Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: “আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসে না”— ভবানীপ্রসাদ মজুমদারের এই বিখ্যাত লাইনটি আজও বাঙালির আত্মসমালোচনার আয়না (Suvendu Adhikari)। ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, একটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং আত্মপরিচয়ের সবচেয়ে বড় ভিত্তি। বিশ্বায়নের যুগে ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষার গুরুত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনই অনেক পরিবারে মাতৃভাষা বাংলার চর্চা ক্রমশ কমে এসেছে। ফলে “আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসে না”, এই কথাটি যেন আজও বহু পরিবারের বাস্তবতা। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে বাংলা ভাষাকে সরকারি কাজের সর্বস্তরে বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নতুন করে মাতৃভাষার মর্যাদা, ব্যবহার এবং গুরুত্ব নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার (Suvendu Adhikari)
পশ্চিমবঙ্গে সরকারি প্রশাসনের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিধানসভায় তিনি জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে রাজ্য সরকারের সমস্ত দপ্তরে সরকারি কাজ, নথিপত্র, দাপ্তরিক চিঠিপত্র এবং প্রশাসনিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলা ভাষাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি, প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব করে তোলা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারি ব্যবস্থার যোগাযোগকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করা। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলা ভাষার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং প্রশাসনিক ব্যবহারের গুরুত্বকে সামনে রেখেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার।
সরকারি কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহার হবে বাধ্যতামূলক
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি দপ্তরে সমস্ত সরকারি কাজ বাংলা ভাষায় সম্পন্ন করতে হবে। সরকারি আদেশ, বিজ্ঞপ্তি, অফিস নোট, দাপ্তরিক চিঠিপত্র, আবেদনপত্রের নিষ্পত্তি-সহ প্রশাসনিক যোগাযোগের প্রধান ভাষা হবে বাংলা। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক বা দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলা অথবা হিন্দি দুই ভাষাতেই চিঠিপত্র পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ফলে কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রশাসনিক সমন্বয় বজায় রেখেই বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অমিত শাহের চিঠির প্রসঙ্গ তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)
বিধানসভার বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পাঠানো একটি চিঠির প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, অমিত শাহ ওই চিঠিতে বাংলা ভাষার ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছিলেন এবং সরকারি কাজে বাংলা ভাষাকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এর আগে এক জনসভায় অমিত শাহও জানিয়েছিলেন, তিনি আবেগঘন একটি চিঠি মুখ্যমন্ত্রীকে লিখেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছিলেন যে মুখ্যমন্ত্রী সেই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন। সেই প্রস্তাবের প্রতি সম্মান জানিয়ে রাজ্য সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিধানসভায় জানান মুখ্যমন্ত্রী।
পুলিশ প্রশাসনেও বাড়বে বাংলা ভাষার ব্যবহার
শুধু প্রশাসনিক দপ্তরেই নয়, পুলিশ প্রশাসনেও বাংলা ভাষার ব্যবহার বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর (FIR)-সহ বিভিন্ন পুলিশি নথিপত্র বাংলায় গ্রহণ ও প্রস্তুত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ নিজের মাতৃভাষায় অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন এবং আইনি প্রক্রিয়াও তাঁদের কাছে আরও সহজবোধ্য হবে বলে মনে করছে সরকার।
প্রশাসনকে আরও জনমুখী করার লক্ষ্য (Suvendu Adhikari)
রাজ্য সরকারের মতে, বহু সাধারণ মানুষ ইংরেজি বা অন্য ভাষায় সরকারি নথিপত্র বুঝতে সমস্যার সম্মুখীন হন। বাংলা ভাষাকে প্রশাসনের মূল ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হলে সরকারি পরিষেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে এবং প্রশাসনের সঙ্গে মানুষের দূরত্বও কমবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, সফটওয়্যার, প্রশিক্ষণ এবং ভাষাগত সহায়তার ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সরকারের বার্তা (Suvendu Adhikari)
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বাংলা শুধু একটি ভাষা নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। তাই সরকারি কাজের প্রতিটি স্তরে বাংলা ভাষার যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি আরও বলেন, বাংলা ভাষার ব্যবহার বৃদ্ধি করার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা বজায় রাখার বিষয়েও সরকার সমান গুরুত্ব দেবে।
২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশের ঘোষণাও
একই সঙ্গে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আগামী ২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশনের চেয়ারম্যান সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় সেই রিপোর্ট জনগণের সামনে উপস্থাপন করবেন। এই ঘোষণা ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: Amit Shah: আমুলের মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর অমিত শাহের হাতে!
সংক্ষেপে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার মূল বিষয়গুলি
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কাজে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক।
সরকারি দপ্তরের সমস্ত চিঠিপত্র ও প্রশাসনিক নথি বাংলায় প্রস্তুত করা হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলা অথবা হিন্দি ভাষায় যোগাযোগ করা হবে।
পুলিশ প্রশাসনে এফআইআর-সহ বিভিন্ন নথিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাড়ানো হবে।
বাংলা ভাষার প্রশাসনিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে সরকার।
আগামী ২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে এবং সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় তা উপস্থাপন করবেন।



