Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ক্যালেন্ডারের পাতা বলছে শীতের বিদায় ঘণ্টা বাজতে খুব দেরি নেই, কিন্তু কাশ্মীরে (Kashmir) উৎসব যেন সবে শুরু হল! রূপোলি চাদরে মুড়েছে উপত্যকা। আর এই ‘সাদা সোনা’র টানেই এখন হিমালয়ের কোলে পর্যটকদের জনসমুদ্র। পরিস্থিতি এমন যে, উত্তর কাশ্মীরের বিশ্বখ্যাত স্কি-ডেস্টিনেশন গুলমার্গের একটি হোটেলও এখন খালি নেই। বুকিং ১০০ শতাংশ।
বিদেশের হাতছানি ম্লান গুলমার্গের জাদুতে (Kashmir)
সুইজারল্যান্ড না কি গুলমার্গ? পর্যটকদের ভিড়ে এখন এই তকমা নিয়ে চলছে জোর লড়াই (Kashmir)। চলতি জানুয়ারি মাসেই উপত্যকায় পা রেখেছেন ৮৭ হাজারেরও বেশি পর্যটক। গন্ডোলা রাইড হোক বা স্কিইং, রোমাঞ্চের কোনও খামতি নেই। গুজরাট থেকে আসা এক পর্যটকের কথায়, ‘সারা পৃথিবী ঘুরেছি, কিন্তু গুলমার্গের এই তুষারশুভ্র রূপের কাছে সব ফিকে। এটিই বাস্তবের স্বর্গ।’ প্রথমবার আসা দর্শনার্থী সানিয়া মির্জার চোখেমুখেও ধরা পড়ল একই মুগ্ধতা।
সোনমার্গের চিত্রটাও প্রায় একই রকম। সেখানেও হোটেলের দখল ছাড়িয়েছে ৭০ শতাংশ। পর্যটন দপ্তরের তথ্য বলছে, ১ থেকে ২৭ জানুয়ারির মধ্যে সোনমার্গে এসেছেন প্রায় ৮৭,৬৯৩ জন পর্যটক। এর মধ্যে ১,২২৫ জন বিদেশি নাগরিকের উপস্থিতি প্রমাণ করছে যে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে কাশ্মীর (Kashmir) আবার স্বমহিমায় ফিরছে। গুলমার্গ পর্যটন দপ্তরের সহকারী অধিকর্তা তাহির মহিউদ্দিন ওয়ানির মতে, শীতকালীন ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে গুলমার্গই এখন ‘ফার্স্ট চয়েস’।

আরও পড়ুন:Tarey Bhir: সিকিমের বুকেই চিনের প্রাচীর! মেঘ-পাইন আর নির্জনতার খোঁজে চলুন ‘তারেভির’
উৎসবের মেজাজ থাকলেও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করছে না স্থানীয় প্রশাসন। বিশেষ করে তুষারধস প্রবণ এলাকাগুলোতে (Avalanche-prone areas) পর্যটকদের যাতায়াতে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মোতায়েন রয়েছে পুলিশ ও এসডিআরএফ টিম। তবে উপচে পড়া ভিড়ের মাঝে কিছুটা কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাঝেমধ্যে হওয়া বিদ্যুৎ বিভ্রাট। পর্যটকদের অভিজ্ঞতা নিখুঁত করতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কাছে নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবার আর্জি জানিয়েছেন।
‘চিল্লাই কালান’-এর শেষ লগ্নে বরফের এই পরশ কাশ্মীরের (Kashmir) পর্যটন শিল্পে যে নতুন প্রাণের জোয়ার এনেছে, তার রেশ ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে আরও বাড়বে বলেই আশা বিশেষজ্ঞদের।


