Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে বিরাটের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। রোহিত-বিরাট দলে ফিরতেই জয়ে ফিরল টিম ইন্ডিয়া (Virat Kohli)।
বিরাট রাজার প্রত্যাবর্তন (Virat Kohli)
ইংল্যান্ড সিরিজের আগে টেস্ট থেকে আচমকা অবসর ঘোষণা করেছিলেন কোহলি। তারপর জল বয়ে গিয়েছে বহু দূর। টেস্টে ভারতের ব্যর্থতা, ঘরের মাঠে লজ্জাজনক সিরিজ হার। তবে সমর্থকদের একটাই দাবি শোনা গিয়েছে অবসর ভেঙে দলে ফারুক কোহলি-রোহিত। তাঁরা মাঠে না থাকলেও সমর্থকদের মুখে বারবার উচ্চারিত হয়েছে এই দুজনের নাম। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে যেখানে দুজন শেষ করেছিলেন ঠিক সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন দুই তারকা। একজন অর্ধশতরান করলে ফিরলেও বিরাট তাঁর শতরান পূর্ণ করেই মাঠ ছাড়লেন। এর মাঝেই দুজনের ভবিষৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছিল, সেই সকল জবাবের উত্তর দিয়ে এলেন বিরাট ও রোহিত। আজও তাঁরা দলের জন্য কতটা অপরিহার্য সেটাই আবার প্রত্যক্ষ করল সমর্থকরা (Virat Kohli)।

যত দিন এগোচ্ছে ততই যেন অবসরের দিকে পা বাড়াচ্ছেন বিরাট। আর সেই কারণেই তাঁর আগ্রাসনও যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। সাথে বাড়ছে তাঁর রানের খিদে। আরও যেন চনমনে দেখাচ্ছে কিং কোহলিকে। কোহলি মাঠে নাম মানেই আগ্রাসনের তীব্র বহিঃপ্রকাশ আর তাঁর সেই রূপটাই যেন মাঠে দেখলেন প্রোটিয়া শিবির। রাঁচিতে বিরাটের ১২০ বলে ১৩৫ রান শুধু বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটারের সেঞ্চুরি নয়, ৩৭ বছর বয়সে শুধু কোনও কামব্যাক নয়, এর চর্চা যেন ইতিহাসের অন্যতম রূপকথার একটা। যার প্রভাব ও ব্যাপ্তি ঘিরে রাখবে ক্রিকেট বিশ্বকে (Virat Kohli)।

তিঁনি কতটা প্রস্তুত সেটা তাঁর নিখুঁত কভার ড্রাইভ, ফ্লিক, লফটেড শট দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। তাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল সে নিয়মিত ক্রিকেটের মধ্যে রয়েছেন। মাঠের তাঁর রানিং বিটুয়িন উইকেট হোক বা প্রতিপক্ষের কেউ আউট হলে সেলিব্রেশনের ঝাঁঝ যা বিরাট সিনেমার ছোট ছোট কোলাজ। নির্বাচক এবং সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তাঁর বিরাট বার্তা-আগেও যা করেছি, এখনও তাই পারি।
এ বছর ইংল্যান্ড সিরিজের আগে টেস্ট থেকে অবসর নিয়েছেন হঠাৎ বিরাট। টি–টোয়েন্টি অবসর ২০২৪ সালে এই ফরম্যাটে বিশ্বকাপ জেতার সঙ্গে সঙ্গেই। তাই বিরাটের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন পড়ে আছে শুধুমাত্র ফরম্যাট। আর ৫০ ওভারের এই ফরম্যাট কম খেলা হয় বলেই অনেকের বক্তব্য ছিল যাতে বিরাট ঘরোয়া ক্রিকেট চালিয়ে যান (Virat Kohli)।

তাই নিজেকে মেলে ধরার বা প্রমাণ করার সুযোগও কম। যদিও নতুন করে প্রমাণ করার কিছুই নেই তবে আজও যে ফুরিয়ে যাননি সেটাই বুঝিয়ে দিলেন রাঁচির মাটিতে। হাতেগোনা কয়েকটা ম্যাচের প্রতিটাতেই গ্যালারি মাতানো পারফরম্যান্স পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ, তিনি রোবট নন (Virat Kohli)। তবু ওই কয়েকটা মাত্র সুযোগের মধ্যে এই দাপুটে ইনিংসগুলো দাবি তুলে দেয় ২০২৭ ওয়ান ডে বিশ্বকাপের জন্য। আসল লক্ষ্য কি সেটাই?
আরও পড়ুন: Ranaghat Bus Accident: রাতের জাতীয় সড়কে বিয়েবাড়ির বাসে আগুন
একটা সময়ের পর থেকে অবসরের দিন জানতে চেয়ে প্রশ্ন ক্রীড়াবিদদের কাছে নতুন কিছু নয়। ক্রিকেটের ‘ঈশ্বর’ সচিনকেও এই একই কথা শুনতে হয়েছে। ধোনিও বাদ পড়েননি। অন্যদিকে ফেডেরার থেকে রাফায়েল নাদাল, রোনাল্ডো অথবা মেসি সবাই একই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন। তবু তাঁরা তিলে-তিলে নিজেদের গড়েছেন কারণ একটা সুযোগ এলেই সেখানে নিজে উজাড় করে দিতে হবে। আর তার জন্য প্রয়োজন বিরাট আগ্রাসন আর খিদে। বলা যায় এই দুই যেন প্রোটিয়াদের জয় যাত্রা থামিয়ে টিম ইন্ডিয়ার ড্রেসিং রুমে এনে দিল ফ্রেশ এয়ার।

বিরাটও ক্রমাগত নিজেকে প্রমাণ করে গিয়েছেন। আজও তার ফিটনেস, প্রতিভা, টাইমিং, রিফ্লেক্স একই রয়েছে যা যেকোন তরুণকেও পিছনে ফেলে দিতে পারে। শুধু যে তিঁনি ব্যাট হাতে রান করলেন তাই নয় ক্যাচ নিলেন, চার বাঁচালেন। পরের একটা খেলায় ফ্লপ করলে যে নেটিজেনদের কটাক্ষ অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য সেটাও তাঁর জানা। তবু হাল না ছাড়ার অপর নাম বিরাট কোহলি। যে বিরাট ছায়ায় আজও ভারত ভরসা খোঁজে। সব কিছু উপেক্ষা করে বিরাট আগ্রাসন আর তাঁর জেদ ক্রিকেটের অনন্য অধ্যায়গুলির মধ্যে অন্যতম হয়ে থেকে যাবে (Virat Kohli)।


