Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: এসিএল টু-র মঞ্চে ঘরের জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal vs Al-Shorta)। ঘরের মাঠে ইরাকের শক্তিশালী ফুটবল ক্লাব আল শোর্তার বিরুদ্ধে দারুণ লড়াই করেও শেষপর্যন্ত ৩-২ গোলে পরাজয় স্বীকার করতে হলো লাল-হলুদ শিবিরকে। ম্যাচে দু-দু’বার এগিয়ে গিয়েও এবং জয়ের একাধিক সুযোগ তৈরি করেও শেষরক্ষা হলো না। ম্যাচের প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে কার্যত তছনছ করে দিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র তিন মিনিটের আত্মতুষ্টি ও বাজে ফুটবল লাল-হলুদের ঐতিহাসিক জয়ের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিল।
ডেভিডের দাপট (East Bengal vs Al-Shorta)
ইরাকি প্রতিপক্ষ আল শোর্তা নামিয়েছিল বিশ্বকাপার গোলরক্ষক সহ মোট সাতজন বিদেশি ফুটবলার। প্রতিপক্ষের এমন শক্তিশালী স্কোয়াডের সামনে দাঁড়িয়ে ইস্টবেঙ্গলের অভিজ্ঞ স্প্যানিশ কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস এক চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নেন। এডমুন্ড ও ডেভিডের মতো ভারতীয় তরুণ ফুটবলারদের ওপর ভরসা করেন। তাদের রেখেই আক্রমণ সাজান তিনি। সম্প্রতি আইএফএ শিল্ড ফাইনালে ডেভিডকে বসিয়ে রাখার কারণে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল হাবাসকে, তবে ম্যাচের শুরুতেই স্পষ্ট হয়ে যায় কোচের পরিকল্পনা। প্রথমার্ধের ৮ মিনিটেই ডানপ্রান্ত থেকে আসা বল নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এক বিশ্বমানের গোলে দলকে ১-০ এগিয়ে দেন ডেভিড। প্রথমার্ধজুড়েই আল শোর্তার রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছিলেন তিনি।

সুযোগ নষ্টের মাশুল (East Bengal vs Al-Shorta)
খেলার গতির বিপরীতে গিয়ে ১৪ মিনিটের মাথায় সমতা ফেরায় আল শোর্তা। তবে লাল-হলুদের আক্রমণে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। ৪০ মিনিটের মাথায় ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি করেন সেই ডেভিড। রশিদ আবদুর রহমানের অসাধারণ একটি ব্যাকফ্লিক থেকে আদর্শ স্ট্রাইকারের মতো বল জালে জড়িয়ে ইস্টবেঙ্গলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। প্রথমার্ধেই গোলের ব্যবধান অন্তত ৪-১ বা ৫-১ হতে পারত। কিন্তু ডেভিড নিজে যেমন দুটি নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া করেন, তেমনই এডমুন্ড ও রামিরেজ গোল করার মতো সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন। এই অপরিসীম সুযোগ নষ্টের মাশুল যে দ্বিতীয়ার্ধে গুণতে হতে পারে, সেই আশঙ্কা তখনই উঁকি দিচ্ছিল লাল-হলুদ সমর্থকদের মনে।
হাতছাড়া জয় (East Bengal vs Al-Shorta)
বিরতির পর মাঠের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। প্রথমার্ধের সেই ছন্দময় ও আক্রমণাত্মক ইস্টবেঙ্গলকে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আচমকা অগোছালো দেখায়। এই সুযোগটিই পুরোদমে কাজে লাগায় ইরাকি ক্লাবটি। ৫১ মিনিটে আল সায়েদির গোল এবং তার ঠিক দুই মিনিট পর ৫৩ মিনিটে ফিডেলস কুকুর গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আল শোর্তা। লাল-হলুদ গোলরক্ষক প্রভসুখান গিল দ্বিতীয় গোলটি প্রতিহত করতে পারতেন বলে মত ফুটবল বিশেষজ্ঞদের। এই তিন মিনিটের অমার্জনীয় ভুল ও আত্মবিশ্বাসের অভাব প্রথমার্ধের সমস্ত সাফল্যকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন: Rishabh Pant: ছিটকে গেলেন ঋষভ পন্থ, চোট কতটা গুরুতর?
১০ জনের আল শোর্তা (East Bengal vs Al-Shorta)
পিছিয়ে পড়ার পর ইস্টবেঙ্গল সমতা ফেরানোর একাধিক চেষ্টা চালায় (East Bengal vs Al-Shorta)। ম্যাচের ৭৭ মিনিটের মাথায় আল শোর্তার একজন ফুটবলার লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে প্রতিপক্ষ ১০ জনে নেমে আসে। ম্যাচ ফেরা এবং জয়ের জন্য ইস্টবেঙ্গলের সামনে পর্যাপ্ত সময় ছিল, কিন্তু পিছিয়ে পড়ার ধাক্কায় ফুটবলারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের চরম অভাব পরিলক্ষিত হয়। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত শত চেষ্টা সত্ত্বেও আর আল শোর্তার প্রতিরোধ ভাঙা সম্ভব হয়নি। প্রথমার্ধের রূপকথার মতো খেলা সত্ত্বেও ৩-২ গোলের এই পরাজয় লাল-হলুদ সমর্থকদের মনে দীর্ঘদিন এক গভীর আক্ষেপ হয়ে থাকবে।



