Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেশের প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) সংক্রান্ত নিয়মে বড়সড় শিথিলতা আনতে চলেছে ভারত সরকার(Defence Sector)। দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়ানো এবং বিদেশি প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলিকে আকৃষ্ট করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে সরকারি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই পরিবর্তন কার্যকর হতে পারে।
সরকারি অনুমোদন ছাড়াই বিনিয়োগ সম্ভব ! (Defence Sector)
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমানে স্বয়ংক্রিয় রুটে (automatic route) প্রতিরক্ষা সংস্থায় বিদেশি বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা ৪৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৪ শতাংশ করা হতে পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এখন এই ৭৪ শতাংশ সীমা শুধুমাত্র নতুন প্রতিরক্ষা লাইসেন্সের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে, এখনকার লাইসেন্সপ্রাপ্ত সংস্থাগুলিও স্বয়ংক্রিয় রুটে এই সুবিধা পাবে, অর্থাৎ সরকারি অনুমোদন ছাড়াই বিনিয়োগ সম্ভব হবে।
বিতর্কিত শর্ত তুলে নেওয়ার ভাবনাচিন্তা
এছাড়াও সরকার “আধুনিক প্রযুক্তি” সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত শর্ত তুলে নেওয়ার বিষয়েও ভাবনাচিন্তা করছে। বর্তমানে ৭৪ শতাংশের বেশি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রমাণ করতে হয় যে তা “আধুনিক প্রযুক্তির প্রবেশাধিকার” নিশ্চিত করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শর্তটি অস্পষ্ট হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।
গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্র (Defence Sector)
এই সংস্কারের ফলে বিদেশি প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলি ভারতীয় উদ্যোগে সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা নিতে আগ্রহী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য আরও জোরদার হবে।
বিদেশি বিনিয়োগ টানতে সুবিধা (Defence Sector)
রয়টার্সের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সম্পূর্ণ রফতানিমুখী প্রতিরক্ষা উৎপাদন সংস্থাগুলির জন্য দেশে রক্ষণাবেক্ষণ ও সহায়তা কেন্দ্র স্থাপনের বাধ্যবাধকতাও তুলে নেওয়া হতে পারে। প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিক অমিত কাউশিশের মতে, এই শর্ত তুলে দিলে বিদেশি বিনিয়োগ টানতে সুবিধা হবে, কারণ রক্ষণাবেক্ষণের কাজ আউটসোর্স করা যাবে।
প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও রফতানি প্রায় দ্বিগুণ করার চেষ্টা (Defence Sector)
যদিও এয়ারবাস, লকহিড মার্টিন ও রাফায়েলের মতো সংস্থা ইতিমধ্যেই ভারতে যৌথ উদ্যোগে কাজ করছে, তবুও গত ২৫ বছরে প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ মাত্র ২৬.৫ মিলিয়ন ডলার। সরকার চায় ২০২৯ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও রফতানি প্রায় দ্বিগুণ করতে, যাতে আমদানির উপর নির্ভরতা কমে।



