Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দুধ, দই, মাখন, চিজ এই চারটি নাম শুনলেই আমরা ভাবি স্বাস্থ্যকর খাবারের কথা (Dairy Food)। দীর্ঘদিন ধরেই এগুলোকে ‘সুপারফুড’ হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ, এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলস, যা শরীরের গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণে সাহায্য করে। কিন্তু সাম্প্রতিক একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা জানাচ্ছে, অতিরিক্ত পরিমাণে দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ শরীরে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কোথায় দেখা গেল ঝুঁকি (Dairy Food)
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন অতিরিক্ত দুধ, চিজ বা দই খান, তাদের মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসারের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষত তিন ধরনের ক্যানসারে এর প্রভাব স্পষ্ট…
- প্রস্টেট ক্যানসার
- স্তন ক্যানসার
- কোলন ক্যানসার
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুগ্ধজাত খাবারে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও প্রাণীজ হরমোন শরীরের কোষে একধরনের পরিবর্তন ঘটায়। এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে কোষ বিভাজনের হার বাড়ায় এবং ক্যানসার কোষ বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করতে পারে।
দুধে থাকা হরমোন ও রাসায়নিকের প্রভাব (Dairy Food)
দুধে প্রাকৃতিকভাবে একটি হরমোন থাকে, যার নাম ইনসুলিন-লাইক গ্রোথ ফ্যাক্টর। এই হরমোন শরীরের কোষকে দ্রুত বাড়তে সাহায্য করে। কিন্তু যখন এই প্রক্রিয়া অস্বাভাবিকভাবে ত্বরান্বিত হয়, তখন ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ঘটতে পারে।
এছাড়াও, অনেক ক্ষেত্রেই শিল্পোৎপাদিত দুধ বা চিজ তৈরির সময় হরমোন ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। এসব উপাদানের অবশিষ্টাংশ শরীরে প্রবেশ করলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
কারা বেশি ঝুঁকিতে আছেন? (Dairy Food)
নিম্নলিখিত গোষ্ঠীর মানুষদের ক্ষেত্রে দুগ্ধজাত খাবারের অতিরিক্ত সেবনে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে,
- যারা প্রতিদিন একাধিকবার দুধ বা চিজ খান
- যাদের পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে
- যাদের শরীরে হরমোনাল ভারসাম্যহীনতা আছে
- যারা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সে (দুধ হজমে অক্ষম) ভোগেন
- যাদের হজমজনিত সমস্যা বা ওজনাধিক্য রয়েছে
তবে কি দুধ খাওয়া বন্ধ করতে হবে? (Dairy Food)
না, বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট বলেছেন দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
- দিনে এক কাপ দুধ বা একবাটি দই যথেষ্ট (Dairy Food
- সম্পূর্ণ ফ্যাটযুক্ত দুধের বদলে বেছে নিন লো-ফ্যাট বা টোনড মিল্ক।
- বিকল্প হিসেবে বাদাম দুধ, সয়ামিল্ক বা ওট মিল্ক খাওয়া যেতে পারে।
সুষম খাবারই আসল প্রতিরোধ
দুধের সঙ্গে সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার খেলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এসব খাবার ক্যানসার-সৃষ্টিকারী ফ্রি র্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানো এগুলোও ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও পড়ুন: October Bank Holiday: অক্টোবর মাসে ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে কদিন?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
- খাবার যতই পুষ্টিকর হোক, পরিমাণে সংযম রাখুন।
- শরীরের সংকেত বুঝুন দুধ খাওয়ার পর অস্বস্তি বা হজম সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য দুধ উপকারী, তবে পরিমাণে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
- সম্ভব হলে অর্গানিক বা রাসায়নিকমুক্ত দুধ বেছে নিন।



