Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বলিউডের ইতিহাসে এমন বহু প্রেমের গল্প আছে যা যুগের পর যুগ আলোচিত (Hema Malini)। তবে ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর সম্পর্ক যে বিতর্ক, ভালোবাসা ও সম্মানের মিশেলে তৈরি তা আজও দর্শকদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে তারকা খ্যাতির শিখরে থাকা দুই সুপারস্টার, অন্যদিকে একটি প্রতিষ্ঠিত সংসার এই জটিল সমীকরণ সময়ে সময়ে উথাল-পাথাল সৃষ্টি করেছে চলচ্চিত্র দুনিয়ায়।

“ধর্মেন্দ্র একজন নিখুঁত স্বামী নন…” (Hema Malini)
ধর্মেন্দ্র যখন হেমা মালিনীকে বিয়ে করেন, তখন তাঁর প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর ছিলেন চার সন্তানের জননী। সেই সময় গণমাধ্যমে প্রকাশের প্রতিক্রিয়া ছিল আলোড়ন তোলা। স্টারডাস্টকে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, “ধর্মেন্দ্র একজন নিখুঁত স্বামী নন, কিন্তু তিনি একজন চমৎকার বাবা। হেমাজি খুবই সুন্দরী; যে কোনও পুরুষই তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হবে।” প্রকাশের এই বক্তব্যে ছিল কষ্টের ছাপ, কিন্তু ছিলেন না আক্রমণাত্মক। বরং তাঁর ভাষায় ছিল স্বামীর প্রতি বাস্তবিক মূল্যায়ন এবং হেমা মালিনীর প্রতি সৌন্দর্যের স্বীকৃতি।
বিতর্কের মধ্যে ১৯৮০ সালের বিয়ে (Hema Malini)
১৯৮০ সালে ধর্মেন্দ্র–হেমা মালিনীর বিয়ে ছিল তৎকালীন বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। কারণ: ধর্মেন্দ্র তখনও প্রকাশ কৌরের সঙ্গে বিবাহিত, তাঁর চার সন্তানের দায়িত্ব ছিল, হেমার জনপ্রিয়তা তখন শীর্ষে এই বিয়ে সমাজে এবং শিল্পীমহলে প্রচুর সমালোচনার জন্ম দেয়। একইসঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে তৈরি হয় দূরত্ব, অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তা।

প্রকাশ ও হেমার নীরব দূরত্ব (Hema Malini)
ধর্মেন্দ্র হেমাকে বিয়ে করলেও প্রকাশ ও হেমার মধ্যে কখনও বন্ধুত্ব বা সৌহার্দ্য তৈরি হয়নি। প্রকাশ কৌর দূরত্ব বজায় রাখেন, আর হেমা মালিনীও তা সম্মান করেন। তাঁদের আগে কিছুবার দেখা হলেও বিয়ের পর থেকে দু’জনই আলাদা পথে চলার সিদ্ধান্ত নেন। হেমা কখনও প্রথম পক্ষের পরিবারে হস্তক্ষেপ করেননি। তাঁদের সমস্যাকে তিনি সম্মান করতেন এবং ধর্মেন্দ্রের প্রথম সংসারের প্রতি সচেতন সংবেদনশীলতা বজায় রেখেছিলেন।
“আমি কখনও তাদের বিরক্ত করিনি” (Hema Malini)
১৯৯৯ সালে সিমি গারেওয়ালের অনুষ্ঠানে হেমা মালিনী প্রথমবার নিজের অনুভূতির কথা খোলামেলা বলেন। তাঁর কথায়, “যখন তুমি কাউকে এত ভালবাসো এবং বিনিময়ে এত ভালবাসা পাও, তখন ছোট ছোট বিষয় নিয়ে তাকে কেন বিরক্ত করবে? আমি কখনও তাদের বিরক্ত করিনি। আমি তাদের সমস্যাগুলি বুঝেছি।” হেমার এই বক্তব্যে বোঝা যায়, তিনি ধর্মেন্দ্রকে ভালোবেসেছেন, কিন্তু সেই ভালোবাসার বিনিময়ে অন্য কারও পরিবারে আঘাত দিতে চাননি।

‘তুম হাসিন ম্যায় জওয়ান’-এ রসায়ন (Hema Malini)
ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর প্রেমের গল্প শুরু হয়েছিল পর্দায়। তুম হাসিন ম্যায় জওয়ান ছবিতে তাঁদের অন-স্ক্রিন রসায়ন দেখে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, পর্দার chemistry নাকি বাস্তবেও প্রেমে রূপ নিচ্ছে, শোনা যায় ‘শোলে’–র বীরু চরিত্রটি হেমার কাছাকাছি থাকার জন্য ধর্মেন্দ্র নিজেই নিতে চেয়েছিলেনএই গল্পগুলো মিডিয়ায় আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। বলিউডের আলোচনায় নিয়মিত ছিল তাঁদের প্রেম, দূরত্ব, পরিবার–সবকিছু।
আরও পড়ুন: Jaishankar : জীবাণু অস্ত্রের অপব্যবহার আশঙ্কা অযৌক্তিক নয়: সতর্কতা জয়শঙ্করের
এক প্রেম, দুই সংসার
সত্তর ও আশির দশকের ফিল্ম ম্যাগাজিনগুলোতে ধর্মেন্দ্র–হেমার সম্পর্ক ছিল শিরোনাম দখল করা বিষয়। একদিকে জনপ্রিয় নায়ক–নায়িকার প্রেম অন্যদিকে একজন স্ত্রীর অসন্তোষ, চার সন্তানের ভবিষ্যৎ, দুটো ভিন্ন সংসারের টানাপোড়েন, এই জটিল আবহ পুরো সম্পর্কটিকে করে তুলেছিল আরও আলোচিত।



