Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চৈত্র শেষের দহনজ্বালাতেই পুড়ছে দক্ষিণবঙ্গ। পঞ্জিকা মতে বৈশাখের শুরুতেই প্রকৃতির মেজাজ রীতিমতো অগ্নিশর্মা। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে অস্বস্তিকর গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার দাপট আরও বাড়তে চলেছে। মূলত বায়ুমণ্ডলের নিম্ন স্তরে শুষ্ক পশ্চিমা ও উত্তর-পশ্চিমা বাতাসের দাপটেই পুড়ছে বাংলা (Heat Wave)।
তাপমাত্রার পারদ চড়বে আরও ২-৩ ডিগ্রি (Heat Wave)
আবহাওয়া দফতর (Alipore Weather Office) জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা আরও ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। পরবর্তী চার দিন তাপমাত্রার বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকলেও প্যাচপ্যাচে গরম ও ঘামজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পশ্চিম বর্ধমানে আগামী ১৪ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত চরম গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া বজায় থাকবে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কোথায় মিলবে বৃষ্টির স্বস্তি?
প্রচণ্ড গরমের (Heat Wave) মাঝেই কিছুটা স্বস্তির খবর শুনিয়েছে হাওয়া অফিস। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের কিছু অংশে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে ১৫ ও ১৬ এপ্রিল হালকা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির (Heavy Rain) সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে বীরভূম, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামে ৪০-৫০ কিমি বেগে কালবৈশাখীর মতো ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: Love Shock: হাসলে যে মিষ্টি করে… প্রেমিকার হাসির দাম মেটাতে নাজেহাল যুবক
উত্তরের পাহাড়ি জেলাগুলোতে বৃষ্টির দাপট বেশি থাকবে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে আগামী কয়েক দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর-পূর্ব উত্তরপ্রদেশ থেকে মণিপুর পর্যন্ত একটি পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখা (East-West trough) বিস্তৃত রয়েছে। এটি বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে যাওয়ায় উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি হলেও, দক্ষিণবঙ্গে শুষ্ক পশ্চিমা বাতাসের প্রভাবে গরম ও অস্বস্তি কমছে না (Heat Wave)।
আরও পড়ুন: Sandeshkhali: স্বাধীনতার পর প্রথম আদিবাসী মহিলা প্রার্থী
প্রখর রোদে হিট-স্ট্রোক বা অসুস্থতা এড়াতে চিকিৎসকরা বিশেষ কিছু সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন:
- ১. সরাসরি রোদ এড়ান: সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত খুব প্রয়োজন না থাকলে রোদে বেরোবেন না।
- ২. হাইড্রেটেড থাকুন: পিপাসা না পেলেও পর্যাপ্ত জল, ডাবের জল বা ওআরএস পান করুন।
- ৩. বিশেষ নজর: শিশু ও বয়স্কদের এই গরমে ঘরের বাইরে বের হতে দেবেন না।
- ৪. বজ্রপাত থেকে সাবধান: মেঘ ডাকলে বা বজ্রপাত শুরু হলে ফাঁকা মাঠে না থেকে দ্রুত কোনো পাকা বাড়ির নিচে আশ্রয় নিন।


