Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইরানের অর্থনৈতিক সংকট ও বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে সরকার নাগরিকদের জন্য স্বল্প আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছে(Iran)। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রায় ৮ কোটি ইরানবাসীকে মাসে প্রায় ৭ ডলার সমান মূল্যের সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারের আশা, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে লাগাতার বিক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হবে।
অর্থনৈতিক সংকট ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভ (Iran)
২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। রাজধানী তেহরানে প্রথমে ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা বাজার বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানায়, কারণ মার্কিন ডলারের নিরিখে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের তীব্র অবমূল্যায়ন হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে যোগ দেয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে ইরানের মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৫২.৬ শতাংশে।
ইরানে ২৭ প্রদেশে বিক্ষোভ (Iran)
বিক্ষোভ এখন পর্যন্ত ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২৭টিতে ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরান, ইয়াসুজ, সারি, ইলাম, কেরমানশাহসহ বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধী স্লোগান শোনা গেছে। কোথাও কোথাও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেইনির পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন এবং এক হাজারের বেশি মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন।
অর্থনৈতিক সংস্কারের ঘোষণা (Iran)
এই পরিস্থিতিতে সরকার নতুন অর্থনৈতিক সংস্কারের ঘোষণা করেছে। আগে আমদানির ক্ষেত্রে যে বৈদেশিক মুদ্রা ভর্তুকি দেওয়া হতো, তা বাতিল করে সরাসরি জনগণকে সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, “আমরা ভর্তুকি তুলে নিচ্ছি না, বরং তা সরাসরি উপভোক্তার হাতে পৌঁছে দিচ্ছি।”
আরও পড়ুন: United Nations: ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার সামরিক অভিযান: তীব্র নিন্দা করে গভীর উদ্বেগ জাতিপুঞ্জের
আগামী চার মাস আর্থিক সহায়তা (Iran)
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার মাসে প্রত্যেক নাগরিককে ভাউচার আকারে ১০ মিলিয়ন রিয়াল দেওয়া হবে, যা দিয়ে নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য কেনা যাবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সহায়তা দরিদ্রদের জন্য কিছুটা স্বস্তি আনলেও মধ্যবিত্তদের দীর্ঘমেয়াদি হতাশা দূর করতে পারবে না। তবুও সরকার মনে করছে, আর্থিক সহায়তা ও সংলাপের মাধ্যমে বিক্ষোভের চাপ কমানো সম্ভব।



