Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিল্লিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব এবার পশ্চিমবঙ্গেও পড়তে শুরু করেছে (Kolkata CJP Protest)। সেই আবহেই নিজেদের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) বলে পরিচয় দেওয়া একটি সংগঠন শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে। তবে এই কর্মসূচির জন্য কলকাতা পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত সেই অনুমতি মেলেনি। ফলে নির্ধারিত কর্মসূচি আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জল্পনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনওরকম ঝুঁকি নেওয়া হবে না। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ইমেলের মাধ্যমে অনুমতি চেয়েছিল সংগঠন (Kolkata CJP Protest)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবদীপ গঙ্গোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি নিজেকে ককরোচ জনতা পার্টির সদস্য পরিচয় দিয়ে কলকাতা পুলিশের কাছে ইমেলের মাধ্যমে মিছিলের অনুমতি চেয়েছিলেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত একটি শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পুলিশের তরফে সেই আবেদন এখনও অনুমোদন করা হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবেদনটি খতিয়ে দেখা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে অনুমতি দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেই জানা যাচ্ছে।
কেন অনুমতি দিল না পুলিশ? (Kolkata CJP Protest)
কলকাতা পুলিশের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্দোলন ও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে কোনওভাবেই অবনতির দিকে না যায়, সেই বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দিল্লির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হচ্ছে (Kolkata CJP Protest)। এমন পরিস্থিতিতে কলকাতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকা শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বড় মিছিলের অনুমতি দিলে যান চলাচল, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর প্রভাব পড়তে পারে বলে প্রশাসনের আশঙ্কা। এই কারণেই আপাতত অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশাসনের কড়া অবস্থান
কলকাতা পুলিশ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও তা অবশ্যই আইন মেনে এবং প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে করতে হবে। কোনও সংগঠন যদি অনুমতি ছাড়া মিছিল, জমায়েত বা বিক্ষোভের চেষ্টা করে এবং তাতে জনজীবন ব্যাহত হয় বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে, তাহলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রশাসনের বক্তব্য, শহরের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। সেই কারণে গোটা পরিস্থিতির উপর নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
নজরদারি বাড়ানো হয়েছে (Kolkata CJP Protest)
পুলিশ সূত্রে খবর, শিয়ালদহ, মৌলালি, এন্টালি, ধর্মতলা-সহ শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিশেষ পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গোয়েন্দা বিভাগও পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখছে বলে জানা গেছে।
প্রশাসনিক আলোচনা
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে সংগঠনের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে চায়। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার স্বার্থেই প্রতিটি কর্মসূচি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই হতে হবে। আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কোনও গণসমাবেশ বা মিছিলের ক্ষেত্রে প্রশাসনের অনুমতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হয়।
আরও পড়ুন: Cockroach janata party: সোনম অনশন ভাঙলেন, তবুও মোদির কড়া বার্তার পরও প্রতিবাদে অনড় পড়ুয়ারা
এখন নজর পুলিশের পরবর্তী সিদ্ধান্তে
বর্তমানে ককরোচ জনতা পার্টির প্রস্তাবিত শিয়ালদহ-ধর্মতলা মিছিলের অনুমতি মেলেনি (Kolkata CJP Protest। সংগঠনটি পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয় এবং কলকাতা পুলিশ ভবিষ্যতে এই আবেদন নিয়ে নতুন কোনও সিদ্ধান্ত জানায় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।



