Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইথিওপিয়ার হেইলি গুব্বি আগ্নেয়গিরি প্রায় ১২ হাজার বছর পর হঠাৎই সক্রিয় হয়ে উঠেছে (Ethiopian Volcanic)। রবিবার থেকে শুরু হওয়া সেই আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত এখন কেবল ইথিওপিয়ার সীমান্তে আটকে নেই তার ছাই ভেসে এসে ঢেকে দিচ্ছে ভারতের উত্তর-পশ্চিম আকাশও। হরিয়ানা, দিল্লি, রাজস্থান, গুজরাট সব জায়গাতেই মিলছে আগ্নেয়গিরির ছাই এবং তার সঙ্গে বিষাক্ত সালফার ডাই অক্সাইড (SO₂)। ভারতীয় আকাশে এমন পরিস্থিতি একেবারেই বিরল।

আগ্নেয়গিরির ছাই পৌঁছল ভারতে? (Ethiopian Volcanic)
ইথিওপিয়ার রাজধানী আদিস আবাবা থেকে দিল্লির আকাশপথের দূরত্ব প্রায় ৪,500 কিলোমিটার। বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ অগ্নুৎপাতের ফলে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে বিপুল পরিমাণ ছাই, গ্যাস ও ধুলিকণা। পশ্চিম এশিয়ার উপর দিয়ে রেড সি পেরিয়ে এগিয়ে আসে ঘন ছাইয়ের মেঘ। ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ কিমি বেগে উত্তর-পশ্চিম ভারতের দিকে ধেয়ে আসে সেই মেঘ। সোমবার রাত ১১টা থেকে ভারতের আকাশে ধরা পড়ে ছাইয়ের উপস্থিতি। ছাইয়ের স্তরটি রয়েছে ২৫ হাজার–৪৫ হাজার ফুট উচ্চতায় যেখানে যাত্রীবাহী বেশিরভাগ বিমানই নিয়মিত উড়ে।

ফ্লাইটে বিপর্যয়ের সম্ভাবনা (Ethiopian Volcanic)
পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের পরে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA) ভারতের সব এয়ারলাইন্সকে তৎক্ষণাৎ সতর্কতা জারি করেছে। ঝুঁকি কোথায়? ছাইয়ের কণায় থাকা কাচের মতো গলনশীল উপাদান বিমানের ইঞ্জিনে ঢুকে টurbine-কে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ছাইয়ের ধুলো ককপিটের কাচে জমে দৃশ্যমানতা কমাতে পারে। ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ছাই-ঢাকা আকাশপথ সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলতে হবে। কেবিনে ছাই বা গন্ধ টের পেলেই সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট করতে হবে। কোনও অসঙ্গতি বা ইঞ্জিন টেম্পারেচার বেড়ে গেলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ করতে হবে।
মাঝপথে বিমানের পথ পরিবর্তন (Ethiopian Volcanic)
সোমবার এক নাটকীয় ঘটনা ঘটে, কান্নুর থেকে আবু ধাবি যাচ্ছিল ইন্ডিগো-র একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। রেড সি পার হওয়ার পরে ছাইয়ের ঘন স্তর চোখে পড়ে পাইলটের। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিমানটি মধ্যযাত্রাতেই দিক পরিবর্তন করে। নিরাপদে অবতরণ করে আহমেদাবাদে। এমন ঘটনা ইঙ্গিত করছে পরিস্থিতি সাধারণ নয়।
আরও পড়ুন: FIR Against BLO: নয়ডায় ৬০ জন বিএলও-সহ ৭ সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে FIR!
বায়ুর মানে ক্ষতিকর প্রভাব
আগ্নেয় ছাইয়ের সঙ্গে মিশে থাকে, সালফার ডাই অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, ভারী ধাতুর কণা। এর ফলে, শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালা, গলা খুসখুসে ভাব, অ্যাজমা রোগীদের সমস্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে, যেহেতু ছাইয়ের মূল প্রবাহ উচ্চস্তরে রয়েছে, ভূমিপৃষ্ঠে এর প্রভাব তুলনামূলক কম।



