Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সময়কে ধরে রাখা যদি অতই সহজ হত, তাহলে সময়কে মস্ত বড় হাতিয়ার করা যেত, তাই নয় কি (In Time)? জানেন তো আমরা সময় ধরে রাখতে গিয়ে তার মূল্য বুঝি না, পরে আফসোসে শেষ থাকে না। আক্ষেপের সাগরে ডুবে আমরা অবলীলায় ডুব সাগর দিতে ভুলে যাই। আচ্ছা ঘরের কোনায় ওই যে ডান কিংবা বাদিকের দেয়ালে যে ঘড়িটা আপনি সকাল সন্ধ্যে সময় দেখেন, সেটা যদি হঠাৎ একদিন থেমে যায় তখন একটু ব্যস্ত হয়ে পড়েন তো। মাথার ভিতর চিন্তা ভিড় করে আসে, অনেকটা দেরি হয়ে গেছে সেই ভেবে তাড়াহুড়ো করেন।
সময়ের ভিতর সময়! (In Time)
এবার ভাবুন তো সেই সময় যদি চলে আসে আপনার হাতের মুঠোয়। প্রতিটা সেকেন্ড, প্রতিটা মিনিট, প্রতিটা ঘন্টা, আপনার জীবনের সঙ্গে আষ্টে পৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকে তখন কি হবে! ২০১১ সালের এই চলচ্চিত্র আপনাকে সেই সময়কে বেঁধে রাখার গল্প বলবে। এটি একটি আমেরিকান সায়েন্স ফিকশন অ্যাকশন চলচ্চিত্র। সেখানে দেখা যায় হাতের মধ্যে সময় চলা চল করছে। সেখানে প্রতিটা ব্যক্তির জীবন পর্যালোচনা করছে এই সময়। এটি একটি ডিস্টোবিয়ান সমাজের গল্প, যার কোনো অস্তিত্ব হয়তো নেই। কল্পনা ও বাস্তবের মাঝে একটা দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই সমাজে।
কি আছে এই চলচ্চিত্রে? (In Time)
ইন টাইম হলো ২০১১ সালের একটি আমেরিকান সাইন্স ফিকশন অ্যাকশন চলচ্চিত্র, যা অ্যান্ড্রু নিকল রচনা, সহ-প্রযোজনা এবং পরিচালনা করেছেন। জাস্টিন টিম্বারলেক এবং অ্যামান্ডা সাইফ্রিড একটি ডিস্টোপিয়ান ভবিষ্যতের বাসিন্দা হিসেবে এতে অভিনয় করেছেন, যেখানে সময়কে প্রধান মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা হয়; প্রত্যেক ব্যক্তির বাম হাতের কনুইয়ের নিচে চামড়ার নিচে উল্কির মতো একটি কাউন্টডাউন ডিজিটাল ঘড়ি থাকে, যা ‘টাইম আউট’ হলে তাদের মেরে ফেলে। কিলিয়ান মারফি, ভিনসেন্ট কার্থাইজার, অলিভিয়া ওয়াইল্ড, ম্যাট বোমার, জনি গ্যালেকি এবং অ্যালেক্স পেটিফার সহ-অভিনেতা হিসেবে রয়েছেন। চলচ্চিত্রটি ২৮ অক্টোবর, ২০১১-এ মুক্তি পায় এবং ৪০ মিলিয়ন ডলার বাজেটের বিপরীতে ১৭৪ মিলিয়ন ডলার আয় করে। এটি সমালোচকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছিল, যারা এর মূলভাবের প্রশংসা করলেও এর নির্মাণশৈলীর সমালোচনা করেছিলেন।
গল্পের ভিতর ভুত! (In Time)
বাস্তবে যে ভুতের কোনো অস্তিত্ব নেই, সেটা আপনিও ভালো করে জানেন আর আমিও ভালো করে জানি। তবুও আমরা ভুতের প্রসঙ্গ শুনলে কিংবা দেখলে এত কেন ভয় পাই? তার উত্তর আপনার কাছে আছে… ডিস্টোপিয়ান সমাজ হল বাস্তুহীন একটি জগৎ যেখানে মানসিক অস্তিত্বের কোন মেলবন্ধন নেই। সেখানে শুধুই কল্পনা বিরাজমান। এই গল্পে একের পর এক মানুষের মৃত্যু হয়, তাদের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে ভাবুন তো সময় কতটা মূল্যবান।
আরও পড়ুন: Amit Shah: ভারত-নেপাল ও ভারত-ভুটান সীমান্ত নিয়ে বৈঠক, উত্তরবঙ্গে অমিত শাহের বিশেষ নজরে ‘চিকেনস নেক’
ডিস্টোপিয়ান সমাজ
ডিস্টোপিয়া(আক্ষরিক অর্থে”খারাপ জায়গা”) হল একটি কল্পিত বিশ্ব বা সমাজ যেখানে মানুষ দুর্দশাগ্রস্ত, অমানবিক, ভয়ে ভয়ে জীবনযাপন করে। এটি একটি কল্পিত স্থান যেখানে সবকিছুই অপ্রীতিকর বা খারাপ, সাধারণত একটিস্বৈরাচারীবাপরিবেশগতভাবে অবক্ষয়িত। ডিস্টোপিয়াকে ব্যাপকভাবে ইউটোপিয়ার বিপরীত হিসাবে দেখা হয়- একটি ধারণা যা১৫১৬ সালে টমাস মোর একটি আদর্শ সমাজকে বর্ণনা করার জন্য তৈরি করেছিলেন।উভয়টোপিয়াই কথাসাহিত্যের সাধারণ বিষয়। ডিস্টোপিয়াকেক্যাকোটোপিয়া বা অ্যান্টি-ইউটোপিয়ানামেও উল্লেখ করা হয়।



