Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সব্যসাচী ভট্টাচার্য: ফের ফরাসি বিপ্লবের নায়ক হয়ে উঠলেন (Kylian Mbappé) এমবাপে। টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের শেষ চারে উত্তীর্ন ফ্রান্স।
উজ্জ্বল এক তারার নাম এমবাপে (Kylian Mbappé)
এই বিশ্বকাপের মঞ্চে অপ্রতিরোধ্য কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappé)। নেটিজেনদের মতে ‘কিলার’ এমবাপে। মাঠের মধ্যে যেন তিনি এক অতিমানব। বিপক্ষের রক্ষণ এবং পরিকল্পনা এক তুড়িতে ভেঙে জয়ের বীরগাঁথা লিখে রাখার কারিগর তিনি। ম্যাচ শেষে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গেলেন গ্যালারির দিকে, শূন্যে দুহাত ছুঁড়ে উদযাপন করলেন জয়। তখন সেই এমবাপে যেন এক শিশু, দেখে বোঝার উপায় নেই তাঁর দাপটেই ম্যাচ হেরে বিদায় নিয়েছে মরক্কো।
বিশ্বাস করা কঠিন! (Kylian Mbappé)
তাঁর শিশুসুলভ আচরণ দেখে বিশ্বাস করা কঠিন মাত্র কয়েক (Kylian Mbappé) মিনিট আগেই বিশ্বকাপের ২০তম গোল করে ফেলেছেন তিনি। গোল্ডেন বুটের দৌড়েও ছুঁয়ে ফেলেছেন আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসিকে। বিশ্বকাপের প্রথম পাঁচ ম্যাচ জয়ের উচ্ছ্বাসকে ছাপিয়ে যান ফরাসি অধিনায়ক। এই ম্যাচেও দেখা গেল পেনাল্টি মিসের পর অনবদ্য গোল করতে, এটাও যেন এই বিশ্বকাপের এক ধ্রুবক। বিশ্বকাপে টিকে রইলেন দিদিয়ের দেশঁও। বিশ্বমঞ্চে অনবদ্য রেকর্ডের ফরাসি কোচের। ২৫ ম্যাচের মধ্যে ২০টি জয়।
কুপোকাত মরক্কো (Kylian Mbappé)
ম্যাচে ৬ মিনিটের ঝড় আর তাতেই কুপোকাত (Kylian Mbappé) মরক্কো। বস্টনে ফিরল ফরাসি বিপ্লব আর তার নায়ক কিলিয়ান এমবাপে। অ্যাটলাস লায়ন্সদের ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ চারে ফ্রান্স। টানা তৃতীয়বার সেমিফাইনালে। শেষ চারে স্পেন এবং বেলজিয়াম ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। চলতি বিশ্বকাপে অষ্টম গোল করে আবার লিও মেসিকে ছুঁলেন কিলিয়ান এমবাপে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের গোল সংখ্যা ২১। মাত্র এক গোলে পিছিয়ে ফরাসি তারকা। ২০ ম্যাচে ২০ গোল। তারমধ্যে ১২ গোল নকআউটে।
সামগ্রিকভাবে মেসির থেকে পিছিয়ে থাকলেও রেকর্ড তাঁর। বিশ্বের প্রথম প্লেয়ার হিসেবে ৩০ বছর বয়সের আগে বিশ্বকাপে ২০ গোল করার রেকর্ড এখন এমবাপের দখলে।
এই ম্যাচে দলে দুটি পরিবর্তন করেন দেশঁ। বাঁ দিকে ব্র্যাডলি বারকোলার জায়গায় শুরু করেন ডিসায়ার ডুয়ে। আরেকটি ফোর্সড চেঞ্জ। চোট পাওয়া চুয়ামানির পরিবর্তে প্রথম একাদশে সুযোগ পান কোনে। প্রথমার্ধ ছিল একপেশে। আক্রমণের পর আক্রমণ করে ফ্রান্স। কিন্তু গোলের নিচে অনবদ্য মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসির বনু। তিনটে নিশ্চিত গোল বাঁচান।
আগের ম্যাচের মেসির সঙ্গে যেন তাঁর ভাগ্য একই সুতোয় বাঁধা মনে হচ্ছিল। পেনাল্টি মিস, তারপর গোলের সুযোগ নষ্ট। সেই সময় মনে হতে থাকে ভাগ্যদেবতা দিনটা বোধহয় তাঁর নামে লেখেননি। কিন্তু তিনি প্রমাণ করলেন এই মঞ্চে তিনি কর্ণ নন বরং অর্জুন। নিজের সঙ্গে লড়াই করেই ম্যাচের জয় ছিনিয়ে আনলেন তিনি। কর্ণের যেমন লড়াই ছিল শুধু অর্জুনের সঙ্গে তেমন অর্জুনের লড়াই ছিল নিজের সঙ্গে আর সেই লড়াই জিতেই তিনি কুরুক্ষেত্রের নায়ক। এই ম্যাচেও তাই হল। নিজের সঙ্গে নিজের লড়াইয়ে জয়ের হাসি হাসলেন এমবাপে।
এই ম্যাচে লক্ষ্যণীয় ফ্রান্স বারবার লো ব্লক ভাঙতে সক্ষম হয়েছে। এই লো ব্লক এক রক্ষণ কৌশল যা বিপক্ষকে আটকানোর জন্য রচনা করা হয়। মরক্কো রক্ষণভাগে ৫ জন এবং মাঝমাঠে ৪ জনের লাইন তৈরি করে নিজেদের বক্সে জায়গা একেবারেই সংকুচিত করে ফেলেছিল আর সেই কারণে প্রথম দিকে বেগ পেতে হয়েছে ফ্রান্সকে। কিন্তু খেলার চিত্র পাল্টে যায় দ্বিতীয় হাফে। ফ্রান্স উইং দিয়ে ওভারলোড তৈরি করে ও পাসিংয়ের মাধ্যমে মরক্কোর ডিফেন্স লাইন ভেদ করতে সক্ষম আর তাতেই বাজিমাত করেন এমবাপেরা।
আরও পড়ুন: FIFA Best Goalkeepers: মেসি-এমবাপেদের পাশাপাশি এই বিশ্বকাপ তেকাঠি রক্ষকদের
মরক্কোর তিনজন ডিফেন্ডার ঘিরে থাকা সত্ত্বেও বক্সের ঠিক মুখ থেকে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে দুর্দান্ত গোল করলেন কিলিয়ান। ৬০ মিনিটে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে ২-০ লে ব্লুজদের। জয় নিশ্চিত করেন উসমান ডেম্বেলে। বক্সের বাইরে থেকে ডানপায়ের দূরপাল্লার গড়ানো শটে গোল। বিশ্বকাপে পাঁচ গোল। বস্টনের এই স্টেডিয়ামেই কয়েকদিন আগে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। জোড়া গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আর ঝুঁকি নেননি দেশঁ। ৭৭ মিনিটে তুলে নেন এমবাপেকে কারণ দলের মূল অস্ত্র তোলা থাকল পরের ম্যাচের জন্য।


