Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কোচবিহারের রাজনীতিতে ফের বড়সড় পালাবদলের ইঙ্গিত (Jagadish Basunia)। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে পুজোর আগেই বিজেপির পতাকা হাতে নিতে পারেন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। সোমবার দিনহাটার সিতাইয়ে নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজেই বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনার কথা জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।
কেন বিজেপির দিকে জগদীশচন্দ্র? (Jagadish Basunia)
সাংসদের দাবি, বর্তমানে তৃণমূলের প্রায় ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে রয়েছেন। বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের পরই তাঁরা ওই দলে যোগ দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন জগদীশচন্দ্র। তাঁর বক্তব্য, ওই দলের সম্পর্কে তাঁরা আগে বিশেষ কিছু জানতেন না। কিন্তু তাঁদের মধ্যে তিনজন সংখ্যালঘু সাংসদ সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিতে রাজি না হওয়ায় বিকল্প পথ হিসেবে এনসিপিআই-তে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ (Jagadish Basunia)
কেন্দ্রের প্রকল্পের অর্থ নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকেও নিশানা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা রাজ্য পেত না। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে রাজ্য সরকারের প্রকল্প হিসেবে চালানো হত এবং যথাযথ হিসাব দেওয়া হত না বলেই কেন্দ্র অর্থ বরাদ্দ করত না বলে দাবি সাংসদের।

মমতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ (Jagadish Basunia)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে জগদীশচন্দ্র বলেন, তৃণমূলে তিনিই ছিলেন মূল সিদ্ধান্তগ্রহণকারী, বাকিরা ছিলেন ‘ল্যাম্প পোস্ট’। সাংসদ হওয়ার পর রাজবংশী সম্প্রদায়ের উন্নয়নের জন্য একাধিক প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেও তা গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ তাঁর। সিতাই কলেজ তৈরির প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
ঋতব্রত শিবির নিয়ে বড় দাবি (Jagadish Basunia)
এদিন তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়েও মন্তব্য করেন জগদীশচন্দ্র। তাঁর দাবি, তৃণমূলের অধিকাংশ বিধায়ক ইতিমধ্যেই ঋতব্রত শিবিরে চলে গিয়েছেন। এমনকি ভবিষ্যতে ওই শিবিরই তৃণমূলের প্রতীক পেতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন: Pakistan: ফের রক্তাক্ত বালোচিস্তান, পাক সেনার কনভয়ে ভয়ংকর হামলা
বিক্ষোভের আবহেই রাজনৈতিক বার্তা
বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই সিতাইয়ে জগদীশচন্দ্র ও বিধায়ক সঙ্গীতা রায়কে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়(Jagadish Basunia)। বাড়ির সামনে বিক্ষোভের পর কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর ভোরে তাঁরা ফের সিতাইয়ের বাড়িতে ফিরতেই সোমবার সকাল থেকে ফের দফায় দফায় বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের বিশাল উপস্থিতিতে বড় ধরনের অশান্তি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এই আবহেই বিজেপিতে যোগদানের ইঙ্গিত দিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের বার্তা দিলেন কোচবিহারের সাংসদ।



