Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি ও সামরিক কাঠামোর প্রসঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চরিত্র, নীতি ও সামাজিক বৈচিত্র্য দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয় (Pakistan Army) । সাধারণ ধারণায় এটিকে একটি ধর্মভিত্তিক প্রভাবাধীন প্রতিষ্ঠান বলা হলেও, বাস্তব পরিস্থিতির বিভিন্ন স্তর রয়েছে। সেই স্তরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত হিন্দুদের উপস্থিতি।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে হিন্দুদের উপস্থিতি (Pakistan Army)
২০২২ সালে পাকিস্তানের সংসদে প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছিলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদে ২০০ জনেরও বেশি হিন্দু সদস্য কর্মরত আছেন। তবে, এই সংখ্যা দেশের জনসংখ্যায় হিন্দুদের অনুপাতের তুলনায় অত্যন্ত কম। ২০২৩ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যা: ২৪.৭৫ কোটি, হিন্দু জনসংখ্যা: প্রায় ৫২ লক্ষ (২.১৭%) এই হিসেবে দেখা যায়, সেনাবাহিনীতে হিন্দুদের প্রতিনিধিত্ব জনসংখ্যার অনুপাতের তুলনায় অনেক নিম্ন।
সংখ্যা এত কম কেন? (Pakistan Army)
পাকিস্তানে হিন্দু সংখ্যালঘুরা নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। সেনাবাহিনীতে হিন্দুদের সংখ্যা কম থাকার কয়েকটি মূল কারণ হলো,
১. ধর্মীয় বৈষম্য ও সামাজিক বাধা
দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ধর্মীয় বৈষম্য ও সামাজিক চাপের মুখে রয়েছে। ফলে সেনাবাহিনীর মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে যোগদান অনেকের কাছে অনিরাপদ বা নিরুৎসাহিত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
২. নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধতা
সংখ্যালঘুদের জন্য সুযোগ সীমিত হওয়ায় যোগদান কঠিন হয়ে পড়ে। সেনাবাহিনী মূলত পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনখোয়া—এই মুসলিম-প্রধান অঞ্চল থেকে বেশি নিয়োগ করে।
৩. আইনগত নিষেধাজ্ঞার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
২০০০ সালের আগ পর্যন্ত হিন্দুদের পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার অনুমতি ছিল না।
সংস্কারের পর সুযোগ তৈরি হলেও সমাজ–রাজনৈতিক বাধা রয়ে গেছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রথম হিন্দু অফিসার (Pakistan Army)
পাকিস্তানের সামরিক ইতিহাসে প্রথম হিন্দু অফিসার হলেন ক্যাপ্টেন দানিশ, যিনি ২০০৬ সালে সেনাবাহিনীতে ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন। এটি ছিল সংখ্যালঘুদের জন্য নিয়োগ উন্মুক্ত হওয়ার প্রায় পাঁচ বছর পর। পরবর্তী সময়ের উল্লেখযোগ্য হিন্দু অফিসারদের মধ্যে রয়েছেন,
- মেজর (ড. কৈলাস কুমার)
- মেজর (ড. অনিল কুমার)
যারা ২০২২ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন।
ধর্মীয় জনসংখ্যা ও তার প্রভাব (Pakistan Army)
পাকিস্তানের ধর্মীয় জনসংখ্যা কাঠামো, মুসলিম: ৯০% এর বেশি, হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান: ক্ষুদ্র সংখ্যালঘু, হিন্দুরা দেশের মাত্র ১.১৮% থেকে ২.১৭% জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে (বিভিন্ন তথ্যসূত্র অনুযায়ী) এই ধর্মীয় জনসংখ্যা কাঠামোর প্রভাব সেনাবাহিনীর গঠনেও স্পষ্ট।
আরও পড়ুন: Donald Trump: অভিবাসন নীতি নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প
পরিবর্তনের ইঙ্গিত?
যদিও সংখ্যা কম, পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে হিন্দু অফিসারদের উপস্থিতি একটি ধীর পরিবর্তনের সংকেত। ৬ লক্ষেরও বেশি সক্রিয় ও রিজার্ভ সদস্যবিশিষ্ট পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপস্থিতি বাড়া, বৈচিত্র্যের অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির দিকেই এক ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যেতে পারে।



