Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ব্রততী সরকার: আবারও বিতর্কে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)। দ্বিতীয় বারের জন্য মুছে দেওয়া হল বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল লিখন। মঙ্গলবার এমনই ঘটনা ঘটেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর গত রবিবারই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা স্লোগান মুছে দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
কী ঘটেছিল রবিবার? (Jadavpur University)
রাতের অন্ধকারে একপ্রকার চুপিসারে বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) ক্যাম্পাসে ঢুকে মুছে দেওয়া হয়েছিল দেওয়াল লিখন। মাঝরাতে ছাত্র-ছাত্রীদের খবর দেওয়া হলেও তাদের হস্টেলের বাইরে আসার অনুমতি দেয়নি হোস্টেল কর্তৃপক্ষ। দেওয়ালে লিখে রাখা ‘কার্ল মার্ক্স’-এর উক্তি ঢাকা পড়ে সাদা রঙের আস্তরনে। মুছে দেওয়া হয় স্লোগান। যাদবপুরের রেভেলিউশনারি স্টুডেন্টস ফ্রন্ট (আরএসএফ) এর সেক্রেটারি ইন্দ্রানুজ রায়ের অভিযোগ, ‘রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ আমার কাছে খবর আসে, কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার লোক বলে পরিচয় দিয়ে যাদবপুর ক্যাম্পাসের ৪ নম্বর গেট দিয়ে বেশ কয়েক জন ক্যাম্পাসে ঢুকছে। তারা জানায় যে, পুরসভার লোক সেখানে এসেছে দেওয়াললিখন হোয়াইট ওয়াশ করতে। পুলিশ তাদের গার্ড দেওয়ার জন্য এসেছে।’ তিনি আরও জানান, এই ঘটনার পর তিনি হস্টেলে থাকা পড়ুয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তাঁদের বেরোতে দেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষের সাথেও যোগাযোগ করেও তাদের পাওয়া যায়নি।
উপাচার্যের বক্তব্য (Jadavpur University)
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর রবিবারই সাদা রঙের প্রলেপে মুছে দেওয়া হয় কার্ল মার্ক্সের উক্তি এবং অন্যান্য স্লোগান। যদিও তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই দেওয়ালে আবারও ফিরে আসে স্লোগান। লেখা হয় কার্ল মাক্সের উক্তি। পরে সিপিআইএম ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর তরফ থেকেও স্লোগানে ভরানো হয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল। সোমবার এই ঘটনার পরেই মঙ্গলবার গভীর রাতে আবার মুছে দেওয়া হল যাদবপুরের দেওয়াললিখন। মঙ্গলবার সকালে অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য্য সকল ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে অবেদন করেন, ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা এবং মর্যাদা বজায় রাখার জন্য। তিনি এও জানান, তিনি দেওয়াল লিখনের পক্ষে নন। তবে পড়ুয়াদের মতপ্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। তবে দেওয়াল আবার মোছা হবে, এই নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছুই জানাননি।
আরও পড়ুন: Sidharth Shukla: সিদ্ধার্থ শুক্লার চলে যাওয়ার ৫ বছর… এখনও মনে রেখেছেন কী অনুগামীরা?
ইন্দ্রানুজের প্রশ্ন
সোমবার গভীররাতে বেশ কিছু পড়ুয়া দেখতে পান, আবারও সাদা রঙে ঢেকেছে কার্ল মার্ক্সের উক্তি। সেই সব ছবি পড়ুয়ারাই মাঝ রাতে তুলে পাঠান ইন্দ্রানুজকে। তিনি সেই সব ছবি সমাজমাধ্যমে দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন “কারা এমন করল? কারণ, আইন অনুযায়ী পুলিশ যদি দিনের আলোতেও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকতে চায়, তবে তাদের উপাচার্য বা রেজিস্ট্রারের থেকে আগাম অনুমতি নিতে হয়। মাঝরাতে তারা কী ভাবে ঢুকল?’ তবে এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য রেজিস্ট্রার সেলিমবক্স মন্ডলকে বার বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।


