Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মাহেশ জগন্নাথ মন্দির আবারও সাক্ষী হতে চলেছে এক মহতী ধর্মীয় আয়োজনের (Kalash Yatra)। আগামী ৩১শে জানুয়ারি ও ১লা ফেব্রুয়ারি, নিত্যানন্দ চতুর্দশী উপলক্ষে এখানে অনুষ্ঠিত হবে কলস যাত্রা, গীতা পাঠ ও ধর্মসভা। বহু প্রাচীন ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে এই কর্মসূচি মাহেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে আরও সমৃদ্ধ করতে চলেছে।

নিত্যানন্দ চতুর্দশীতে কলস যাত্রার সূচনা (Kalash Yatra)
মাহেশ জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্ট কমিটির সম্পাদক পিয়াল অধিকারী জানান, আগামী ৩১শে জানুয়ারি, নিত্যানন্দ চতুর্দশীর পুণ্য তিথিতে শোভাযাত্রা সহকারে কলস যাত্রার সূচনা হবে। ভোরে গঙ্গা পুজো ও গঙ্গা আরতির মাধ্যমে ১০৮টি পবিত্র কলস নিয়ে যাত্রা শুরু হবে। গঙ্গার তীর থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা দুপুরে মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরে এসে সমাপ্ত হবে। এই কলস যাত্রা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং ভক্তি, শুদ্ধতা ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রতীক যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মাহেশের সংস্কৃতিকে বহন করে চলেছে।
চৈতন্য ভাবধারার অনুরণন (Kalash Yatra)
কলস যাত্রা শেষে বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে গীতা পাঠ ও ধর্মসভা। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান পিয়াল অধিকারী। তাঁর কথায়, গীতা পাঠ ও হরিনাম সংকীর্তনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ভক্তি, সহিষ্ণুতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করাই এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। প্রতি বছরই মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরে এই ধরনের ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় এবং তা কোনও বিশেষ সময় বা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত নয় এ কথাও স্পষ্ট করেন তিনি।

নির্বাচনের আবহে বিতর্ক ও ট্রাস্টের অবস্থান (Kalash Yatra)
বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ধর্মীয় আয়োজন ঘিরে কিছু প্রশ্ন উঠলেও, সেসব বিতর্কে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে মন্দির ট্রাস্ট কমিটি।সূত্রের খবর, পিয়াল অধিকারী দৃঢ় ভাষায় বলেন, “রাজনীতি এক জায়গায়, আর আমাদের ধর্মসভা ও গীতা পাঠ সম্পূর্ণ অন্য জায়গায়।” তিনি জানান, এই কর্মসূচির সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা মেরুকরণ জড়িত নয়। মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরে ধর্মীয় ভাবনার বাইরে অন্য কোনও রঙের স্থান নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
এক স্পষ্ট বার্তা (Kalash Yatra)
পিয়াল অধিকারীর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে ধর্ম ও রাজনীতির সুস্পষ্ট বিভাজন। তিনি বলেন, “মন্দির হোক বা মসজিদ—কোনও ক্ষেত্রেই আমাদের ট্রাস্ট কমিটির মধ্যে রাজনৈতিক রং নেই।” ধর্মীয় স্থানকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করাকে তিনি অনুচিত বলে মনে করেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মেরুকরণ ও ধর্মীয় ভাবনা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়, এবং এই দুইকে গুলিয়ে ফেলা সমাজের পক্ষে ক্ষতিকর।

আরও পড়ুন: Bank: ধাক্কা ব্যাঙ্কিং পরিষেবায়, ৫ দিনের কাজের দাবিতে ডাক ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের
সনাতন ধর্ম নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া
দেশের ধর্মীয় পরিমণ্ডলে এবং শঙ্করাচার্যকে ঘিরে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পিয়াল অধিকারী। তিনি বলেন, “সনাতন ধর্মের প্রকৃত অর্থ অনেকেই বোঝেন না। যিনি সনাতন ধর্মের মর্ম বোঝেন, তিনি কখনও তা নিয়ে রাজনৈতিক মেরুকরণ করবেন না।” তাঁর মতে, সনাতন ধর্ম অতীতেও যেমন ছিল, ভবিষ্যতেও তেমনই থাকবে সহিষ্ণু, উদার এবং মানবকল্যাণে নিবেদিত।



