Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অবশেষে এই মরশুমে কাঙ্খিত জয় এল নাইট শিবিরে। বল হাতে জ্বলে উঠলেন বরুণ চক্রবর্তী (Varun Chakaravarthy)।
বরুণের নতুন রেকর্ড (Varun Chakaravarthy)
কথায় আছে ‘শান্ত সমুদ্র কখনও দক্ষ নাবিকের জন্ম দিতে পারে না।’ উত্তাল সমুদ্রে নাবিকরা যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন সেটাই তাঁকে দক্ষ বানিয়ে তোলে। ইদানিং বরুণ চাকাবর্তী নিজের ফর্মের কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। দাবি উঠেছিল তাঁকে বসিয়ে দেওয়ার। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ তখন তাঁকে বারবার ভেঙেছে কিন্তু সেই ভাঙন আটকে তিনি আবার প্রত্যাবর্তন করেছেন রাজার মত (Varun Chakaravarthy)।

টানা হারের পর দল এবং সমর্থকরা চূড়ান্তভাবে হতাশ সেই সময় রবিবার ইডেনে রাজস্থানের বিরুদ্ধে খেলতে নামে কলকাতা। সেই ম্যাচকেই নিজের কামব্যাকের মঞ্চ বানালেন বরুণ। তিনি উইকেট পেতেই রাজস্থান বড় রান তুলতে পারেনি। দিনের শেষে আবার নিজের দ্যুতি ছড়িয়ে দিলেন রিঙ্কু সিং। যে দুজনের পারফরম্যান্স নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছিল সেই দুজনের সৌজন্যে কলকাতা নিজেদের প্রথম জয় পেল। ফিনিশারের ভূমিকায় ম্যাচ জিতিয়ে ফিরলেন রিঙ্কু। অনুকূল রায় তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিলেন। তবে এই দিন রেকর্ড গড়লেন বরুণ।

রাজস্থানের এই মুহূর্তে সবথেকে বিধ্বংসী ব্যাটার ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী। তাঁকেই পরাস্ত করেন বরুণ। এই তারকা স্পিনারের ফুল লেংথ ডেলিভারিতে ভুল টাইমিংয়ের কারণে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ চলে যায় রমনদীপ সিংয়ের হাতে। সেই ক্যাচ ধরতে কোনও ভুল করেননি রমনদীপ।
আরও পড়ুন: PBKS: প্রিয়াংশ-কনোলির ঝড়ে পাঞ্জাব অশ্বমেধের ঘোড়া
এই ম্যাচে বরুণের স্পেল হয় তিন উইকেট নিয়ে। রান খরচ করেন মাত্র ১৪। তিনি সুনীল নারিন এই দিন রাজস্থানের প্রবল পরাক্রম আটকে ধস নামিয়ে দেয় তাঁদের দুর্গে। ধ্রুব জুড়েল ও রিয়ান পারগকেও তুলে নেন বরুণ। এই স্পেলের সৌজন্যে আরও একটি মাইলফলক ছুঁলেন বরুণ। টি-২০ ক্রিকেটে দ্রুততম ভারতীয় স্পিনার হিসেবে প্রবেশ করলেন ২০০ উইকেটের ক্লাবে। সামগ্রিকভাবে দেখলে তিনি রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন অর্শদীপ সিং (Varun Chakaravarthy)।
এই জয়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই জানালেন কেকেআর-এর জয়ের অন্যতম নায়ক বরুণ চক্রবর্তী। তিন উইকেট নেওয়া নাইট স্পিনার বলেন, ‘আজকের এই জয়টা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জয়ের পর ড্রেসিংরুমে আমাদের অনেকে কেঁদে ফেলেছে। ২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সময়ও যা দেখিনি। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এই জয়টা আমাদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’ তবে উইকেট নিয়ে কিছু বলতে রাজি হননি বরুণ। বলছিলেন, ‘উইকেট একটু মন্থর ছিল। আগের ম্যাচের উইকেট অন্যরকম ছিল। উইকেট নিয়ে কিছু বলতে চাই না। যে ধরনের উইকেটই হোক আমরা সবসময় প্রস্তুত।’
অন্যদিকে ধোনিকে মনে করলেন জুরেল
বিশ্ব ক্রিকেটে ধোনি পরিচিত কিছু অতিমানবীয় কাণ্ডের জন্য। তথাকথিত গ্রামার মেনে তিনি কিপিং করেননি কিন্তু সেখানে এমন কিছু করেছেন যা বাকিদের পক্ষে কিছুটা অসম্ভব বলেই মনে করেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। দ্রুত স্টাম্পিং হোক বা ডিআরএস নেওয়া, ধোনি মানেই নিখুঁত সব কিছু (Varun Chakaravarthy)।
কেরিয়ারের শুরু থেকে শেষের দিকে ধোনি এমন কিছু স্টাম্পিং করেছেন বা রান আউট করেছেন যা ছিল শৈল্পিক। এবার আইপিএল-এ এখনও ধোনি ম্যাজিক দেখেনি ভক্তরা কিন্তু রাজস্থানের ম্যাচে দেখা গেল ধোনি ঝলক। দুর্দান্ত দক্ষতার সাথে ক্যামেরন গ্রিনকে ফেরালেন রাজস্থানের কিপার ধ্রুব জুরেল। ম্যাচ হারলেও তাঁর এই দুরন্ত স্টাম্পিং ম্যাচের বড় পাওনা।
কলকাতার হয়ে শেষ ম্যাচে ঝড় তুলেছিলেন গ্রিন। এই দিনও আশা করা হচ্ছিল তিনি জ্বলে উঠবেন। শুরুতে দেখেই মনে হচ্ছিল তিনি দারুন ছন্দে রয়েছেন। ম্যাচের পঞ্চম ওভারে বল করতে আসেন রবি বিষ্ণোই। সেই ওভারের তৃতীয় বলে তিনি খেয়াল রাখেন যে গ্রিন কিছুটা লেগে গিয়ে খেলছেন আর সেই কারণে গ্রিনকে আরও লেগের দিকে বল করেন। আর এখানেই বাজিমাত করেন ধ্রুব।
রবি গ্রিনকে লেগের দিকে বল করার পর গ্রিন কিছুটা এগিয়ে গিয়ে তা খেলতে যান ন্তু বিট মিস পরাস্ত হন। গ্রিন ভেবেছিলেন বলটা ওয়াইড হবে। কিন্তু পিছনে থাকা ধ্রুব জুরেলকে বুঝতে পারেননি এই অজি তারকা। জুরেল বলটা অনুসরণ করে লেগের দিকে চলে যান এবং বলটা ডাইভ মেরে ধরে সেই অবস্থাতেই বলটা ছুঁড়ে দেন স্টাম্পের দিকে। যখন জুরেল বলটা ছুড়ছেন তখন গ্রিন স্টাম্পের থেকে অনেকটা বাইরে ছিলেন এবং ফলাফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। এই স্টাম্পিং দেখে মুগ্ধ ক্রিকেট বিশ্ব। তাঁর স্টাম্পিং দক্ষতা দেখে সকলে চমকে উঠেছেন এবং সবার একটাই মত যে ধোনির ছায়া দেখা গিয়েছে জুরেলের ম্যাচে (Varun Chakaravarthy)।


