Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ব্রততী সরকার: ছোটবেলা থেকে দেখা স্বপ্ন (Death Case) পূরণ হবার আনন্দ শব্দে প্রকাশ করা যায় না। তবে কে জানত এই স্বপ্নই একদিন কেড়ে নেবে জীবন। সমুদ্রে, প্রথম চাকরি- তাই নিজের জাহাজটাকে আপনজনদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছিলেন বছর ২২ এর এই যুবক। পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় সুরজের কণ্ঠে ছিল গর্ব। ভিডিও কলে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলেন তাঁর ছোট্ট কাজের জায়গা। আধ ঘণ্টা পর সেই জাহাজেই আছড়ে পড়ে ক্ষেপণাস্ত্র। পরিবারের কাছে সুরজের শেষ স্মৃতি হয়ে রইল সেই হাসিমুখের ভিডিও কল।
ভিডিওকলের পরেই মৃত্যু যুবকের (Death Case)
উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়ার কর্মজিৎপুর গ্রামের (Death Case) বাড়িতে ভিডিও কলে কথা বলেছিলেন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। ভিডিও কলে সুরজ দেখাচ্ছিলেন, জাহাজে কোথায় কাজ করেন, কোথায় ঘুমান, কী খাবার খান। পরিবারের কাছে সেটি ছিল গর্বের মুহূর্ত। কিন্তু মাত্র ৩০ মিনিট পর সেই আনন্দই পরিণত হয় শোকে। হরমুজ প্রণালীর কাছে ভারতের দিকে ফেরার পথে সুরজের বাণিজ্যিক জাহাজ MV Cape Dao-তে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। হামলায় জাহাজের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই সময় মাথায় আঘাত পেয়ে প্রাণ হারান বছর ২২ এর সুরজ। কয়েক ঘণ্টা পর তাঁর পরিবারের কাছে খবর আসে, একটু আগেই ভিডিও কলে কথা বলা সুরজ আর বেঁচে নেই।
গ্রামের প্রথম মার্চেন্ট নেভি (Death Case)
সুরজের কাকা অবধেশ যাদব বলেন, “সুরজই আমাদের পরিবারের, এমনকি (Death Case) পুরো গ্রামের প্রথম ব্যক্তি, যে মার্চেন্ট নেভি হিসাবে কাজ করতে গিয়েছিল।” তাঁর বাবা কুয়েতে কর্মরত। বাড়িতে মা ও দুই ছোট ভাই। মার্চেন্ট নেভিতে কাজ করার স্বপ্ন থেকেই স্কুলের পর তিনি জেনারেল পারপাস রেটিং কোর্স করেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কোর্স শেষ করে ১৯ আগস্ট জাহাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
নিরাপদে উদ্ধার বাকি নাবিকরা
জাহাজে ওয়াইপার হিসাবে ইঞ্জিন রুম ও যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করা এবং ইঞ্জিনিয়ারদের কাজে সহায়তা করাই ছিল তাঁর দায়িত্ব। জাহাজটিতে মোট ২৮ জন ছিলেন। হামলার পর ১৯ জন ভারতীয়-সহ বেঁচে যাওয়া নাবিকদের ওমানের রয়্যাল নেভি উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: Morgue Machine Failure: মর্গে যন্ত্র বিকল, দুর্গন্ধে হাসপাতাল জুড়ে আতঙ্ক!
সুরজের অপেক্ষায় পরিবারের লোকজন
যে ছেলে একটু আগেও ভিডিও কলে তাঁর নতুন জীবন নিজের পরিবারের সাথে ভাগ করে নিচ্ছিলেন, কে জানতো এটাই তাঁর পরিবারের কাছে শেষ স্মৃতি হয়ে থেকে যাবে। এখন পরিবারের সকলে অধীর আগ্রহে সুরজের মৃতদেহ বাড়ি ফেরার অপেক্ষায়।


