Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ব্রততী সরকার: আগস্ট মাসে দু’জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনার পর, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (আইআইএসসি) এর ক্যাম্পাস জুড়ে একটি সমীক্ষা করা হয় (IISC)। যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে। এই সমীক্ষায় দেখা গায়েছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনর চাপ, আর্থিক সংকট এবং ক্যাম্পাসের সুস্থতা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে।
সমীক্ষার বিষয়বস্তু (IISC)
সমীক্ষাতে ১০৩৫ জন উত্তরদাতার মধ্যে ৮৮ শতাংশ বলেছেন, ক্যাম্পাসে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা তত্ত্বাবধানকারী সংস্থা ওয়েলনেস কমিটিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত। ৬৯ শতাংশ শিক্ষার্থী বলেছেন, স্টুডেন্ট কাউন্সিল একটি সাপ্তাহিক উদ্যোগ হিসাবে “মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সোমবার” নাম একটি আনুষ্ঠানিক সমাবেশের আয়োজন করতে পারে। ৮১ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন , উপস্থিতি ও ছুটির নীতিমালা শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সুবিধাজনক হলে, তা মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করবে এবং ৮০ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা বিশ্বাস করেন, তাঁদের আর্থিক অবস্থা মানসিক কষ্টের কারণ। আরও সহায়তা পেলে তা সহায়ক হবে।
মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি (IISC)
ক্যাম্পাসে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজনগুলোকে শিক্ষার্থীদের ক্রমানুসারে সাজাতে বলা হয়। শিক্ষার্থীরা কাজের পরিবেশের উন্নতিকে শীর্ষে রেখেছে। এরপরেই রাখা হয়েছে বেশি আর্থিক সহায়তা, আর্থিক বোঝা কমানো , শিক্ষার্থী-বান্ধব উপস্থিতি নীতি এবং পড়াশোনার চাপ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিক্ষার্থীদের অধিকতর অংশগ্রহণ, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার ক্ষেত্রে অধিকতর সচেতনতা সহজলভ্যতা এবং স্বচ্ছতা।
অভিযোগ (IISC)
এক গবেষক অভিযোগ করেছেন, আইআইএসসি-তে প্রশাসন নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য শিক্ষার্থীদের উপর কঠোর দমননীতি চালানো হয়। তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো ছাত্রসভা বা সমাবেশের জন্য রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়, যা শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে মিলিত হতে এবং আমাদের সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করতে নিরুৎসাহিত করে। এই কারণেই আমরা পড়াশোনার চাপ, আর্থিক সংকট, বিষাক্ত কর্মপরিবেশ এবং এই ধরণের আরও অনেক সমস্যায় নীরবে ভুগতে থাকি। এমন পরিস্থিতিতে এটা অনিবার্য যে, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়ে দেবে। এবং আইআইএসসি প্রশাসন তা পুরোপুরি বোঝে।
আরও পড়ুন: Nabanna: মানা হচ্ছে না অগ্নি সুরক্ষা বিধি, কলকাতার ৯১৯ হোটেল-গেস্ট হাউস বন্ধের নির্দেশ নবান্নের
সিলিং ফ্যান সরিয়ে ফেলা হয়, ছাদ তালাবন্ধ করে রাখা হয় এবং নতুন হোস্টেল ভবনগুলো আত্মহত্যারোধী করার সচেতন নকশায় তৈরি করা হয়।’ এ ছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, আইআইএসসি তার শিক্ষার্থীদের অনুমতি ছাড়া গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। স্নাতক পর্যায়ের ফি বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে এক শিক্ষার্থী বলেন, আর্থিক সমস্যাও একটি বড় উদ্বেগের কারণ। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘আগে একজন শিক্ষার্থীর চার বছরের কোর্স শেষ করতে প্রায় ৯০,০০০ টাকা খরচ হতো। এখন তা বেড়ে ৫ লক্ষ টাকা হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোই যদি শিক্ষায় উৎসাহ না দেয়, তাহলে লাভটা কী?”



