Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার আকাশে যখন শীতের হিমেল আমেজ ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে, তখনই রাজ্য বিধানসভায় (West Bengal Assembly) একের পর এক রহস্যময়-কাণ্ড। নিরাপত্তারক্ষীদের একাংশের দাবি, পুজো ও দীপাবলির ছুটির পর থেকে বিধানসভা ভবনের দোতলায় নাকি রাতে ‘অশরীরী উপস্থিতি’ টের পাওয়া যাচ্ছে! শোনা যাচ্ছে অচেনা পায়ের আওয়াজ, কক্ষে দরজার কটাকট শব্দ, কখনও বা হালকা নিশ্বাসের মতো আওয়াজ। কেউ কেউ তো দাবি করছেন, বিজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে পরিচিত এক কক্ষের সামনে নাকি বিশেষ এক ‘অদৃশ্য উপস্থিতি’ অনুভূত হচ্ছে!
বিধানসভা ভবন ব্রিটিশ আমলের প্রাচীন স্থাপত্য। সাধারণত রাতে ভবনের ভিতরে কেউ থাকেন না। বাইরে মোতায়েন থাকেন নিরাপত্তারক্ষীরা। কিন্তু এই কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁদের একাংশের ঘুম উড়ে গেছে। তাঁদের দাবি, টানা বন্ধ থাকার পর ভবনের ভেতরে যেন কিছু ‘বদলে’ গেছে। রাতে আনাগোনা শুরু হয়েছে অজানা কিছু শক্তির।
আরও পড়ুন:Cyclone Mantha Effect: মন্থার প্রভাব অব্যাহত, উত্তরবঙ্গে লাল সতর্কতা জারি, দক্ষিণেও চলবে বৃষ্টি
অবশ্য সবাই এই ভূতুড়ে তত্ত্বে বিশ্বাস করছেন না। বিধানসভা ভবনের (West Bengal Assembly) নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের একাংশ বলছেন, “বেশিরভাগ সময় আলো নিভিয়ে রাখা হয়, তাই ইঁদুর, ভামবিড়াল, ছুঁচো বা বাদুড়ের চলাফেরায় নানা রকম শব্দ শোনা স্বাভাবিক। এসবকেই অনেকে ভূত বলে ভুল করছেন।”
অধ্যক্ষের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা (West Bengal Assembly)
স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিষয়টিকে মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর কথায়, “বিধানসভা বিশাল জায়গা। এত বড় ফাঁকা ভবনে রাতে দু’একজন থাকলে ভয় পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। সেটা ভূতের চাপ কি না, বলা কঠিন।”
তবে রাজ্যের রাজনীতিতে ভূতের গল্প নতুন কিছু নয়। প্রাক্তন মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় নিজে একাধিকবার দাবি করেছিলেন, তিনি মহাকরণে ভূত দেখেছেন। জরুরি অবস্থার সময় গভীর রাতে কাজ করার সময় নাকি এক মৃত পুলিশ কনস্টেবলের আত্মাকে তিনি দেখেছিলেন! সেই ঘটনার পর সুব্রতবাবু নাকি রাতের পর আর একা অফিসে থাকতেন না, এমনকি আলো নিভিয়েও ঘুমোতেন না। প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নানও বলেছেন, “সুব্রতদা আর সোমেনদা— দু’জনেই ভূতের ভয় পেতেন।” তবে মান্নান নিজে ২৫ বছর বিধায়ক থেকেও কখনও ভূতের দেখা পাননি।
আরও পড়ুন:রাজ্যে ‘SIR’ নিয়েও জল গড়াল আদালতে, কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা
রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি গবেষকরাও মত দিয়েছেন এই নিয়ে। ভূত-বিশেষজ্ঞ হরিপদ ভৌমিকের মতে, “ভূতের অস্তিত্ব থাকতে পারে, কিন্তু তার জন্য বিশেষ পরিবেশ লাগে— আলো-আঁধারি, এঁদো পুকুর, শ্যাওড়া গাছ (West Bengal Assembly)। আধুনিক কলকাতায় এমন পরিবেশ প্রায় বিলুপ্ত।” যদিও তিনি নিজে কোনোদিন ‘তেনাদের’ দেখা পাননি।
অন্যদিকে প্রাক্তন বিধায়ক নির্বেদ রায় এই গুঞ্জনকে একেবারেই গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, “সব বোগাস! এসব গল্প বানিয়ে ভয় পাওয়ানো বা নাইট ডিউটি এড়ানোর ছুতো।” রসিক বিরোধী রাজনীতিকরাও ছাড় দিচ্ছেন না। কারও কটাক্ষ, “এই রাজ্যে ভূতও নেই, ভবিষ্যৎও নেই!”
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— পুজোর ছুটির পর থেকে যে অচেনা শব্দ, অদ্ভুত অনুভূতি, তা কি নিছক মানসিক ভ্রম? না কি সত্যিই বিধানসভা ভবনের দেয়ালের ফাঁকে লুকিয়ে আছে কোনো অদৃশ্য শক্তি? কলকাতার পুরনো প্রাসাদ-সম ভবনগুলোতে ভূতের গল্প নতুন নয়। কিন্তু এবার সেই রহস্য ঢুকে পড়েছে রাজ্যের গণতন্ত্রের হৃদয়ে— বিধানসভা ভবনের (West Bengal Assembly) দোতলায়। এখন দেখা যাক, এই ‘অশরীরী আতঙ্ক’ কত দূর গড়ায়— কল্পনার সীমা পেরিয়ে বাস্তবেও কি ‘তেনারা’ কখনও মুখ দেখান?


