Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সম্প্রতি সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলিতে চালু হয়েছে ইউজিসির নয়া বিধি ‘প্রোমোশন অফ ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশন আইন, ২০২৬’ (Dharmendra Pradhan)। আইনটির ঘোষিত উদ্দেশ্য একেবারেই স্পষ্ট সমাজের সমস্ত স্তরের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সমান, নিরাপদ ও সম্মানজনক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা। কিন্তু সেই সদিচ্ছার মধ্যেই জন্ম নিয়েছে তীব্র বিতর্ক, রাজনৈতিক সন্দেহ এবং সামাজিক বিভাজনের আশঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর কণ্ঠে ছিল আশ্বাসের সুর “কোনও বৈষম্য থাকবে না, কেউই এই আইনের অপব্যবহার করতে পারবে না।” তবুও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে এই আইন ঘিরে এত বিতর্ক কেন?

নতুন আইনের মূল উদ্দেশ্য কী? (Dharmendra Pradhan)
‘প্রোমোশন অফ ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশন আইন, ২০২৬’-এর মূল লক্ষ্য হল, ধর্ম, জাতি, লিঙ্গ, ভাষা বা সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য রোধ, প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে সামাজিকভাবে আরও সংবেদনশীল করে তোলা, ইউজিসির তথ্য বলছে, এই পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল বলেই। কারণ গত পাঁচ বছরে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ বেড়েছে ১১৮.৪%। ২০১৯-২০ সালে যেখানে অভিযোগ ছিল ১৭৩টি, সেখানে ২০২৩-২৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭৮-এ। এই পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।
সুরক্ষা না কি নজরদারি? (Dharmendra Pradhan)
নয়া বিধি অনুযায়ী, প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি করে ‘সুযোগ-সাম্য কেন্দ্র’ (Equity Centre) গঠন বাধ্যতামূলক। এই কেন্দ্রগুলির কাজ হবে, বৈষম্যের অভিযোগ গ্রহণ ও প্রাথমিক অনুসন্ধান, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়, স্থানীয় সমাজমাধ্যম ও নাগরিক সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ, এই জায়গাতেই বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু। সমালোচকদের একাংশের দাবি, শিক্ষাঙ্গনে পুলিশ ও প্রশাসনের এই সরাসরি সংযুক্তি একধরনের নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে, যা শিক্ষার স্বাধীন পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

‘উচ্চবর্ণ বিরোধী’ অভিযোগের সূত্রপাত (Dharmendra Pradhan)
আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকেই সোশাল মিডিয়া ও ইউটিউব জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এক বিশেষ দাবি এই আইন নাকি আদতে ‘উচ্চবর্ণ বিরোধী’। কয়েকজন প্রভাবশালী ইউটিউবার ও ধর্মীয় বক্তা দাবি করেন, এই আইনের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীকে টার্গেট করা হচ্ছে। এই বিতর্ক আরও চরমে ওঠে, যখন স্বামী আনন্দ স্বরূপ একটি ভিডিওয় তথাকথিত “উচ্চবর্ণ সমাজ”-কে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। এর পরই সোশাল মিডিয়ায় ট্রেন্ড করতে শুরু করে #ShameonUGC।
আরও পড়ুন: Bank: ধাক্কা ব্যাঙ্কিং পরিষেবায়, ৫ দিনের কাজের দাবিতে ডাক ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য: আশ্বাস ও সতর্কতা
এই উত্তপ্ত আবহে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “এই আইন কোনও শ্রেণি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। এটি বৈষম্যের বিরুদ্ধে। কেউ আইনের অপব্যবহার করতে পারবে না, সেটাও সরকার নিশ্চিত করবে।” মন্ত্রী আরও বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখা হবে এবং কোনও অভিযোগ যাচাই না করে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।



