Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গে বাল্যবিবাহ রুখতে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিতে চলেছে রাজ্য সরকার (Suvendu Adhikari) । শুধু বিয়ের আসরে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করাই নয়, এবার সম্ভাব্য বাল্যবিবাহের খবর পেতে বাড়ি বাড়ি অভিযান চালানোর কথা জানানো হয়েছে। প্রশাসনের নজরে থাকবে নাবালিকা মেয়েদের বিয়ে হয়েছে কি না, কোথাও বিয়ের প্রস্তুতি চলছে কি না এবং ইতিমধ্যে বিয়ে হয়ে থাকলে মেয়েটির বয়স কত ছিল।
শাস্তির মুখে পুরোহিত-কাজিরাও (Suvendu Adhikari)
বাল্যবিবাহে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপের বার্তা দেওয়া হয়েছে। বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করানোর ক্ষেত্রে পুরোহিত, কাজি কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও মামলা হতে পারে, এমনকি জেলের মুখেও পড়তে হতে পারে। অর্থাৎ, ‘মেয়েটির বয়স কম জানতাম না’—এই যুক্তি দেখিয়ে দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না বলেই স্পষ্ট বার্তা প্রশাসনের।
বর এবং দুই পরিবারও নজরের বাইরে নয় (Suvendu Adhikari)
শুধু বিয়ের আয়োজনকারীরাই নয়, নাবালিকাকে বিয়ে করা পুরুষ এবং দুই পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাল্যবিবাহে প্রত্যক্ষ ভূমিকা থাকলে ভারতীয় আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হতে পারে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

স্বাস্থ্যদপ্তরের শোকজ, দিতে হবে বয়সের প্রমাণ
ইতিমধ্যে যেসব ক্ষেত্রে নাবালিকা বধূর সন্ধান মিলেছে, সেখানেও প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পরিবার এবং স্বামীদের কাছে শোকজ নোটিস পাঠানো হবে। স্ত্রী যে বিয়ের সময় বা বর্তমানে ১৮ বছর পূর্ণ করেছেন, তার প্রমাণ দিতে হতে পারে। স্কুলের শংসাপত্র, জন্মের শংসাপত্র বা আধারের মতো নথির মাধ্যমে বয়স যাচাই করা হবে।
হাসপাতালে প্রসব হলেও উঠবে প্রশ্ন (Suvendu Adhikari)
বাল্যবিবাহের পর নাবালিকা গর্ভবতী হলে বিষয়টি আরও গুরুতর আইনি পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। হাসপাতালে নাবালিকা স্ত্রীর প্রসব হলে সংশ্লিষ্ট ঘটনা খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে হাসপাতালের চিকিৎসক বা আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত হতে পারে। কারণ, নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে POCSO আইনের কঠোর বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।
POCSO-তে কঠোর শাস্তির আশঙ্কা (Suvendu Adhikari)
১৮ বছরের কম বয়সি মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগ উঠলে POCSO আইনে মামলা হতে পারে। অভিযোগের পরিস্থিতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। বয়স আরও কম হলে শাস্তি আরও কঠোর হতে পারে। নাবালিকার গর্ভধারণের ঘটনাতেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিদ্যাসাগরের বাংলায় ফের কেন বাল্যবিবাহ? (Suvendu Adhikari)
একসময় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাল্যবিবাহ ও নারীর অধিকার নিয়ে সামাজিক সংস্কারের আন্দোলন করেছিলেন। স্বাধীনতার পরেও বাল্যবিবাহ রুখতে একাধিক আইন তৈরি হয়েছে। আইন অনুযায়ী মেয়েদের ন্যূনতম বিবাহযোগ্য বয়স ১৮ এবং ছেলেদের ২১ বছর। অথচ সামাজিক দারিদ্র্য, অশিক্ষা, নিরাপত্তাহীনতা ও সচেতনতার অভাবের মতো কারণে এখনও বিভিন্ন এলাকায় এই প্রথা টিকে রয়েছে। ফলে শুধু আইন নয়, সামাজিক সচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: Annapurna Yojana Helpline: অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে অভিযোগ? চালু হেল্পলাইন নম্বর
ভাতা বন্ধের বার্তায় কি বাড়বে প্রশাসনিক চাপ?
বাল্যবিবাহের সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলির সরকারি সুবিধা বা ভাতা বন্ধ করার কথাও সামনে এসেছে। ফলে প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট—বাল্যবিবাহ করলে শুধু আইনি শাস্তিই নয়, সরকারি সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও কঠোর পদক্ষেপ হতে পারে। তবে এই অভিযানের সাফল্য নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে নজরদারি, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, মেয়েদের শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ এবং পরিবারগুলিকে সামাজিক-অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার উপর। বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে তাই আইন ও শাস্তির পাশাপাশি সচেতনতার লড়াইটিও সমান জরুরি।



