Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নতুন দল কুরাসাওকে উড়িয়ে বিশ্বকাপ শুরু জার্মানির (Germany vs Curacao)।
ফিরল ব্রাজিল স্মৃতি (Germany vs Curacao)
আজকের ম্যাচ ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই ম্যাচের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এমন একটা প্রশ্ন যা সরাসরি ভারতের জন্য। সেই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া গেলেও প্রশ্নটা থেকেই যাবে। সেই প্রশ্নে লেখার শেষে আসছি। আগে এই ম্যাচ কেন ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ সেটার কথায় আসা যাক (Germany vs Curacao)।
ফিফা বিশ্বকাপ চলছে জোরকদমে। এই ম্যাচে একদিকে রয়েছে চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। বিপক্ষে কোনও বড় নাম নয়, সেই দলে রোনাল্ডো বা মেসির মত তারকারা নেই। তাহলে কি আছে? প্রতিপক্ষ ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও, সেখানে তাঁদের আছে দলগত ভারসাম্য, অদম্য জেদ আর ফুটবলের প্রতি ভালবাসা। দুই দলের মধ্যে কাগজে কলমে কে এগিয়ে সেটা বড় প্রশ্ন নয় কারণ সেই অঙ্ক সহজ বরং একটা চোট দ্বীপরাষ্ট্রর ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ সেই দেশের কাছে ঐতিহাসিক এবং ফুটবল বিশ্বে নীরব বিপ্লব।
একদিকে জার্মানির জার্সিতে ইতিহাস গড়ে ফেললেন কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়ের। অবসর ভেঙে ফিরে এসেছেন তিনি। এই নিয়ে নিজের পঞ্চম বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনি আর অন্যদিকে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলে ফেলল কুরাসাও (Germany vs Curacao)।
আরও পড়ুন: Jaishankar Mao: ‘মাও সিনড্রোম’: কেন পশ্চিমী বিশ্ব বারবার একই ভুল করে? প্রশ্ন জয়শঙ্করের
ন্যুয়ের আজ মাঠে নেমেই গড়লেন রেকর্ড। ৭০৯ দিন পর জার্মানির জার্সিতে খেললেন ন্যুয়ের। পাশাপাশি জার্মানির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে জাতীয় দলের ম্যাচ খেলার নতুন রেকর্ডও গড়লেন তিনি।
তবে এই ম্যাচ ছিল কুরাসাওয়ের জন্য ঐতিহাসিক। এই জায়গার জনসংখ্যা মাত্র দেড় লাখ আর আজ তাঁরা ফুটবলের শ্রেষ্ঠ মঞ্চে। একদিকে ২১ বার বিশ্বকাপ খেলাম জার্মানি আর অন্যদিকে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলাম কুরাসাও।
তবে এবার আজকের ম্যাচে আসা যাক। আজ একটা দল খাতায় কলমে এবং বাস্তবে যে কতটা এগিয়ে সেটা বুঝতে তেমন কোনও বিশ্লেষক বা ফেলুদা হতে হবে না কারণ সেটা আগে থেকেই অনুমান করা সম্ভব। তবে ফুটবলপ্রেমীরা তাকিয়ে ছিল জার্মানি কত ব্যবধানে জেতে এবং প্রথম ম্যাচ হিসেবে কুরাসাও কতটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারে জার্মানিকে (Germany vs Curacao)।
তবে এবার আজকের ম্যাচে আসা যাক। আজ একটা দল খাতায় কলমে এবং বাস্তবে যে কতটা এগিয়ে সেটা বুঝতে তেমন কোনও বিশ্লেষক বা ফেলুদা হতে হবে না কারণ সেটা আগে থেকেই অনুমান করা সম্ভব। তবে ফুটবলপ্রেমীরা তাকিয়ে ছিল জার্মানি কত ব্যবধানে জেতে এবং প্রথম ম্যাচ হিসেবে কুরাসাও কতটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারে জার্মানিকে।
একদিকে চারবার বিশ্বকাপ জেতা দল আর অন্যদিকে ফিফার ক্রমতালিকায় ৮২-তে থাকা দল। একদিকের দলে এমন সব প্রাক্তনদের নাম আসে যা শুনলে আজও ফুটবলপ্রেমীরা নস্টালজিক হয়ে পড়েন এবং ভেসে যান আবেগে। আর অন্যদিকে প্লেয়ার তো দুরস্ত দেশটার নামই প্রথম শুনল হয়ত অনেকে। এরপরেও এই ম্যাচ ঘিরে ছিল আলাদাই উন্মাদনা। এই ম্যাচ কুরাসাও-র জন্য ঐতিহাসিক হয়ে থাকল, যতই ৭ গোল খাক তবু এখান থেকে যে অন্য এক অভিযানের সূচনা হল না সেটা কেউ হলপ করে বলতে পারবে না।
খেলার শুরুর থেকেই খেলার ছবি স্পষ্ট। জার্মানির দখলে ম্যাচ এবং বল। কার্যত বিপক্ষকে দাঁড়াতেই দেয়নি জার্মানরা। এই ম্যাচে যে গোলের বন্যা বইবে সেটা স্পষ্ট হয়ে যায় রেফারির বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে। প্রথম ছয় মিনিটে আসে জার্মানির প্রথম গোল। এরপর কুরসাও একটি গোল শোধ করে। কিন্তু লাভের লাভ কিছু হয়নি। একের পর এক বল জার্মানরা জড়িয়ে দেন কুরুসাও-র গোলে। ৭-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে জার্মানরা বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেন।
২০১৪ সালে ব্রাজিল ম্যাচের স্মৃতি ফিরে এল এই ম্যাচে। তবে এবার লেখার শুরুতে যে প্রশ্নের কথা বলেছিলাম ভারতের সঙ্গে যুক্ত সেই প্রসঙ্গে আসি। ভারতে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার সমর্থক দেখা যায় কিন্তু ভারত আজ পর্যন্ত যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি বিশ্বকাপের। একদিকে যখন কুরাসাও-র মত ছোট দেশও জান লড়িয়ে বিশ্বকাপ খেলছে সেখানে ভারত দিন ক্রমতালিকায় পিছিয়ে যাচ্ছে। ভারতের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও অর্ধেক না যে দেশের সেই দেশের বিশ্বকাপ খেলা হল কিন্তু ভারতের কবে হবে? প্রশ্নগুলো থাকবে কিন্তু উত্তর কবে মিলবে সেটা ভাগ্য দেবতাই জানেন (Germany vs Curacao)।


