Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উৎসবের মরশুমের পর এবার সোনা কেনার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে আপনার জন্য রয়েছে কিছুটা স্বস্তির খবর (Gold Price)। একদিনের ব্যবধানেই অনেকটা কমে গেল সোনা ও রুপোর দাম। ৩০ অক্টোবরের তুলনায় ৩১ অক্টোবর, শনিবার কলকাতার বাজারে হলুদ ধাতুর দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গিয়েছে। স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটির (SSBC) প্রকাশিত দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট সোনার বিক্রয়মূল্য গ্রামপ্রতি ৩১৫ টাকা কমেছে। অন্যদিকে, এক কেজি রুপোর দাম কমেছে ৬,০২৩ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দামে বড়সড় পতনের প্রভাবই পড়েছে দেশের বাজারে।
আজ কলকাতায় সোনার দাম কত? (Gold Price)
স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটির প্রকাশিত নির্দেশক দর অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ৯৯৫ বিশুদ্ধতার ফাইন গোল্ডের দাম দাঁড়িয়েছে গ্রামপ্রতি ১৩,৭৫১ টাকা। ৩০ অক্টোবর এই দাম ছিল ১৪,০৮৩ টাকা। অর্থাৎ একদিনে গ্রামপ্রতি দাম কমেছে ৩৩২ টাকা।
অন্যদিকে, ২২ ক্যারেট বা ৯১৬ বিশুদ্ধতার সোনার বিক্রয়মূল্য গ্রামপ্রতি ১৩,০৬৫ টাকা। আগের দিন এই দাম ছিল ১৩,৩৮০ টাকা। অর্থাৎ একদিনে গ্রামপ্রতি ৩১৫ টাকা সস্তা হয়েছে হলুদ ধাতু।
২২ ক্যারেট সোনার কেনার দরও কমেছে। ৩০ অক্টোবর গ্রামপ্রতি ১২,৮১৫ টাকা থেকে কমে ৩১ অক্টোবর হয়েছে ১২,৫১৩ টাকা। অর্থাৎ দাম কমেছে ৩০২ টাকা।
১৮ ক্যারেট সোনার দামেও বড় পতন (Gold Price)
শুধু ২২ বা ২৪ ক্যারেট নয়, ১৮ ক্যারেট সোনার দামও নিম্নমুখী। ৩০ অক্টোবর গ্রামপ্রতি ১০,৯৮৫ টাকা ছিল ১৮ ক্যারেট বা ৭৫০ বিশুদ্ধতার সোনার দাম। শনিবার তা কমে হয়েছে ১০,৭২৫ টাকা। অর্থাৎ একদিনে গ্রামপ্রতি ২৬০ টাকা কমেছে দাম।
ফলে গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন যাঁরা, তাঁদের কাছে এই দরপতন কিছুটা স্বস্তির খবর হতে পারে।
সোনার পাশাপাশি রুপোর দামেও বড় ধাক্কা (Gold Price)
সোনার মতো রুপোর বাজারেও শুক্রবারের তুলনায় শনিবার উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গিয়েছে। ৯৯৯ বিশুদ্ধতার এক কেজি রুপোর দাম ৩০ অক্টোবর ছিল ১,৮৮,০৯৭ টাকা। ৩১ অক্টোবর তা কমে দাঁড়িয়েছে ১,৮২,০৭৪ টাকা। অর্থাৎ মাত্র একদিনে কেজিপ্রতি ৬,০২৩ টাকা কমেছে রুপোর দাম।
কেন হঠাৎ এতটা কমল সোনা ও রুপোর দাম? (Gold Price)
শুধু ভারতের বাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও মূল্যবান ধাতুর দামে বড়সড় পতন হয়েছে। ৩০ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ৩.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩,৮৮০.৯৭ ডলারে নেমে আসে। গত এক বছরের মধ্যে এটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য পতন। একই সময়ে স্পট সিলভারের দামও প্রায় ৬.৫ শতাংশ কমে ৫০ ডলারের নীচে নেমে যায়।
পতনের একাধিক কারণ (Gold Price)
- প্রথমত, আমেরিকার সুদের হার সংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। মার্কিন অর্থনীতির প্রত্যাশার চেয়ে ভালো বৃদ্ধি এবং মূল্যবৃদ্ধির চাপের কারণে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। কারণ সোনা থেকে কোনও সুদ পাওয়া যায় না। অন্যদিকে, বন্ডের মতো সুদ-দেওয়া বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেশি রিটার্নের সম্ভাবনা তৈরি হয়। ফলে বিনিয়োগকারীদের একাংশ সোনা থেকে টাকা সরিয়ে অন্য সম্পদে লগ্নি করতে পারেন।
- দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং তার জেরে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাও চাপ তৈরি করেছে। তেলের দাম বাড়লে সামগ্রিক অর্থনীতিতে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে। এর ফলে আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীদের একাংশ।
- তৃতীয়ত, শেয়ার বাজারে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে বড়সড় পতনের প্রভাবও পড়েছে মূল্যবান ধাতুর বাজারে। লোকসান সামাল দিতে এবং নগদের জোগান বজায় রাখতে কিছু বিনিয়োগকারী সোনা ও রুপোর মতো সম্পদ বিক্রি করেছেন বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। এর ফলে মূল্যবান ধাতুর উপর বিক্রির চাপ আরও বেড়েছে।
গয়না কেনার আগে কোন বিষয়গুলি মাথায় রাখবেন? (Gold Price)
সোনা ও রুপোর দাম কমলেও গয়না কেনার আগে কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি (Gold Price)। স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটির প্রকাশিত দর মূলত নির্দেশক মূল্য। এর সঙ্গে ৩ শতাংশ জিএসটি যুক্ত হবে। পাশাপাশি গয়নার ক্ষেত্রে মজুরি বা মেকিং চার্জ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য খরচও দিতে হয়।
আরও পড়ুন: Gold Price: উৎসবের মরশুমে খানিক স্বস্তি, কমল সোনার দাম
তাই দোকান থেকে গয়না কেনার সময় চূড়ান্ত দাম প্রকাশিত নির্দেশক দরের তুলনায় বেশি হতে পারে। সেক্ষেত্রে কেনাকাটার আগে বিভিন্ন দোকানের দর এবং মেকিং চার্জ যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করেই সোনা ও রুপোর দামের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হতে পারে।



