Last Updated on [modified_date_only] by Anustup Roy Barman
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: জগদীপ ধনখড় তার স্বাস্থ্যের কারণ দেখিয়ে উপ-রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন (Dhankhar got Salman Khan bail)। উপরাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে, ধনখড় একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী ছিলেন যিনি ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলায় অভিনেতা সালমান খানের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন এবং তাকে এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের জামিন পেতে সহায়তা করেছিলেন।
ভাইস প্রেসিডেন্ট পদত্যাগের আড়ালে ধনখড়ের পুরনো ভূমিকা উঠে এলো আলোচনায় (Dhankhar got Salman Khan bail)
সম্প্রতি স্বাস্থ্যের কারণ দেখিয়ে উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন জগদীপ ধনখড় (Dhankhar got Salman Khan bail)। তিনি একজন বিশিষ্ট সিনিয়র অ্যাডভোকেট এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞ ছিলেন। তবে তাঁর জীবনের এক কম পরিচিত অধ্যায় আবারও উঠে এসেছে আলোচনায়। ১৯৯৮ সালের কোঙ্কণী কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলায় সলমন খান ও অন্যান্য অভিযুক্তদের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেছিলেন তিনিই এবং তাঁদের জামিন পাওয়ার পথ সুগম করেছিলেন।
কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলা ও বলিউড (Dhankhar got Salman Khan bail)
১৯৯৮ সালে রাজস্থানের যোধপুরের কাছে কোঙ্কণী গ্রামে সিনেমার শুটিং চলাকালীন দুইটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা নিয়ে মামলার সূত্রপাত (Dhankhar got Salman Khan bail)। এ ঘটনাটি সেই সময়কার অন্যতম আলোচিত মামলা হয়ে দাঁড়ায়, যেখানে অভিযুক্ত ছিলেন সলমন খান ছাড়াও সাইফ আলি খান, টাবু, নীলম ও সোনালী বেন্দ্রে। সেই সময় ধনখড় ছিলেন সলমন খান এবং তাঁর সহ-অভিনেতাদের আইনজীবী। তাঁর তৎকালীন সহকারী অ্যাডভোকেট প্রবীণ বলওয়াদা বলেন, “সলমন খানকে যখন যোধপুর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছিল, তখন ধনখড়ই প্রথম আদালতে তাঁর হয়ে সওয়াল করেন এবং তাঁকেসহ অন্যদের জামিন করিয়ে দেন।”
১৯৯৮ সালে ধনখড় কী বলেছিলেন
সেই সময় এক সাক্ষাৎকারে ধনখড় তাঁর ভূমিকা স্বীকার করেছিলেন। শিকারে অভিনেতারা আদৌ জড়িত ছিলেন কি না—এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি। বরং তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেছিলেন, “সেটে তো প্রায় ৩০০ জন মানুষ ছিল। তাহলে কেউ কিছুই টের পেল না কিভাবে?” ধনখড় আদালতে বলেছিলেন, “সলমন গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিশকে পুরোপুরি সহযোগিতা করেছেন, তাই তাঁর জামিন পাওয়ার সবরকম যুক্তি আছে।” তিনি গ্রামবাসীদের বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বলেন, “যদি সত্যিই অভিনেতারা শিকারে যুক্ত থাকতেন, তাহলে গ্রামবাসীরা সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের ধাওয়া করল না কেন? কেন তিন সপ্তাহ পরে অভিযোগ জানাল?”
আরও পড়ুন: Dhumketu: দেব-শুভশ্রী জুটি বেঁচে আছে, আবার জটিলতাও আছে! বড় ইঙ্গিত দেবের
মামলার পরবর্তী অধ্যায় ও ধনখড়ের রাজনৈতিক উত্থান
ধনখড় শুরুতেই মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেও, দুই দশক পরে মামলাটি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছয়, তখন তাঁর ভূমিকা আবার আলোচনায় আসে। ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল সলমন খান দোষী সাব্যস্ত হন এবং যোধপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে দু’রাত কাটান। ৭ এপ্রিল আদালত তাঁকে ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে ও ২৫ হাজার টাকা করে দুইটি জামিনদারিতে জামিন দেয়। আদালতের শর্ত ছিল, তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না আদালতের অনুমতি ছাড়া এবং ৭ মে ২০১৮-র শুনানিতে হাজির থাকতে হবে।
অন্যদিকে, ধনখড় ২০০৩ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০১৬ সালের মধ্যে তিনি দলের আইনি শাখার নেতৃত্বে আসেন। ২০১৯ সালে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এরপর ২০২২ সালে এনডিএ তাঁকে উপরাষ্ট্রপতির পদপ্রার্থী করে এবং তিনি জয়ী হন।
আরও পড়ুন: Aparajita Auddy: প্রসেনজিৎকে পাগলের মতো ভালোবাসতেন, অপরাজিতার বালিশের নিচে বুম্বাদার ছবি!
অজানা কাহিনী
ধনখড়ের রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি এই আইনজীবী হিসেবে তাঁর একটি ভিন্ন পরিচিতি, যেখানে বলিউড তারকা সলমন খানের হয়ে তিনি প্রথম আদালতে দাঁড়িয়েছিলেন, তা অনেকের অজানা ছিল।


