এবার সেই ঐতিহ্যবাহী চায়ের দোকানগুলিকেই নতুন করে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নিল টি বোর্ড।
চায়ের দোকানের ভোলবদলে টি বোর্ডের উদ্যোগ (Chitto Babur Dokan)
সোমবার চা নিলাম সংক্রান্ত একটি আলোচনাচক্রের আয়োজন করে টি বোর্ড। সেখানে চা নিলাম ব্যবস্থার সংস্কার ও উন্নতির পাশাপাশি চা ব্যবসার পরিকাঠামো আরও আধুনিক করার বিষয়ে একাধিক পরিকল্পনার কথা উঠে আসে। সেই আলোচনাতেই ঐতিহ্যবাহী চায়ের দোকানগুলির সৌন্দর্যায়নের বিষয়টিও সামনে আসে।
টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সি মুরুগান জানান, হেরিটেজ চায়ের দোকানগুলিকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার সাতটি দোকানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই তালিকায় আরও দোকান যুক্ত হতে পারে।
কোন কোন দোকান রয়েছে তালিকায়? (Chitto Babur Dokan)
প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে কলকাতার পরিচিত চিত্তবাবুর দোকান, বলবন্ত সিং ধাবা, কোনা দোকান, ন্যাশনাল ইকনমিক রেস্টুরেন্ট। এছাড়াও রয়েছে শ্রীরামপুরের নরেশবাবুর টি স্টল। দীর্ঘদিন ধরে এই দোকানগুলির সঙ্গে স্থানীয় মানুষের আবেগ ও স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের বক্তব্য, কোনও দোকান মালিক সৌন্দর্যায়নে আগ্রহী হলে তাঁদেরও সহযোগিতা করা হবে। অর্থাৎ, শুধু নির্দিষ্ট সাতটি দোকানেই উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকবে না। ঐতিহ্যবাহী আরও চায়ের দোকানের খোঁজ চালানো হচ্ছে।
নিলাম ব্যবস্থাতেও আসছে আধুনিকতার ছোঁয়া (Chitto Babur Dokan)
শুধু চায়ের দোকান নয়, চা ব্যবসার মূল ব্যবস্থাতেও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে টি বোর্ডের। চা বিক্রির প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সহজ করতে ভবিষ্যতে অনলাইন নিলামের উপর বেশি জোর দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি চা ব্যবসার লাইসেন্স এবং অনলাইন শংসাপত্র দেওয়ার ব্যবস্থাকেও আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ছোট চাষিদের স্বার্থেও নজর (Chitto Babur Dokan)
চা পাতার সঠিক দাম পাওয়ার ক্ষেত্রে ছোট চাষিরা যাতে কোনওভাবে প্রতারিত না হন, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ছোট চাষিদের সঙ্গে কারখানাগুলির যোগাযোগ আরও মজবুত করার জন্য উদ্যোগী হচ্ছে টি বোর্ড। ফলে একদিকে যেমন চা ব্যবসায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর চেষ্টা, অন্যদিকে তেমনই উৎপাদকদের স্বার্থরক্ষার পরিকল্পনাও রয়েছে।
আরও পড়ুন:Cyber Crime: নিউটাউনে আন্তর্জাতিক ফেক কল সেন্টারের হদিস, গ্রেফতার ২৪
ঐতিহ্য থাকবে, বদলাবে শুধু সাজ
কলকাতার পুরনো চায়ের দোকানগুলি নিছক ব্যবসার জায়গা নয়, শহরের সামাজিক জীবনেরও এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানে চায়ের কাপের সঙ্গে জমে ওঠে রাজনীতি, সাহিত্য, খেলাধুলো থেকে ব্যক্তিগত জীবনের গল্প। ফলে দোকানগুলির সৌন্দর্যায়ন হলে পুরনো আবহ না হারিয়ে কীভাবে নতুন প্রজন্মের কাছে সেগুলিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়, সেটিই এখন দেখার। টি বোর্ডের উদ্যোগ সফল হলে কলকাতার চায়ের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ হতে পারে।



