Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: থ্রিলার সিনেমা দেখতে ভালোবাসেন, ভয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা রহস্যের সন্ধান করতে পছন্দ করেন? তাহলে দেখতেই পারেন মিথোলজিক্যাল উপাদানের সঙ্গে ক্রাইম, রহস্য ও তন্ত্রসাধনার মেশানো, এই ভিন্নধর্মী বিষয় নিয়েই তৈরি হয়েছে ‘(Karmakhya)’। কথা দিচ্ছি মনখারাপ কিংবা সময় নষ্ট হবে না। বহুমুখী অভিনেতা সামুথিরাকানি, অভিরামি ও সামাইরা অভিনীত এই ছবি পরিচালনা করেছেন ‘জবরদস্ত’ খ্যাত অধিরে অভি (অভিনয় কৃষ্ণ)। ৩১ জুলাই, ২০২৬ বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। দ্বিতীয় ছবি হিসেবেই এমন গম্ভীর ও ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় বেছে নেওয়া পরিচালকের সাহসকে আলাদা করে নজরে পড়ে।
কামাখ্যার রহস্যেই শুরু অন্ধকার গল্প (Karmakhya)
ছবির শুরু অসমের কামাখ্যা মন্দির এবং তন্ত্রসাধনার আবহে। বিশ বছর আগে কালাজাদু করার অভিযোগে গ্রামের মানুষ এক ব্যক্তি ও তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করে। সেই ঘটনার পর তাঁদের মেয়ে চিন্নি নিখোঁজ হয়ে যায়। অতীতের সেই ভয়াবহ ঘটনার রেশই বর্তমানের কাহিনিতে ফিরে আসে (Karmakhya)।
বর্তমানে বিশাখাপত্তনমের একটি হস্টেলে থাকা কামাখ্যা একদিন বন্ধুর বদলে একটি নির্জন বাড়িতে বিমার কাজ করতে যায়। সেখানেই সরোজিনীর পরিবারের হাতে বন্দি হয় সে। এরপর শুরু হয় তাকে মানববলির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার ভয়ংকর প্রস্তুতি। কিন্তু কেন কামাখ্যাকে বেছে নেওয়া হল? চিন্নির সঙ্গে এই ঘটনার সম্পর্কই বা কী?
প্রথমার্ধেই তৈরি হয় রহস্যের জাল (Karmakhya)
ফ্ল্যাশব্যাকে বিশ বছর আগের ঘটনা দিয়ে শুরু হওয়ায় প্রথম থেকেই দর্শকের কৌতূহল তৈরি হয়। সামাইরা ও সারন্যা প্রদীপের দৃশ্যগুলি গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তবে নির্জন বাড়িতে কামাখ্যার প্রবেশের পর ছবির টান আরও বাড়ে। অভিরামির পরিবারের হাতে তার বন্দিদশা এবং মানববলির প্রস্তুতি গল্পে যথেষ্ট উত্তেজনা তৈরি করে। ইন্টারভালের টুইস্ট দ্বিতীয়ার্ধের জন্য প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে তদন্তে গতি আনেন সামুথিরাকানি (Karmakhya)
দ্বিতীয়ার্ধে পুলিশ অফিসার তিরুপতির চরিত্রে সামুথিরাকানির প্রবেশ গল্পে নতুন গতি আনে। তদন্ত যত এগোয়, কামাখ্যা মন্দির, খুন এবং নিখোঁজ চিন্নির মধ্যকার যোগসূত্র ধীরে ধীরে সামনে আসে। তান্ত্রিক আচার এবং একের পর এক মোড় ছবির রহস্যকে ধরে রাখে। ক্লাইম্যাক্সের কয়েকটি টুইস্টও দর্শককে চমকে দেওয়ার চেষ্টা করে।
অভিনয়ে নজর কাড়লেন অভিরামি ও সামাইরা
পুলিশ অফিসারের চরিত্রে সামুথিরাকানি তাঁর স্বভাবসিদ্ধ দৃঢ় অভিনয়ে তদন্তের দৃশ্যগুলিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন। নেতিবাচক ও রহস্যময় চরিত্রে অভিরামি বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন। অন্যদিকে ভয়, আতঙ্ক এবং বাঁচার লড়াইয়ের দৃশ্যে সামাইরার অভিনয়ও যথেষ্ট শক্তিশালী। সারন্যা প্রদীপ, ধনরাজ এবং গাড্ডাম নবীন নিজেদের চরিত্রে যথাযথ।
আবহ তৈরি করেছে ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর (Karmakhya)
পরিচালনার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দিকও ছবির অন্যতম শক্তি। জ্ঞানীর ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর তন্ত্র, রহস্য ও উত্তেজনার আবহকে আরও ঘন করেছে। চিত্রগ্রাহক রমেশ রেড্ডি নির্জন বাড়ি এবং তান্ত্রিক আচার-অনুষ্ঠানের দৃশ্যগুলিকে যথাযথভাবে ক্যামেরাবন্দি করেছেন। ছবির প্রযোজনামূল্যও গল্পের ধরন অনুযায়ী মানানসই।
আরও পড়ুন: Hunkar: The Roar: গুরুভক্তির চাপে সত্যিই রুখে দাঁড়াতে পারল ‘হুঙ্কার: দ্য রোর’?
সব মিলিয়ে কেমন ‘Karmakhya’?
কমেডি অভিনেতা হিসেবে পরিচিত অধিরে অভির দ্বিতীয় পরিচালনায় এমন সিরিয়াস মিথোলজিক্যাল ক্রাইম থ্রিলারের নির্বাচন নিঃসন্দেহে সাহসী পদক্ষেপ। তন্ত্র, মানববলির অন্ধকার, পুরনো খুন এবং নিখোঁজ এক শিশুর রহস্যকে এক সুতোয় বেঁধে ছবিটি দর্শককে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। কিছু জায়গায় গল্প আরও সংহতভাবে এগোতে পারলেও, রহস্য ও থ্রিলারপ্রেমীদের জন্য ‘Karmakhya’ একটি ভিন্ন স্বাদের অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে।



