Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ছত্তীসগঢ়ের কাঁকের জেলায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অপরাধে মণীশ নুরেতি নামে এক গ্রামবাসীকে নৃশংসভাবে হত্যা করল মাওবাদীরা(CPI Maoist)। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গ্রামের শিশু এবং স্থানীয়দের সঙ্গে পতাকা উত্তোলন করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ঘটনাই তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াল।
স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান থেকে মৃত্যুর ফাঁদ (CPI Maoist)
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৫ অগস্ট বিনাগুন্ডা গ্রামে বহু বছর পরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন হয়(CPI Maoist)। মণীশ নিজে নেতৃত্ব দিয়ে গ্রামের শিশুদের সঙ্গে পতাকা উত্তোলন ও ‘বন্দেমাতরম’ স্লোগান দেন। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেই ভিডিয়ো। আর সেখান থেকেই তাঁকে শনাক্ত করে সিপিআই (মাওবাদী)-র সশস্ত্র শাখা পিএলজিএ।
বুধবার রাতে মাওবাদী জঙ্গিরা গ্রামে হানা দেয়। মণীশ ও আরও দুই গ্রামবাসীকে তুলে নিয়ে যায় জঙ্গলে। সেখানে শুরু হয় তথাকথিত ‘গণআদালত’। অভিযোগ ছিল, মণীশ জাতীয় পতাকা তুলেছেন এবং সরকারপন্থী ভাবনা প্রচার করেছেন। অন্য দুই গ্রামবাসীকে মারধর করে ছেড়ে দিলেও, মণীশকে ‘দোষী’ সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
মাওবাদীদের পতন, কিন্তু এখনও সক্রিয়তা (CPI Maoist)
যৌথবাহিনীর (INDIAN ARMY) ধারাবাহিক অভিযানে গত এক বছরে ছত্তীসগঢ়ের বস্তার ডিভিশনের সাতটি জেলা থেকে মাওবাদীরা কোণঠাসা হয়েছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নরসিংহচলম ওরফে সুধাকর, চৈতন্য ভেঙ্কট রবি ওরফে অরুণা-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন(CPI Maoist)। রামচন্দ্র রেড্ডি ওরফে চলপতি এবং সাধারণ সম্পাদক বাসবরাজু-ও আর সক্রিয় নন।
তবুও পুলিশের দাবি, বস্তার ডিভিশনে এখনও অন্তত ১৬ জন শীর্ষ নেতা-নেত্রী-সহ কয়েকটি মাওবাদী ‘দলম’ সক্রিয় রয়েছে। এ কারণে এখনও গ্রামাঞ্চলে আতঙ্ক কাটেনি।

আরও পড়ুন : Bangladesh Unrest : হাসিনার বক্তব্য সংবাদ মাধ্যমে প্রচার নিষেধ, আইনি পদক্ষেপের সতর্কতা জারি ইউনূস প্রশাসনের
পুলিশের তল্লাশি অভিযান শুরু (CPI Maoist)
কাঁকের জেলার পুলিশ সুপার আইকে এলেসেলা জানিয়েছেন, ‘‘বিনাগুন্ডা গ্রামে যাঁরা এই হামলায় জড়িত, তাঁদের খোঁজে আমরা তল্লাশি অভিযান শুরু করেছি। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মতো একটি সাধারণ কাজের জন্য একজনকে খুন করা চরম অমানবিক ঘটনা(CPI Maoist)।’’

এই হত্যাকাণ্ডে নতুন করে প্রমাণিত হলো, সশস্ত্র মাওবাদী গোষ্ঠীগুলি এখনও গ্রামাঞ্চলে দমননীতি ও ভীতি প্রদর্শন চালিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরেও, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে গিয়ে একজন সাধারণ গ্রামবাসীর প্রাণ যেতে হবে—এটাই দেশের জন্য এক ভয়াবহ প্রশ্নচিহ্ন।


