Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মসজিদের মাইক ব্যবহারকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হচ্ছে বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ (Dilip Ghosh)। এই ইস্যুতেই আজ পথে নামছেন রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। মসজিদে মাইক ব্যবহারের অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক বিধিনিষেধ, এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন করে বিতর্ক। তাঁর কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
দিলীপ ঘোষের নিশানায় ‘উটকো লোক’ (Dilip Ghosh)
এই পরিস্থিতিতে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, “কিছু উটকো লোক আছে। হঠাৎ করে উঠে আসে। মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলে।” তাঁর দাবি, যারা এতদিন মুসলমান সমাজের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করতেন, তাঁদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এখন প্রশ্নের মুখে।
‘মুসলমান সমাজের ঠেকা’ কার হাতে? (Dilip Ghosh)
দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, “সবকটা হেরে ভূত হয়ে গেছে।” তাঁর অভিযোগ, কয়েকজন নেতা নিজেদের মুসলমান সমাজের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তাঁর কথায়, “এরা মুসলমান সমাজের ঠেকা নিয়ে রেখেছিল।” একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দীর্ঘদিন অন্য রাজনৈতিক দলের পতাকার নিচে থাকা এই নেতারা এখন কোন রাজনৈতিক অবস্থান নেবেন।
অনুদান ও স্টাইপেন্ড নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ
দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় অনুদান ও স্টাইপেন্ড সংক্রান্ত অভিযোগও। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রের অনুদানের টাকার মাধ্যমে তাঁদের ‘ঘুষ’ দেওয়া হয়েছিল এবং একই স্টাইপেন্ড একাধিক ব্যক্তি পেয়েছেন। যদিও এই ধরনের অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণ বা সরকারি নথি তিনি প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
কে এই সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী? (Dilip Ghosh)
সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পরিচিত একটি নাম। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক এবং মঙ্গলকোট বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গণশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার দফতরের মন্ত্রী হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁর সক্রিয় অবস্থানের কারণে রাজনীতির পাশাপাশি বৃহত্তর সমাজেও তাঁর উপস্থিতি যথেষ্ট আলোচিত।
আরও পড়ুন: Neha Bora: ‘যার পাশে মানুষ থাকে, তার মঞ্চ লাগে না’, নেহা বোরাকে নিয়ে দিলীপের বার্তা
মাইক বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ?
মসজিদের মাইক ইস্যু তাই শুধু ধর্মীয় বা প্রশাসনিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে রাজনীতিও। সিদ্দিকুল্লাহর পথে নামা এবং তার পাল্টা দিলীপ ঘোষের আক্রমণ দুই ঘটনাই দেখিয়ে দিচ্ছে, এই ইস্যু আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব পেতে পারে। এখন দেখার, মাইক বিতর্ক শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে থামে, নাকি তা নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের রূপ নেয়।



