Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতির তৃতীয় দিনেও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে রয়ে গিয়েছে উদ্বেগের ছায়া (India Pak Ceasefire)। তবে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে জম্মু ও কাশ্মীরের জনজীবন। সোমবার রাতে জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্বা এবং পঞ্জাবের জলন্ধরে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় কিছু সন্দেহভাজন ড্রোনের গতিবিধির খবর ছড়ায়, যা সাময়িকভাবে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে।
সীমান্তে ড্রোনের গতিবিধি (India Pak Ceasefire)
সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে সীমান্ত এলাকায় অল্প সংখ্যক কিছু ড্রোনের গতিবিধি নজরে আসে, বিশেষ করে সাম্বা অঞ্চলে (India Pak Ceasefire)। ভারতীয় সেনার তরফে জানানো হয়, এই ড্রোনগুলিকে চিহ্নিত করে প্রতিহত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে গভীর রাতে সেনা (INDIAN ARMY) পুনরায় জানায়, এরপর আর কোনও ড্রোন দেখা যায়নি এবং পরিস্থিতি রাতভর শান্তই ছিল। মঙ্গলবার সকালে সাম্বায় জনজীবন ছিল দৃশ্যত স্বাভাবিক। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, কোনও ধরনের গুলি বা গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেনি।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ (India Pak Ceasefire)
এই ড্রোন-উদ্বেগের পটভূমি তৈরি হয়েছে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতির প্রেক্ষিতে (India Pak Ceasefire)। গত শনিবার বিকেলে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষবিরতির সমঝোতা হলেও, সেই রাতেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। তবে বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী (Vikram Misri) কঠোর বিবৃতি দিয়ে পাকিস্তানকে সতর্ক করার পর থেকে সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অঞ্চল মোটের উপর শান্তই রয়েছে। রবিবার ও সোমবার—টানা দু’দিন কোনও নতুন সংঘর্ষ বা গুলি বিনিময়ের খবর পাওয়া যায়নি।

রাতভর সতর্ক ভারতীয় সেনা (India Pak Ceasefire)
যদিও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জম্মুর কাটরা, সাম্বা, কাঠুয়া, রাজৌরী ও জম্মু অঞ্চলে রাতভর আলো নিভিয়ে রাখা হয় (India Pak Ceasefire)। পঞ্জাবের অমৃতসর, হোশিয়ারপুর এবং জলন্ধরের কিছু অংশেও একইরকম সতর্কতা নেওয়া হয়। জলন্ধরের সুরানুস্সি এলাকাতেও কিছু অঞ্চল অন্ধকার করে রাখা হয়েছিল। যদিও জলন্ধরের ডেপুটি কমিশনার হিমাংশু অগরওয়াল জানিয়েছেন, সরকারি ভাবে কোথাও ‘ব্ল্যাকআউট’ ঘোষণা করা হয়নি।

আরও পড়ুন:India Pak Tensions : সন্ত্রাসবাদ, কাশ্মীর এবং জল- তিন সমস্যা নিয়ে আলোচনা চায় পাকিস্তান!
সাম্বার পরিস্থিতি স্থিতিশীল (India Pak Ceasefire)
মঙ্গলবার সকালে সাম্বার পরিস্থিতি অনেকটাই স্থিতিশীল (India Pak Ceasefire)। স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। সকালে রাস্তাঘাট কিছুটা ফাঁকা থাকলেও, কিছু টোটো ও যানবাহনের চলাচল লক্ষ্য করা গেছে। ধীরে ধীরে দোকানপাটও খুলতে শুরু করেছে। এদিকে, জম্মু-কাশ্মীরের বেশিরভাগ অঞ্চলের স্কুল আজ থেকেই খুলে যাচ্ছে। তবে সীমান্তবর্তী ও নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন জেলাগুলিতে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এখনও বন্ধ রাখা হয়েছে বিদ্যালয়গুলির পঠনপাঠন।
সতর্ক নিরাপত্তা বাহিনী (India Pak Ceasefire)
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। সংঘর্ষবিরতির পর যেন ফের উত্তেজনার সৃষ্টি না হয়, সেই দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। ড্রোন সন্দেহের ঘটনাকে হালকা করে না দেখে প্রশাসন যে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে, তা এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থাগুলির মাধ্যমেই স্পষ্ট।সর্বোপরি, সীমান্তে থমথমে পরিস্থিতি ও সতর্কতার আবহেও সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সাহস দেখাচ্ছেন—এটাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় আশার বার্তা।


