Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নকআউট ম্যাচে যে ভাবে খেলা উচিত, ঠিক সে ভাবেই খেললেন আর্লিং হালান্ডেরা কিন্তু সুযোগ নষ্ট চিন্তার কারণ হতে পারে তাঁদের জন্য।
ম্যাচ জিতললেও চিন্তা থাকবে নুসাদের
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যে একাদশ নামিয়েছিলেন নরওয়ের কোচ, সেটা সেই সময় বিস্ময়কর মনে হলেও ধীরে ধীরে কারণটা স্পষ্ট হচ্ছে। যে জায়গায় এই বিশ্বকাপ হচ্ছে সেখানের তাপমাত্রা অনেকটা বেশি আর সেই কারণে নরওয়ের কোচ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাঁর মূল শক্তিকে বিশ্রাম দিতে চেয়েছিলেন। যাতে নকআউট পর্বে পূর্ণ শক্তির তরতাজা দল নামাতে পারেন। আর সেটাই তিনি করলেন এবং ম্যাচ জিতে জায়গা করে নিলেন পরের পর্বে।
আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রথম থেকেই ছিলেন আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওদেগার্ডরা। তাতেই বদলে গেল ম্যাচের রং। গোলের একাধিক সুযোগ নষ্ট করলেও বিশ্বকাপের প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেলেন হালান্ডরা। নরওয়ে ম্যাচ জিতে নিল ২-১ গোলে। পরের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল।
ম্যাচের প্রথম থেকেই প্রত্যাশা অনুযায়ী দাপট ছিল নরওয়ের। একের পর আক্রমণ তৈরি করেছেন হালান্ডরা। তবে যত আক্রমণ তৈরি হয়েছে, তত সুযোগও নষ্ট হয়েছে। হালান্ড একাই নষ্ট করেছেন অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ। কখনও বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি। কখনও প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে শট মেরেছেন। নরওয়ের আগ্রাসী ফুটবলের জবাবে কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়েছিল আইভোরি কোস্ট। প্রতি আক্রমণে উঠে বেশ কয়েক বার বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে আফ্রিকার দেশটিও তবে সেখানেও হাতছাড়া হয়েছে সুযোগ।
আরও পড়ুন: WTC: বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় উত্থান ভারতের
আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল উপহার দিয়েছে দুই দল। যেমনটা আশা করা হয়েছিল আজ আইভরি কোস্ট ঠিক সেই কৌশলেই মাঠে নেমেছিল, রক্ষণ ছিল আজ মূল লক্ষ্য তাঁদের। পরিকল্পনার ছাপ ছিল স্পষ্ট দুই দলের খেলায়। দুই দলেরই প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার ক্ষেত্রেই হোক বা আক্রমণ তৈরির ক্ষেত্রে, দুই দল পরস্পরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবু নরওয়ের আধিপত্য ছিল বেশি এই ম্যাচে। আবার নরওয়ের গোলরক্ষক নিলান্ড কয়েক বার দলের পতন আটকেছেন। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ ১০ মিনিট তিনি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে না পারলে ম্যাচের ফল অন্য কিছু হতে পারত।
শুরু থেকেই গোল হবে হবে মনে হলেও নরওয়ের কাঙ্খিত গোল আসে ৩৯ মিনিটে। আর সেই গোলটি করেন আন্তনিয়ো নুসা। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর জোরালো শট এগিয়ে দেয় দলকে। তবে নরওয়ের প্রথম অর্ধে আর কোনও হল হয়নি। সেই সময় মনে হয় বোধহয় খেলার গতি প্রকৃতি খুব বেশি আর পাল্টাবে না। কিন্তু ম্যাচের রং বদলে দেন আইভোরি কোস্টের আমাদ দিয়ালো। ৭৪ মিনিটে প্রায় একার চেষ্টায় গোল করেন তিনি। তাঁর সামনে দিশাহারা হয়ে পড়ে নরওয়ের রক্ষণ। একাই চার-পাঁচ জনকে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের ফুটবলার।
আইভোরি কোস্টের ডিফেন্স অবশ্য দিয়ালোর এই দুরন্ত গোলের মান রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। হালান্ডকে শেষ পর্যন্ত সামলে রাখতে পারল না। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে প্যাট্রিক বার্গ প্রতিপক্ষের একাধিক ডিফেন্ডারের নাগাল এড়িয়ে বল দেন বক্সে থাকা হালান্ডকে। পায়ের আলতো ছোঁয়ায় বিশ্বকাপে নিজের পঞ্চম গোলটি করেন নরওয়ের তারকা এবং এটাই দলের জয়সূচক গোল।
আইভোরি কোস্ট বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও তাদের খেলা মন জয় করে নিয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের। কিন্তু ব্রাজিল ম্যাচের আগে নরওয়ে শিবিরকে চিন্তায় রাখবে সুযোগ নষ্টের বিষয়টা। এ ব্যাপারে উন্নতি করতে পারলে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হতে পারে ভিনি, নেইমারদের।


