Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বেদ কিংবা পুরাণে বোনের হাতে যমের ভাইফোঁটা (Bhai Phota) নেওয়ার কথা কোথাও উল্ল্যেখ নেই! বরং, এ ব্যাপারে একধাপ এগিয়ে রয়েছেন শ্রীকৃষ্ণ! তাহলে ‘যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা’র ব্যাপারটা কী? কী সেই অজানা কাহিনী?
সারা ভারতে নানা নামে প্রচলিত ভাইফোঁটা। বাঙালি পরিবারে যা ভাইফোঁটা, মহারাষ্ট্র, গুজরাতের মতো পশ্চিম ভারতে তাই ভাইদুজ। আবার কর্ণাটক, গোয়ায় তা ভাইবিজ। উত্তরবঙ্গে আবার দশমীর পরেই পালিত হয় ভাইটিকা। তালিকায় আছে নেপালও। যা ভাই-বোনের পবিত্র বন্ধনের প্রতীক। চিরন্তন এই উৎসব কী করে শুরু হল? তা নিয়ে প্রচলিত আছে নানা গল্প কথাও। রয়েছে নানা পৌরাণিক ব্যাখ্যা। বাংলা মন্ত্রে রয়েছে ‘যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা’। কিন্তু, যম আদৌ বোনের হাতে ভাইফোঁটা (Bhai Phota) নিয়েছিলেন কি?.. এই প্রশ্নই বারবার ঘুরে ফিরে আসে মনে।
বেদ-পুরাণের সূত্র ধরে যমের ভাইফোঁটা (Bhai Phota) নেওয়ার ব্যখ্যা:
ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার অন্য নাম যমদ্বিতীয়া। আমাদের আচার ব্যবহার রীতিনীতি প্রভৃতি বিষয় উঠে আসে মূলত বেদ-পুরাণের সূত্র ধরে। সেই বেদে, পুরাণে বোনের হাতে যমের ভাইফোঁটা (Bhai Phota) নেওয়ার কথা কোথাও উল্লেখ নেই! কথিত রয়েছে, যম আমাদের মৃত্যুর অধিপতি। মৃত্যুর রাজা…। যমুনা নাকি তার বোন। কার্তিক মাসের দ্বিতীয়া তিথিতে তিনি ফোঁটা দিয়েছিলেন যম। পেট পুরে খাওয়া-দাওয়া নাকি করিয়েছিলেন। তার পর থেকেই এই দিনে পালিত হয় ভ্রাতৃদ্বিতীয়া। এই দিনে যে বোন তার ভাইকে ফোঁটা দেয়, তারা দীর্ঘজীবী হয়। এটা আমাদের লৌকিক ধারনা, বিশ্বাস।
আরও পড়ুন: Bhai Phonta 2025: ভাইফোঁটার ফোঁটায় লুকিয়ে আছে কোন গোপন শুভ শক্তি?
যম এবং তাঁর বোন যমীর কথা আমরা প্রথম পাচ্ছি ঋগ্বেদে। তাঁদেরকেই বলা হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম পুরুষ এবং নারী। এখানেই শেষ নয়। যমই সেই মানুষ যাঁর পৃথিবীতে প্রথম মৃত্যু হয়। খেয়াল না করলেই নয়, এখানে বোনটির নাম কিন্তু যমী। যমুনা নয়। জানা যাচ্ছে, সূর্যের যমজ পুত্র-কন্যা এই যম আর যমী। আর যম আর যমীর সম্পর্ক নিয়ে যা বলছে বেদ, তাতে চমকে উঠতে হয়। ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের দশম সূক্তের চোদ্দটি শ্লোক বলছে, এক নির্জন দ্বীপে এসে ভাই যমের সহবাস-অভিলাষিণী হলেন বোন যমী। তাঁকে বলতে শোনা গেল- “বিস্তীর্ণ সমুদ্রমধ্যবর্তী এ দ্বীপে এসে, এ নির্জন প্রদেশে তোমার সহবাসের জন্য আমি অভিলাষিণী!”
যম কিন্তু বোনের সেই প্রস্তাব গ্রহণ করলেন না। তাঁর মনে হল, এ বিশুদ্ধ অজাচার! যমী কিন্তু নিরস্ত হলেন না। তাঁর প্রতিযুক্তি ছিল, এই বিশ্বসৃষ্টিকারী ত্বষ্টা মাতৃগর্ভেই তাঁদের মিলনের সূচনা করেছেন। গর্ভে তাঁরা একত্র শয়ন করেছেন, অতএব গর্ভের বাইরেও তাতে অপরাধ নেই!
অতঃপর কী বললেন যম?
যমীকে রাত্রি এবং যমকে দিন সম্বোধন করে ঋগ্বেদ যমের বকলমে বলছে, “যদি এক মুহূর্তের জন্য পরমেশ্বর পৃথিবীর সাধারণ অক্ষে ও কেন্দ্রবিন্দুতে সূর্যের গতি হ্রাস করে দেন এবং সূর্যের আলো যদি দিন ও রাত্রিতে থেমে যায়, তখন পৃথিবী এবং অন্তরীক্ষ একত্র হবে। এদের মতো তখন আমরাও (দিন ও রাত) একত্র হব, রাত্রি কোনও বাধা ছাড়া দিনের সঙ্গে দাম্পত্য মিলন উপভোগ করবে (Bhai Phota)৷ হে রাত্রি! কিন্তু ওই সময় অনেক অনেক বছর পরে আসবে। যখন গতিপথ বিপরীতমুখী হবে, তখনই একত্রে এবং সহঅবস্থানে থাকা হবে অসঙ্গতিহীন৷ তাই এ সময়ের জন্য হে প্রিয়ে ও ভদ্রে, তোমার প্রেমের হাত আমি ছাড়া আর অন্য কারও প্রতি বাড়িয়ে দাও, যে হবে প্রকৃত পুরুষোচিত স্বামী৷”
আরও পড়ুন: Bhai Phota: ভাইফোঁটার মেনুতে মশলা আর চিজের অপূর্ব মেলবন্ধন! গরম ভাতের সঙ্গে জমে যাবে মাংসের এই পদ
কিন্তু, যমী নিরস্ত হলেন না। তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে চলে গেলেন সেই নির্জন দ্বীপের অন্য প্রান্তে। ফিরেও এলেন কিছুক্ষণ পরেই! যমের বিরহ, খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও তাঁর পক্ষে অসহনীয়। ফিরে এসে কিন্তু যমী চমকে উঠলেন। দেখলেন, একটি বৃক্ষতলে শুয়ে রয়েছেন যম। তাঁর দেহে প্রাণ নেই। রোরুদ্যমানা যমীর বিরহদশা দূর করতে তখন তৎপর হলেন দেবতারা। তাঁরা যমীকে সান্ত্বনা দিলেন, কিন্তু তাঁর কান্না বন্ধ হল না। তখন যমীর শোক অপনোদনের জন্য দেবতারা দিন ও রাত- এই দুই ভাগে বিভক্ত করলেন সময়কে। যমীও যমহীন সময়বিভাগ ও কালের মাহাত্ম্য উপলব্ধি করে চোখের জল মুছলেন!
বেদ-পুরাণ ঘাঁটতে গিয়ে দেখা গেছে, একাধিক কাহিনী। কিন্তু কোথাও যমীর হাতে যমের ভাইফোঁটা নেওয়ার কথা বলছে না। আবার, পুরাণ ঘাঁটলে উঠে আসে ‘ভাইফোঁটা’র (Bhai Phota) আর এক কাহিনি। নরকাসুরকে বধ করে বোন সুভদ্রার কাছে যান শ্রীকৃষ্ণ। সুভদ্রা তাঁকে কপালে টিকা দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। অনেকের মতে, এই ঘটনাই ‘ভাইফোঁটার নেপথ্যে।


