Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে তথাকথিত আইনসভার নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে (Kashmir)। নিষিদ্ধ ঘোষিত জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১৪ জন কর্মী নিহত এবং দুই ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। যদিও পাকিস্তানের প্রশাসন এই মৃত্যুর সংখ্যা অস্বীকার করেছে এবং পাল্টা অভিযোগ করেছে যে, বিক্ষোভকারীরাই প্রথমে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর গুলি চালিয়েছিল। এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। একই সঙ্গে ভারতও এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ (Kashmir)
সোমবার পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের তথাকথিত আইনসভার ১৩টি আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের দিনই হাজার হাজার সমর্থক নিয়ে রাওয়ালাকোট থেকে মুজাফফরাবাদের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ মিছিল শুরু করে নিষিদ্ধ সংগঠন JAAC। সংগঠনের দাবি, শান্তিপূর্ণ এই মিছিলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। এতে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হন। নিহতদের মধ্যে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য উমর নজিরের ভাই উসমান নজির-ও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। JAAC-এর নেতা আবিদ শাহিন জানান, নিহতদের মরদেহ ড্রেক এলাকায় তাদের অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পে রাখা হয়েছে, যেখানে গত দেড় মাস ধরে অবস্থান-বিক্ষোভ চলছে।
অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা (Kashmir)
অন্যদিকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের পুলিশ প্রধান লিয়াকত আলি মালিক JAAC-এর অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছেন। তাঁর দাবি, বিক্ষোভকারীদের কাছে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ছিল এবং তারা পাহাড়ের উপর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ফলে এক রেঞ্জার্স জওয়ান নিহত হন এবং আরও দুই রেঞ্জার্স সদস্য আহত হন। এছাড়াও দুই পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, JAAC যে ১৪ জন নিহত হওয়ার দাবি করছে, তা এখনও সরকারি ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কারণ কোনও মরদেহ সরকারি হাসপাতালে আনা হয়নি বা ময়নাতদন্ত করা হয়নি।
১২টি সংরক্ষিত আসন নিয়েই মূল বিতর্ক (Kashmir)
গত জুন মাস থেকেই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে JAAC। সংগঠনের অভিযোগ, তথাকথিত আইনসভার ১২টি সংরক্ষিত আসনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের প্রশাসন নিজেদের পছন্দের সরকার গঠনের পথ তৈরি করে। এই সংরক্ষিত আসনগুলি বাতিলের দাবিতেই দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। ৯ জুন থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে সোমবারের সংঘর্ষের আগেই প্রায় ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩৪ জন বিক্ষোভকারী এবং ছয়জন পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া (Kashmir)
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভারত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ভারত কোনওভাবেই বৈধ বলে মনে করে না। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখের সমগ্র অঞ্চল, যার মধ্যে পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা এলাকাও রয়েছে, ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ।” তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে যে গণবিক্ষোভ চলছে, তা পাকিস্তানের অর্থনৈতিক শোষণ, মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ এবং প্রশাসনিক নিপীড়নেরই সরাসরি ফল।
আলোচনা ভেস্তে, নিষিদ্ধ JAAC (Kashmir)
নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি শান্ত করতে পাকিস্তান প্রশাসন JAAC-এর সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করেছিল। কিন্তু কোনও সমাধান সূত্র বের হয়নি। এরপর গত মাসেই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে নিষেধাজ্ঞার পরেও আন্দোলন থামেনি। বরং ভোটের দিন তা আরও সহিংস রূপ নেয়।
সংবাদমাধ্যমের উপরও কড়াকড়ি (Kashmir)
সংঘর্ষের পর পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পাকিস্তানের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে JAAC-এর আন্দোলনের খবর প্রকাশের উপরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরও পড়ুন: Cockroach janata party: সোনম অনশন ভাঙলেন, তবুও মোদির কড়া বার্তার পরও প্রতিবাদে অনড় পড়ুয়ারা
প্রথম দফার ফলাফলেও বিতর্ক
প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গিয়েছে, প্রথম দফার ভোটে পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) বা PML-N ৯টি আসনে জয় পেয়েছে এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (PPP) চারটি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, কারাবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI) এই নির্বাচন বয়কট করেছে। এদিকে ভোটে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগও উঠেছে। ভোটের দিন পৃথক একটি সংঘর্ষে এক PPP কর্মী নিহত এবং আরও দু’জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।



