Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বড়দিন বা ক্রিসমাস বিশ্বজুড়ে খ্রিস্টানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও এটি আজ ধর্মসীমার অনেক দূর ছাড়িয়ে একটি সর্বজনীন উদযাপনে পরিণত হয়েছে (Christmas 2025)। প্রতি বছর ২৫ ডিসেম্বর দিনটি যিশুখ্রিস্টের জন্মোৎসব হিসেবে পালন করা হয়। অথচ বাইবেলের কোথাও যিশুর প্রকৃত জন্মতারিখের উল্লেখ নেই। ইতিহাস, বিশ্বাস, নানা সংস্কৃতির মিশ্রণ ও ক্যালেন্ডার সংস্কারের মাধ্যমে এই তারিখের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। বড়দিনের এই যাত্রাই একদিকে যেমন ধর্মীয়, তেমনি অন্যদিকে সাংস্কৃতিক বিবর্তনের এক আকর্ষণীয় অধ্যায়।

যিশুর জন্মতারিখ (Christmas 2025)
বাইবেলে যিশুর জন্মস্থানের বর্ণনা পাওয়া গেলেও জন্মতারিখ নির্দিষ্ট করে উল্লেখ নেই। প্রচলিত মতে, ২৪ ডিসেম্বর রাতে বেথেলহেমের এক গোশালায় মা মেরীর কোলে জন্ম নেন যিশু। তিনি পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন মানবজাতিকে হিংসা, বৈরিতা ও পাপের অন্ধকার থেকে মুক্ত করতে। তবে গবেষকদের একাংশ মনে করেন যিশুর জন্ম প্রকৃতপক্ষে খ্রিস্টাব্দ শুরুর এক বছর আগেই হয়েছিল। প্রথম বড়দিন কবে পালিত হয়েছিল, তা নিয়েও মতভেদ রয়েছে। অনুমান করা হয়, ৩৩৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট কনস্ট্যানটাইনের আমলে প্রথম বড়দিন আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হয়। পরবর্তীতে পোপ জুলিয়াস ঘোষণা করেন যে ২৫ ডিসেম্বর-ই হবে যিশুর জন্মোৎসব।

জুলিয়ান বনাম গ্রেগরিয়ান (Christmas 2025)
বড়দিনের তারিখ নিয়ে আরেকটি জটিলতা সৃষ্টি হয় ক্যালেন্ডার সংস্কারের কারণে। অধিকাংশ দেশ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করলেও বহু অর্থোডক্স ও কপ্টিক চার্চ আজও জুলিয়ান ক্যালেন্ডার মানে। ফলে রাশিয়া, জর্জিয়া, আর্মেনিয়া ও মিশরের খ্রিস্টানরা ৭ জানুয়ারি বড়দিন পালন করেন। এই পার্থক্যই বড়দিনের তারিখ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিতর্ককে আরও বিস্তৃত করেছে।

বড়দিনের তারিখ নির্ধারণ! (Christmas 2025)
অনেকে মনে করেন, প্রাচীন রোমানরা যেহেতু প্রকৃতি ও সূর্যের পূজারি ছিলেন, তাই তাদের শীত উৎসব ‘Sol Invictus’-এর সঙ্গে মিল রাখতে ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন উদযাপন শুরু হয়। কারণ এই সময় সূর্যের উত্তরায়ণ শেষ হয়ে দিন বড় হতে থাকে, যা নতুন আলোর আগমনকে চিহ্নিত করে। কিন্তু ইতিহাস এ দাবি পুরোপুরি সমর্থন করে না। প্রথম যুগের খ্রিস্টানরা পেগান ধর্মীয় আচার থেকে নিজেদের পৃথক রাখতে চেয়েছিলেন। বরং বড়দিনের ২৫ ডিসেম্বর উদযাপনের পেছনে রয়েছে একটি ধর্মতাত্ত্বিক হিসেব, রোমান পঞ্জিকা অনুযায়ী ২৫ মার্চ মেরী দেবদূত গ্যাব্রিয়েলের কাছ থেকে যিশুর জন্মের সংবাদ পান এবং একই দিনে যিশু ক্রুশবিদ্ধ হন বলে বিশ্বাস। এই তারিখ থেকে নয় মাস যোগ করলে হয় ২৫ ডিসেম্বর, যা যিশুর জন্মোৎসব হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পায়।
আরও পড়ুন: Christmas Celebration: ক্রিসমাসে বাঙালি কেন পার্ক স্ট্রিটে হেঁটে বেরায়?
কলকাতার ঐতিহাসিক অধ্যায়
ভারতবর্ষে বড়দিনের সূচনা হয় ১৬৬৮ সালে। ধারণা করা হয়, কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা জব চার্নক-ই প্রথম বড়দিন উদযাপন শুরু করেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে কলকাতা, গোয়া ও দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মিশনারিদের হাত ধরে বড়দিনের সাংস্কৃতিক বিস্তার ঘটে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে সূর্যের দক্ষিণায়ন শুরু হওয়া, শীতের প্রকোপ কমা ও দিনের আলো দীর্ঘ হওয়া এই সমস্ত প্রাকৃতিক পরিবর্তনও বড়দিনের উৎসবকে মানুষের কাছে আনন্দের প্রতীক করে তোলে।



