Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভোটের উত্তাপে যখন গোটা বাংলা উত্তাল, ঠিক তখনই এক অন্য ছবি ধরা পড়ল পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহলে (Jhragram)। প্রচারের মঞ্চ থেকে নেমে সরাসরি রাস্তার ধারের এক সাধারণ দোকানে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খেলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। এই দৃশ্য ঘিরে এখন তুমুল আলোচনা রাজনীতি না কি নিছক মানবিক মুহূর্ত?

জনসভা থেকে সরাসরি ‘ঝালমুড়ি ব্রেক’ (Jhragram)
রবিবার ঝাড়গ্রামে স্টেডিয়ামে জনসভা সেরে হেলিপ্যাডের দিকে যাওয়ার পথে আচমকাই গাড়ি থামান প্রধানমন্ত্রী। কলেজ মোড়ে একটি ছোট্ট গুমটি দোকানে ঢুকে পড়েন তিনি। দোকানের মালিক বিক্রমকুমার সাউ তখনও ভাবতে পারেননি, তাঁর দোকানে ঢুকবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী! “ভাই, ঝালমুড়ি খিলাও” এই সহজ আবদারেই শুরু। দাম জানতে চান, নিজের পকেট থেকে ১০ টাকাও দেন। এমনকি পেঁয়াজ দেবেন কি না জানতে চাইলে মজার ছলে বলেন “পেঁয়াজ খাই, ডিমাগ নেহি খাতে হ্যায়!”
সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজ মেলবন্ধন (Jhragram)
ঝালমুড়ি হাতে নিয়ে শুধু নিজেই খাননি, আশেপাশে থাকা মানুষদেরও খাওয়ান। এই দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। তাঁদের কথায় একজন প্রধানমন্ত্রী এত সহজভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাবেন, তা তাঁরা কল্পনাও করেননি। এই ধরনের জনসংযোগ বাংলার রাজনীতিতে নতুন নয়। Mamata Banerjee-কেও বহুবার চা, মোমো বা চপের দোকানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে দেখা গেছে। এবার সেই পথেই হাঁটলেন মোদী।

রাতারাতি ‘স্টার’ বিক্রম (Jhragram)
ঘটনার পর থেকেই বিক্রমকুমারের দোকানে উপচে পড়ছে ভিড়। “প্রধানমন্ত্রী এখানে ঝালমুড়ি খেয়েছেন” এই খবরেই কৌতূহলী মানুষের ঢল। স্থানীয়দের কাছে এখন তিনি কার্যত সেলিব্রিটি। বিক্রম জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর নাম, পরিবারের কথা, এমনকি মাসিক আয়ের বিষয়েও খোঁজ নেন। এই সহজ ব্যবহার তাঁকে অভিভূত করেছে।
ঠেলাগাড়ি থেকে পাকা দোকান (Jhragram)
বিক্রমের গল্পটাও কম চমকপ্রদ নয়। বিহারের গয়া থেকে অল্প বয়সে বাংলায় এসে প্রথমে ঠেলাগাড়িতে ব্যবসা শুরু। পরে কলেজ মোড়ে একটি ছোট দোকান ভাড়া নেন। রাস্তা সম্প্রসারণের সময় সেই দোকান ভেঙে গেলে বিপদে পড়েন। তখনই ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ান Mamata Banerjee। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ৫৪ জন ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিক্রমও পান নতুন দোকানঘর। সেই দোকানেই আজ প্রধানমন্ত্রীর আগমন যা তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল।
আরও পড়ুন: BJP Attacks TMC: ‘তৃণমূলকে ভোট দেব’ বলাতেই মহিলাকে ঠাসিয়ে চড় বিজেপি নেতার
রাজনীতি না কি মানবিক মুহূর্ত?
এই ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। ভোটের আগে সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন সহজ মেলামেশা কি কৌশল? নাকি সত্যিই মানুষের কাছে পৌঁছানোর এক আন্তরিক প্রয়াস? যে যাই বলুক, ঝাড়গ্রামের সেই ঝালমুড়ির ঠোঙা এখন শুধু খাবার নয় এটি হয়ে উঠেছে এক প্রতীক। সাধারণ মানুষের জীবনে রাজনীতির স্পর্শ, আর রাজনীতির মাটিতে মানুষের গন্ধ।



