Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভীষণ ক্লান্ত লাগছে নিজেকে? প্রতিদিনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ, দৌড়ঝাঁপ— সব মিলিয়ে যেন জীবনটা যান্ত্রিক হয়ে উঠেছে? এমন সময়ে আমাদের দরকার একটু বিরতি, একটু অন্যরকম অভিজ্ঞতা। সেই বিরতির সেরা ঠিকানা হতে পারে থিয়েটার। তাই বলছি— চলুন, ভালো কিছু নাটক দেখে আসি। কথা দিচ্ছি, নিরাশ হবেন না; বরং নতুন করে ভাবতে শিখবেন (House 54)।

বিশ্বাস— শক্তি না আত্মঘাতী ধারণা? (House 54)
বিশ্বাস— শব্দটা ছোট, কিন্তু এর গভীরতা অসীম। কখনো এটি মানুষের সম্পর্ককে দৃঢ় করে, আবার কখনো তা হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর, আত্মঘাতী। ইতিহাস সাক্ষী, বিশ্বাস এবং বিশ্বাসভঙ্গের গল্প যুগে যুগে মানুষের জীবন ও সমাজকে বদলে দিয়েছে। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের আগে ও পরে ভারতের ইতিহাসে যে বিপুল পরিবর্তন এসেছে, তার মূলে ছিল বিশ্বাস ও বিশ্বাসঘাতকতার জটিল সমীকরণ। কিন্তু এই প্রবণতা শুধু ওই সময়েই সীমাবদ্ধ নয় ইংরেজ শাসনের আগে হোক বা পরে, বাংলা তথা ভারতের ইতিহাসে বিশ্বাসভঙ্গের চোরাস্রোত অনবরত প্রবাহিত। এই চিরন্তন দ্বন্দ্বকেই কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয়েছে ‘হাউস ৫৪ নাট্যউৎসব’, যেখানে তিনটি ভিন্ন সময়ের তিনটি কাহিনির মাধ্যমে তুলে ধরা হবে বিশ্বাস ও বিশ্বাসভঙ্গের গভীর ইতিহাস।
সাম্রাজ্য, কূটনীতি ও বিশ্বাসের বিপর্যয় (House 54)
সময়কাল ১৭৩৯। প্রেক্ষাপট, নাদীর শাহের ভারত আক্রমণ। এই কাহিনিতে উঠে আসে মোহাম্মদ শাহ ও নাদীর শাহের সম্পর্ক, যেখানে বিশ্বাস এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। নাটক— ‘উড়ন্ত তারাদের ছায়া’ এখানে প্রশ্ন ওঠে, ক্ষমতার রাজনীতিতে বিশ্বাস কি আদৌ টিকে থাকতে পারে? নাকি সেটাই হয়ে ওঠে সর্বনাশের কারণ? ইতিহাসের এই অধ্যায় আমাদের দেখায়, বিশ্বাস কখনো কখনো কৌশলের অংশ, আবার কখনো তা মারাত্মক ভুল হিসেবেও ফিরে আসে।

অজ্ঞাত নায়কের বেদনা (House 54)
সময়কাল ১৭৭৮। বাংলার এক অখ্যাত কারিগর, পঞ্চানন কর্মকার। তাঁর হাতে তৈরি হয় বাংলা ভাষার প্রথম মুদ্রণযোগ্য হরফ। ইংরেজ পণ্ডিত হ্যালহেডের ‘এ গ্রামার অফ দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ’ বইয়ের জন্য তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। নাটক— ‘আক্ষরিক’ কিন্তু অবাক করা বিষয়, বই প্রকাশিত হওয়ার পর কোথাও পঞ্চাননের নাম উল্লেখ করা হয় না। তাঁর শ্রম, তাঁর অবদান সবকিছুই যেন ইতিহাসের অন্ধকারে হারিয়ে যায়। এই নাটক শুধুমাত্র একজন মানুষের গল্প নয়; এটি সেইসব অসংখ্য মানুষের প্রতীক, যাদের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তাদের অবদানকে অস্বীকার করা হয়েছে। এখানে বিশ্বাসভঙ্গ নিঃশব্দ, কিন্তু গভীরভাবে বেদনাদায়ক।

বিপ্লব, বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতিশোধ (House 54)
সময়কাল ১৯০৮। আলিপুর বোমা মামলার প্রেক্ষাপটে এক নাটকীয় ঘটনা, বিপ্লবী দলের সদস্য নরেন গোঁসাই হয়ে ওঠেন রাজসাক্ষী। নাটক— ‘প্রথম রাজনৈতিক হত্যা’ নিজের সহযোদ্ধাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার এই সিদ্ধান্তের পরিণতি ভয়াবহ হয়। আলিপুর সেন্ট্রাল জেলের ভেতরেই কানাইলাল দত্ত এবং সত্যেন্দ্রনাথ বসুর গুলিতে শেষ হয় নরেনের জীবন। এই কাহিনি আমাদের সামনে এক কঠিন প্রশ্ন তোলে বিশ্বাসভঙ্গের মূল্য কতটা চড়া হতে পারে? আর সেই বিশ্বাসঘাতকতা কি কখনো ক্ষমার যোগ্য?
নির্দেশকের দৃষ্টিভঙ্গি (House 54)
এই তিনটি নাটকের নাট্যকার ও নির্দেশক দেবাশিস রায়, যিনি সমসাময়িক বাংলা থিয়েটারের এক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে নাট্যকার, নির্দেশক ও নাট্যশিক্ষক। তাঁর নাট্যচর্চার শিকড় রয়েছে পারিবারিক পরিবেশে, তাঁর বাবা কনক রায়ের কাছ থেকেই তিনি নাটকের প্রেরণা পান। মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন তাঁর নিজস্ব নাট্যদল ‘থিয়েটার প্ল্যাটফর্ম’। ‘কাঁকড়া’, ‘মুম্বাই নাইটস’, ‘রাবণ রিলোডেড’, ‘সরলরেখা বক্ররেখা’, ‘নূরজাহান’, ‘ফেরারি ফৌজ’ সহ একাধিক সফল প্রযোজনার মাধ্যমে তিনি বাংলা থিয়েটারে নিজের স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করেছেন। তাঁর নাটকে ইতিহাস শুধুমাত্র পুনরাবৃত্ত হয় না— তা নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে পুনর্জীবিত হয়।

আরও পড়ুন: Ritwick Chakraborty: শাহী উচ্চারণ বিভ্রাট, মজার ছলে কটাক্ষ ঋত্বিকের
আয়োজনের সমস্ত তথ্য
এই তিনটি নাটক নিয়েই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে—
‘হাউস ৫৪ নাট্যউৎসব’
তারিখ: ৪, ৫ ও ৬ জুন
সময়: সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট থেকে
স্থান: একাডেমি মঞ্চ
টিকিট: Thirdbell প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ



